আমাদের কথা….

জামিল আহম্মেদ মুকুল ●

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম প্রশাসনিক ইউনিট অর্থাৎ ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় স্থাপন করা হয় যশোরের মুড়লিতে। তার মানে যশোর হচ্ছে প্রথম জেলা। এই জেলার মহেশপুরে প্রথম পৌরসভার যাত্রা শুরু। প্রাচীনত্ব আর আধুনিকতার ছোয়া রয়েছে এ অঞ্চলে। শিক্ষা- সংস্কৃতির অন্যতম লীলাভুমি এ অঞ্চল। এ অঞ্চলের ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের অমৃত বাজার, বর্তমান ভারতের   বিখ্যাত দৈনিক পত্রিকা অমৃত বাজার’ পত্রিকার যাত্রা শুরু এখান থেকেই। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিশ্বসাহিত্যের সাথে বাংলা সাহিত্যের যে সেতুবন্ধন রচনা করে দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রশিল্পি এস এম সুলতান সময়ের ডাকে স্রোতের বিপরীতে নিজের পল্লী মাটিতে ফিরে এসেছিলেন। গড়ে তুলেছিলেন শিশু স্বর্গ। যশোরবাসী বাংলাদেশের প্রথম চারুকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কলেজ পর্যায়ে) সুলতান স্যারের নামে প্রতষ্ঠা করে। কবিয়াল বিজয় সরকার, স্বভাব কবি বিপিন সরকার এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ মাঠে ময়দানে হেঁটে বেড়িয়েছেন দীর্ঘদিন। তাদের সংস্পর্শে সমৃদ্ধ হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।
কবি পদ্মনাভ অধিকারী তার সৌরভ ছড়িয়ে চলেছেন এখনো। দেশের নদগুলোর অধিকাংশ এ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত। ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বপ্রধান ৪টি গনগ্রন্থাগারের ১টি এখনো স্বগৌরবে তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। চাওয়া বা পাওয়ার বেদনা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের। দীর্ঘদিনের বঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষ তাদের দাবি আদায়ের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।
দেশের মধ্যে দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের গৌরবময় অবস্থান। শত শত সংবাদকর্মীর পদচারনার মাঝে নতুন একটি সংবাদপত্র প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা কেন অনুভব করলাম তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার দাবি রাখে।  একদম নতুন তাও আবার সম্পূর্ন অনলাইন দৈনিক। চিন্তাধারার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ বটে। আমরা যারা লেটার প্রিন্ট  পত্রিকা দেখেছি, দেখেছি অফসেট প্রিন্ট পত্রিকা তারা আবার অনলাইন পত্রিকা দেখছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে সংবাদে ঠাঁসা পত্রিকাটি যখন চিরচেনা হকার হাতে তুলে দিয়ে যায় তখন দেশ, বিশ্ব অথবা আশে-পাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা পড়তে পাঠকের মন আনচান করে ওঠে। পাঠকের হাতে  পৌছানোর আগ পর্যন্ত এর দায়বদ্ধতা থাকে পাত্রিকা কতৃপক্ষের। কিন্তু অনলাইন সংবাদপত্রে এর রকমফের ভিন্ন। পত্রিকা কতৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রেরিত সংবাদ যখনকার তখন আপডেট করে। এখানে পাঠকের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে বহুগুন । এ জগতে ব্যাক্তি-মানুষ হকার নেই, শুধু আছে ইন্টারনেট সংযোগ। তাই পাঠককে নিজের গরজে ইন্টারনেট ব্রাউজ করে ইচ্ছামত সংবাদ খুজে নিতে হবে। এমতাবস্থায় সম্পূর্ন অনলাইন দৈনিক পত্রিকা একটি সাহসী পদক্ষেপই বটে। ২০১৫ সালে আমরা একঝাক তরুন  এরকম একটি সাহসী পদক্ষেপের চিন্তা করেছিলাম। দেশে যখন শত শত দৈনিক সাপ্তাহিক আর তাদের রয়েছে অনলাইন সংস্করন তখন আর একটি পত্রিকা দুঃসাহস ছাড়া আর কি! আমাদের সেই পদক্ষেপে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন বড় ভাই সূজা আহম্মেদ খান কচি। বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন দৈনিক সমাজের কাগজের সম্পাদক বন্ধুবর সোহরাব হোসেন। অনুপ্রেরণা পেয়েছি প্রেসক্লাব যশোরের সাধারন সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি নূর ইসলাম, কবি গোলাম মোস্তফা মুন্না প্রমুখের। ৮মার্চ ২০১৫ যাত্রা শুরু হলো ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪.কম এর। আমরা একটু একটু করে এগোচ্ছি, লক্ষ অনিশ্চিত। সমিাজ রাষ্ট্র মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এ উপলব্ধি। আমরা ঠিক করেছি শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকবো। পাশে থাকবো বঞ্চিত মানুষের বঞ্চিত জনপদের। যেকোন ন্যায্য আন্দোলনে পাশে থাকার অঙ্গিকার রইল আমাদের। আমরা আঞ্চলিক সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নে বিশ্বাসী। আমরা পাশে দাড়াতে চাই দেশের প্রতিটি বঞ্চিত জনপদের, তাদের মুখপাত্র হয়ে বলতে চাই তাদের চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখের কথা। থাকতে চাই সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে মেহেনতি মানুষের পাশে। গনতন্ত্র, সততা, সার্বজনীন শিক্ষা, নারীস ক্ষমতায়ন, সার্বজনীন মানবাধিকার, পরিবেশ বিপর্যয় রোধ আমাদের অঙ্গিকার। আমাদের অঙ্গিকার অশিক্ষা-কুশিক্ষা, দুর্নীতি, চোরাচালান, মাদক এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে আমরা সমাজকে মুক্ত রাখতে চাই। হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নকারী সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে দেম স্বাধীনতা ‍অজৃন করেছে, তার নির্দেমিত পথে তার স্বপ্ন “অর্থনৈতিক মুক্তি” অর্জনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এ পথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযাত্রী হতে বদ্ধ পরিকর।
আমাদের পথচলার বিচারক পর্যবেক্ষক আমাদের পাঠক মহল। তারাই দেখবেন আমাদের চলার পথে কোনও বিচ্যুতি ঘটছে কিনা। পাঠকের সকল প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য হবে নির্দেশনা/অনুপ্রেরনা। পাঠকের সক্রিয় অংশগ্রহন আমাদের পত্রিকাকে সমৃদ্ধ করবে। করবে অনুপ্রানিতও।
নির্বাহী সম্পাদক ওয়ালীউল্লাহ’র নেতৃত্বে  আমীমুল ইহসান ফাহাদ, খালেদ সাইফুল্লাহ, ফয়জুল, বায়েজিদ, তানভীর, ইয়ামিন, মাহমুদ, সোহাগ সহ যারা দিনরাত পরিশ্রম করেছে তাদের প্রতি আমার শুভেচ্ছা ও ভালবাসা। আমরা সবসময় কৃতজ্ঞ সেইসব পাঠকের প্রতি যারা সংবাদ পাঠ করেন ও ফোনে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। সম্মানিত পাঠকদের এই সকল প্রতিক্রিয়া আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে প্রতিটি মুহূর্ত। সত্য সন্ধানে সবসময় আপনাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার রইল আমাদের।

লেখক ● সম্পাদক, ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ।