আল কুদস বা ইন্তিফাদা কাদের জন্য ?

জামিল আহম্মেদ মুকুল

ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

জামিল আহম্মেদ মুকুলজামিল আহম্মেদ মুকুল ● ১৯১৭সাল। বৃটিশ বাহানীর বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে তুর্কী অ্টোম্যান সাম্রাজ্যর( মুসলিম খেলাফত) সৈনিকেরা। খলিফা শাসিত অঞ্চল একের পর এক হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে খলিফার হাত থেকে, বিধর্মী খৃষ্টান সেনাদের দখলে চলে যাচ্ছে সবকাছু। চারিদাকে স্বার্থদ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস আর আরবের বিভিন্ন গোত্রের বিদ্রোহের ফলে মুসলিম বাহিনীতে নতুন সৈন্য আসা বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়, প্রশিক্ষিত সৈনিকের অভাবে মুসলিম বাহিনী সু-শৃঙ্খল বৃটিশ সৈনিকদের কাছে পর্যদুস্ত হচ্ছে। ইহুদিদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের নির্দেশে সকল প্রকাশ্য ও গোপন সংগঠন গুলো বৃটিশ সৈনিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে।
০২ নভেস্বর ১৯১৭ মুসলিম বাহিনীর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি জেরুযালেমের পতন ঘটে মুসলিমদের। বৃটিশ সৈন্যদের প্রধান এলেন বাই ক্রসেড বিজয়ী মহাবীর সালাউদ্দীন আইয়ুবীর কবরের উপর দাঁড়িয়ে স্বদম্ভে বলে উঠলেন O Saladin we have come again , ঠিক একই দিনে ইতিহাসের খলনায়ক তৎকালীন বৃটিশ পররাষ্ট মন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর লন্ডনে ঘোষণা করলেন যে, ” প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে “।
ঘটনা দু টি কি কাকতালীয় না ঘটমান পরিস্হিতির বাস্তব রুপ ? ঘটনা গুলো কোনো মতেই কাকতালীয় ছিল না। স্বাধীন ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রস্তাব আসে ১৮৩৫ সালে, সেই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয় ১৮৯৭ সালের আগস্ট মাসে সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে ইহুদীদের প্রথম আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে।
তুর্কী খেলাফতের অভ্যন্তরে ঘুন পোকা বাসা বেঁধেছিল অনেক আগেই। মুসলিমদের দেশ বিজয়ের যে শিক্ষা মহানবী হযরত মুহান্মদ (সঃ) তাঁর উন্মতকে দিয়েছিলেন তা তুর্কী সুলতানদের মধ্যে ছিটে ফোটাও অবশিষ্ট ও ছিল না। দুনিয়াবি বিষয় এবং আরাম আয়েশে মত্ত হয়ে পড়েছিল বহু আগেই। মুসলমানেরা ছিল বহুধারায় বিভক্ত। সুন্নি -রাফেজি(শিয়া) বিভক্তি ছিল প্রকট। সুন্নিদের মধ্যে বিভক্তি এমন চরমে পৌছেছিল যে স্বয়ং খলিফার পৃষ্ঠপোষকতায় তা প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পেয়ে বসলো। পবিত্র মক্কা শরীফে সুন্নিদের প্রধান চার মাযহাবের ভিক্তিতে একসাথে চার ঈমামের পেছনে সালাত আদায় করার ব্যবস্হা খলিফা স্বয়ং করেছিলেন। তুর্কীরা কাবা গৃহে চার মাযহাবের জন্য পৃথক চারটি মুছান্না ( ঈমামের দাঁড়াবার স্হান) তৈরী করে। ৮০১ হিজরী থেকে এই ব্যবস্হা ১৩৪৩ হিজরী অর্থাৎ ৫শ ৪২ বছর এই প্রথা চালু ছিল। বর্তমান সৌদী আরবের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ আল সৌদ ১৩৪৩ হিজরীতে ওই ৪ মুছান্না ভেঙ্গে এক ঈমামের পেছনে সালাত আদায়ের ইসলামী চিরচারিত রীতি পুনঃ প্রতিষ্ঠা করেন।
মুসলমানদের অনৈক ইহুদী-খৃস্টানদের বারবার শক্তিশালী করেছে। একাবিংশ শতাব্দীতেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বৃটেন-আমেরিকা-রাশিয়া ইহুদীদের অধিকার দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তা নিজ দেশ বা ইউরোপে নয়। অবশ্য ইহুদীদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ গঠনের প্রস্তাবকে এরা কেউ উপেক্ষা করতে পারেনি কয়েকটি কারণে। প্রথমতঃ ইহুদী ধনকুবেরদেরকে চটানোর পরিণতি কি হবে তা বৃটেন-আমেরিকা ভালভাবেই জানতো। কারণ, তৎকালীন দুনিয়ার ( বর্তমানেও) প্রায় সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানির মালিকানা ছিল ইহুদীদের দখলে। দ্বিতীয়তঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্র বৃটেন থেকে সরে আমেরিকার হাতে চলে যাচ্ছিল, একটি বিশ্বযুদ্ধের ধকল সামলাতে ব্যাস্ত বৃটেনের নিকট তাই নিজ দেশের ধনী ইহুদীদের অসন্তোস কুড়ানোর চাইতে বরঞ্চ খুশি করার পন্থাই ছিল উত্তম। একারণে বৃটেন সানন্দে ইহুদীদের জন্য একটি” স্বাধীন নিবাস”এর পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল বৃটিশ বেনিয়ারা। তৃতীয়তঃ সব সময় ষড়যন্ত্রকারী ইহুদীদের বিষয়ে স্হায়ী একটা সমাধানে আসা বৃটেন-আমেরিকার জন্য জরুরী হয়ে পড়েছিল। চতুর্থতঃ ইহুদীদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ গঠন সম্পর্কে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অথচ জটিল যে
সমাধানে বৃটেন-আমেরিকা আসতে চেয়েছিল যা তাকে একদিকে ইহুদীদেরকে সবসময় নিরাপত্তাহীনতার চাপের মধ্যে রাখবে,যে চাপের কারণে বাধ্য হয়েই যেন ইহুদীরা সব সময় আমেরিকা-বৃটেনের উপর নিরাপত্তার জন্য নির্ভরশীল হয়ে থাকে, আবার অন্যদিকে কূটবুদ্ধির অধীকারি ইহুদীরা যেন ইউরোপের দিকে হাত না বাড়ায় তা নিশ্চিত করা।
সেই ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত অঞ্চলটি ছিল মধ্যপ্রাচ্য। যা ছিল কৌশলগত কারণে সবচেয়ে আদর্শ স্হান। এর ফলে মুসলিম প্রধান এ অঞ্চলের স্হিতিশীলতা সবসময় হুমকির মধ্যে থাকবে উভয় পক্ষ অর্থাৎ আরবের বিভিন্ন দেশ এবং ইসরাইল যেন নিরাপত্তার প্রয়োজনে বিশ্ব মোড়ল বৃটিশ-আমেরিকার কাছে বাঁধা থাকে।
একথা সত্য যে, বৃটেন,আমেরিকা বা রাশিয়া কেউই ইহুদীদের জন্য স্বাধীন বা স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল নিজদেশে বা ইউরোপে কামনা করেনি। একারণেই আমরা দেখি বৃটিশ দখলদারিত্বের অবসান হওয়ার একদিন আগেই অর্থাৎ ১৯৪৮সালের১৪মে বৃটেন থেকে ইসরাইল কে স্বাধীনতা প্রদান করে এবং লক্ণণীয় যে,১দিন পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্টালিন ইসরাইলী রাস্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং তা অবশ্যই সদ্য গঠিত হওয়া রাস্ট্রসমিতির প্রকাশ্য প্রশ্রয়ে।
৪৭সালে রাস্ট্রসমিতির সাথারণ পরিষদে ১৮১ নং প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিকে দ্বিখন্ডিত করে ইসরাইল রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন ও গৃহীত হয়।
১৯৪৮ সালে আরব দেশ সমূহের সাথে ইসরাইলের যুদ্ধ বাঁধে। ১০ দিন চলাএই যুদ্ধে বৃটেন-আমেরিকার অস্ত্র ও গোলাবারুদে পরিপুষ্ট ইসরাইল উত্তর লেবানন সীমান্ত, গোলান মালভূমি, দক্ষিণ আকাবা উপসাগর এবং সিনাই উপত্যকা দখল করে নেয়। ফিলিস্তিনের৭০ভাগ অঞ্চল চলে যায় ইহুদীদের দখলে। ৬৭সালের ৫জুন ইসরাইল আবার আরবরাষ্ট্র গুলোর উপর ভয়াবহ আক্রমন শুরু করে। ৬দিন চলা এই যুদ্ধে ইসরাইলের প্রাধান্য বজায় থাকে। ৭৮সালে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইল কে স্বীকৃতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্হাপনের বিনিময়ে মিশর তার হারানো সিনাই উপতক্যা ফিরে পায়। বিভিন্ন লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থ এবং গবেষণা থেকে ও যুদ্ধের ধরণ দেখে অনুমান করে নিতে কষ্ট হয় না যে, ৪৮ সাল ও ৬৭ সালের যুদ্ধ বৃটিশ -আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সৈনিকেরা গোপনে ইসরাইলের হয়ে যুদ্থে অংশহ্রহন করেছিল।

 

বৃটেন-আমেরিকা শুধু অর্থ-অস্ত্র দিয়েই সহায়তা করেনি গোপনে সৈনিক ও প্রযুক্তি দিয়েও ইসরাইল কে সহায়তা করেছিল। ফিলিস্তিনিরা ৪৭ সাল থেকেই নিজ দেশে উদ্বাস্তু। হাতে গেনা কয়েকটি রাষ্ট্র ( বৃটেন, আমেরিকা, জার্মান, ইটালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি) ছাড়া ফিলিস্তিনিতের আন্দলনের প্রতি সকল রাষ্ট্রের নৈতিক সর্মথন আছে। তারপরও ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত আছে। অব্যাহত আছে বৃটিশ-আমেরিকার অবৈধ্য দখলতারদের প্রতি অন্ধ সমর্থন। রাষ্ট্রসমিতির এই একচোথা নীতি স্পর্ধীত করছে সন্ত্রাসী ওঅবৈধ্য দখলদার ইসরাইল কে। এ লেখা যখন লিখছি তখন দুটো ঘটনা ঘটেছে। এক. সিয়াম সাধনার এই মাসে ফিলিস্তিনে পানি, গ্যাস,বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে কৃত্রিম মানবিক বিপর্যয় তৈরী করেছে ইসরাইল। এরকম বিপর্যয় ইসরাইলেরা এর আগে বহুবার সৃষ্টি করেছে এবং তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী ও গনতন্ত্রের ধজ্বাধারীদের সমর্থনও তারা পেয়েছে। দুই. রাষ্ট্রসমিতির শরনার্থী বিষয়ক সংস্হা ইউএনএইচআরসি(UNHRC) তাদের ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে জানাচ্ছে যে, ( ২১জুন ২০১৬ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত) ২০১৫ সালে বিশ্বব্যপি ৬ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বাস্তচ্যুত মানুষের শীর্ষে রয়েছে ফিলিস্তিন তারপর অবস্হান করছে সিরিয়া। বাস্তচ্যুত মানুষের যে ঢেউ ইউরোপে আছড়ে পড়েছে তার ধাক্কা সামলাকে ইউরোপ এখন ব্যস্ত। সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যটাই এখন ফিলিস্তিন। ৪৭-এ যে ফিলিস্তিনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬-তে এসে তা সম্প্রসারিত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করেছে।
প্রতি বছর রমযানের শেষ শুক্রবার ঘটা করে আল- কুদস দিবস পালন করা হয়। ফিলিস্তিনি জনগনের প্রতি সংহতি প্রকাশ, অবৈধ দখলদার ইসরাইলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ, পবিত্র জেরুযালেম নগরি দখলের প্রতিবাদের ভাষা হলো আল-কুদস দিবস। ১৯৭৯সাল থেকে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। ইসরাইলি সামরিক দখল দারিত্বের প্রতিবাদ ও বিশ্বজনমত গঠনে সকল মুসলিম দেশ সহ অসুসলিম দেশে মুসলমানেরা এই দিবসটি পালন করে। এদিন অবৈধ দখলদার ইসরাইলের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ ও বায়তুল মোকাদ্দাসের পবিত্র ভূমি উদ্ধারে মুসলমানেরা শপথ গ্রহণ করে। পাশাপাশি ১৯৮৭সাল থেকে ফিলিস্তিনিতে শুরু হয়েছে ইন্তিফাদা। ফিলিস্তিনিদের পূর্নজাগরণ কে এক কথায় ইন্তিফাদা বলে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৮৭ সালের ০২অক্টোবর ফিলিস্তিনের সংগ্রামী নেতা শেখ মিসবাহ আল সাউরীকে ইসরাইলি সেনারা গুলি করে হত্যা করলে প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হয়। এই ইন্তিফাদা চলে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরু হয়২০০০সালে শেষ হয় ২০০৫সালে। ফিলিস্তিনির জনগন তৃতীয় ইন্তিফাদার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসময় ফিলিস্তিনের জনগন শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবৈধ্য ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে থাকে। অসহযোগ, স্বেচ্ছা কারাবরন, ধর্মঘট,ইসরাইলি পন্য বর্জন ইত্যাদি কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে ইন্তিফাদা চলে। ইন্তিফাদার উদ্দেশ্য-বিশ্ব জনমতেরর দৃষ্টি আকর্ষন, অবৈধ্য দখলদার ইহুদীদের বিরুদ্ধে অনাস্হা।
প্রশ্ন উঠতে পারে ১৯৪৭ সাল থেকে যে দেশের সমগ্র জনসাধারন বাস্তুচ্যুত, যাতের ঘর-বাড়ী দখলের প্রতিবাদে একটি শিশুও যদি দখলদারদের দিকে পাথর ছুড়ে মারে প্রতিউত্তরে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত সৈনিকদের বুলেটে ঝাঝরা হতে হয়; ইন্তিফাদা সেই মানুষদের প্রয়োজন না ৫৭টি মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্বের ১৬০ কোটি মুসলমানের ?

ফিলিস্তিন থেকে যদি মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্ব শিক্ষা গ্রহণ করতো তাহলে আরব বসন্তের নামে সমগ্র মধ্যপোাচ্য তছনছ করে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড পশ্চিমা ষড়যন্ত্রকারীরা ভেঙ্গে আবার মধ্যপ্রাচ্য দখল করতে পারতো না। ২০১০সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার এক মফস্বল শহরের বেকার যুবক মুহান্মদ বুয়াজিদির আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে যে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে তার রেশ ধরে প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদীন বেন আলী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে একে একে আলজেরিয়া, মিশর,জর্ডান, ইয়েমেনে। সুদান, ইরাক জর্ডানের রাষ্ট্রপ্রধানরা শীগ্রই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিক্ষোভ সামলানোর চেষ্টা করেন। লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, সৌদি আরবএবংপশ্চিম সাহারায় বড় ধরনের বিক্ষোভ না হলেও বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ হয়েছিল। আরব বসন্তের সকল উস্কানি,মদদ,প্রচার-প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে ফেসবুক,টুইটার,ইন্টারনেট ভিক্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পশ্চিমা শিক্ষিত তরুণ সমাজ এর নেতৃত্ব দেয়। লক্ষনীয় যে, আরব বসন্তের খুটিনাটি খবর দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে পৃথিবীর প্রতিটি কর্ণারে ছড়িয়ে দেয় বিশ্ব মিডিয়া। অথচ এই পশ্চিমা শিক্ষিত তরুণ সমাজ বা বিশ্ব মিডিয়া ঠিক ততটাই নীরব ফিলিস্তিনের বিষয়ে। আরব বসন্ত বা সৌদিদের নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া অথবা শিক্ষিতজনেরা যতটা মাতামাতি করেন তার কিঞ্চিত পরিমানও ফিলিস্তিনের জন্য হয় না। তাহলে ইন্তিফাদা কাদের জন্য? যারা জন্ম থেকেই শরনার্থী, শত্রু প্রতিরোধে আদিম যুগের মানুষের মতো পাথরের অস্ত্র ছাড়া যাদের কোনো সম্বল নেই তাদের জন্য না অবরুদ্ধ অঞ্চলের বাইরে থেকে যারা বছরে একদিন ( রমযানের শেষ শুক্রবার) ঘটা করে আল -কুদস দিবসে মিছিল করার চেয়ে অনেক বেশি করার ছিল তাদের প্রয়োজন ? ৪৭বা ৬৫ সালের ঘটনা থেকে মুসলিম বিশ্ব কি কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেছে? ঘটনা বিশ্লেষণে বোঝা যায় মুসলিম বিশ্ব কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। শিক্ষা গ্রহণ করলে ১৬০কোটি মুসলমান বারবার ২/৩কেটি ইহুদীদের কাছে নাকানি চুবানি খেত না। সমগ্র মুসলিম বিশ্বেন এই পরাজয়ের জন্য দায়ি কারা ? যে মুসলমানদের ধর্ম গ্রন্থ আল কোরআনের অবতীর্ণ প্রথম আয়াত ( বাণী) হচ্ছে “পড় ” সেই মুসলমানদের অর্ধেকই নিরক্ষর।
ইহুদী-খৃস্টানদের ছেলেমেয়েরা যেখানে প্রাইমারিগামী ৯৮%সেখানে মুসলিম৫০%। প্রায়মারি থেকে ইউনিভার্সিটিতে যায় যেখানে ৪০% সেখানে মুসলিম শিক্ষার্থী যায় ০২%। যুক্তরাষ্ট্রর মিলিয়ন৫০০০ জন বিজ্ঞানী পক্ষান্তরে মুসলিম দেশে বিজ্ঞানী ২৩০জন।যুক্তরাষ্ট্রে মিলিয়নে১০০০জন টেকনিশিয়ান সেখানে মুসলিম বিশ্বে মাত্র ৫০জন। যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র খৃষ্টান-ইহুদী দুনিয়া তাদের গবেষনা খাতে মোট জিডিপির ৫%ব্যয় করে সেখানে মুসলিম বিশ্বে এই ব্যয় ০’২%। সমগ্র বিশ্বের মিডিয়ায় একচেটিয়া রাজত্ব ইহুদীদের। মিডিয়া মুঘল বলে খ্যাত রুপর্ট মর্ডাকের সাম্রাজ্যে রয়েছে ১২৭টি পত্রিকা সহ টিভি চ্যানেল ফক্স এন্টারটেইনমেন্ট ও ষ্টার গ্রুপের
সকল চ্যানেল। রুপর্ট মার্ডক তার এই প্রচার সাম্রাজ্য দিয়েই ইরাকে পরামাণু বোমার অপপ্রচার চালিয়েছিল বিশ্ব জনমত গঠনে। মুসলিম বিশ্বে একটিও আন্তর্জাতিক মানের কোনো নিউজ এজেন্সি নেই। এর ফল স্বরুপ দেখা গেছে বিগত ১০৫ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নোবেল পেয়েছে ১৮০জন ইহুদী, একই সময়ে মুসলিম মাত্র ০৩ জন। বিশ্বের প্রতি ৫ জনে একজন মুসলমানের বিপরীতে ৫৩৫ জনে একজন ইহুদী। অথচ জ্ঞানে-বিজ্ঞানে তারাই সেরা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসরতা ইসরাইলকে আরব বিশ্বে যেমন শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছে তেমনি কূটনৈতিক দক্ষতা, ছলচাতুরি দিয়ে রাষ্ট্রসমিতি সহ বিভিন্ন অর্থ লগ্নী প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানির নীতি নির্ধারকের আসনে তারাই বসে আছে।
৫৭টি মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি আছে ৫০০০টি আর এক যুক্তরাষ্ট্রেই ইউনিভার্সিটির সংখ্যা ৫৭৫৮টি। আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে ইউনিভার্সিটি আছে ৮৪০৭টি। বিশ্বের অতি উচ্চ ইউনিভার্সিটির মাত্র ০১টি আছে মুসলিম বিশ্বে। খৃষ্টান দুনিয়ায় শিক্ষার হার ৯০%, সেখানে মুসলিম বিশ্বে ৪০%। খৃষ্টান দুনিয়ার জ্ঞান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে আছে ইহুদীরা না হয় নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে
এই যখন অবস্হা তখন আল – কুদস দিবসে আমাদের কে গভীর ভাবে ভাবতে হবে শিয়া-সুন্নি, বিভিন্ন মাযহাব, দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে নিজেদেন মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে আছি কাদের স্বার্থে ?
আমাদের কে আমাদের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে লিপ্ত রেখে নেপথ্যে থেকে স্বার্থ হাসিল করছে কারা ? আমরা আর কতো কাল অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকবো। সারা বছর ঘুমিয়ে থেকে মাত্র ০১ দিনে ঘটা করে আল – কুদস দিবস পালন করে নিজ দায়িত্ব সম্পন্ন হয়েছে বলে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলবো।
ইন্তিফাদা কাদের জন্য ? যারা জেগে আছে সেই ফিলিস্তিনিদের না আমরা যারা ঘুমিয়ে আছি সেই ১৬০ কোটি মুসলিম বিশ্বের। যাদের সম্ভবনা অনেক ছিল, করার মত অনেক কাজ ছিল কিন্তু নিজেদের বারংবার ভুলের জন্য কিছুই করতে পারছেনা। সেই বিষয়ে ভাববার সময় আজ এসেছে।

লেখকঃ সম্পাদক,
ফাস্ট বিডি নিউজ ২৪ ডট কম || fastbdnews24.com
jamilmukul365@gmail.com