‘অনির্বাচিত সরকারের বাজেট জনগনের প্রত্যাশা পূরণ করবে না’

mudud-Fakhrul

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ অভিহিত করে ক্ষমতা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছে, এই বাজেট জন-প্রত্যাশা পূরণ করবে না, বরং সাধারণ মানুষ চাপে পড়বে, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়বে।

শুক্রবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়বে, তাদের (সাধারণ মানুষ) প্রকৃত আয় কমে গেছে, বৈষম্য বাড়ছে। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছে মধ্য-নিম্নবিত্তরা। তাদের ওপর করের চাপ আরও বেড়ে যাবে। সামগ্রিকভাবে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। কারণ জনগণের বিরুদ্ধে এই বাজেট দেয়া হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রধান সমস্যগুলো উঠে আসেনি। মানুষের অন্ন-বস্ত্রের সমস্যা সমাধানের কোনো পদক্ষেপ এই বাজেটে নেই।

সংক্ষিপ্তভাবে বাজেটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনি বাজেটের চিত্র দেখেন, তুলনামূলকভাবে বরাদ্ধ কমে যাচ্ছে। কল্যাণ রাষ্ট্রের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকার বাজেট প্রণয়নে নীতিগর্হিতভাবে অরাজকতার আশ্রয় নিয়েছে। তারা দেশকে ঋণনির্ভর বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছে।’

তিনি বলেন, নির্বাচনের মত জনগন এই বাজেটকেও প্রত্যাখ্যান করবে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দকৃত ব্যয়ের গুণগতমান, মেগা প্রকল্পের ব্যয় ‘অস্বাভাবিক’ বৃদ্ধি, জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয়ে নিয়ে বাজেটে যেসব বক্তব্য দেয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ঋণ পরিশোধ করতে গিয়েই সুদে আসলে সরকারকে বাজেটের বিরাট অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে।
সরকারী চাকরিজীবিদের বেতন-পরিশোধে বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হচ্ছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এই অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য রাজস্ব আয়ের ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। যা কোনো অবস্থাতে যুক্তিযুক্ত বলা যাবে না।’

মোবাইল, সিমের অপর কর বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাজেটে একদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে যা কিনা সমাজের সুবিধাভোগী একটা শ্রেণি ব্যবহার করে। অথচ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।। সেই মোবাইল, সিম ও সার্ভিসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বাজেটে।’

ফখরুল আরও বলেন, সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে কিন্তু এর উপর শুল্ক বৃদ্ধি পায়নি। ফলে এর থেকে সরকারের আয় বাড়েনি, বরং সিগারেট কোম্পানিগুলোর ৩১% আয় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল শুরুতেই তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, অনির্বাচিত’ এই সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ফাস্ট বিডিনিউজ২৪/কেএস