• আজ শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ; ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
  • ইশতেহারে কৃষিতে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ক আইএলও অন্তর্ভুক্ত করার আহবান

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● 

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে কৃষিতে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৮৪ ও সুপারিশালা ১৯২ অনুসমর্থন ও প্রয়োগের অঙ্গিকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান করেছে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতি।

    গত ২৪ নভেম্বর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্যের জন্য কৃষিতে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৮৪ ও সুপারিশালা ১৯২ অনুসমর্থন ও প্রয়োগ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা থেকে উপরোক্ত দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদের সভাপতিত্তে¡ উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হাজেরা সুলতানা এমপি, প্রধান আলোচক ছিলেন ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস।

    আলোচনা সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির সভাপতি নাসরিন সুলতানা। তিনি বলেন বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষি শ্রমিকদের জন্য কৃষিতে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৮৪ ও সুপারিশমালা ১৯২ অনুসমর্থন ও প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের কৃষিকে কৃষি শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে তিনটি বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে: কৃষিতে কাজ করতে গিয়ে কৃষি শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে আঘাত পাওয়া বা আহত হওয়া প্রতিরোধ করা; মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করা, কারণ কীটনাশক কৃষি শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে; এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি শ্রমিক এবং গ্রামিন কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্য ও খাদ্যের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে। অপুষ্টির হার বৃদ্ধি, খাবার পানির অভাব, পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

    সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল মজিদ বলেন, মূলত তিনটি নতুন ধারণার মাধ্যমে সনদ ১৮৪ কৃষি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগটি নেয়। এই সনদ নিয়োগকর্তাদের উপর কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পন করে, কৃষি শ্রমিকদের অধিকারকে জোরালো করে এবং সরকারের উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে কৃষি শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার কথা বলে। এই সনদ কৃষিতে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি পর্যালোচনা করে কৃষি শ্রমিকদের ঝুঁকিপুর্ণ কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখার অধিকার দেয়। অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের জন্য ঝুঁকি যাচাই বাধ্যতামূলক করে দেয়। যদি ঝুঁকিপূর্ণ কোনও কিছু থাকে, সেক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে সেই ঝুঁকি নিরসনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের আয়োজন করা এবং মারাত্মক ঝুঁকির আশংকা থাকলে বা ঝুঁকি তৈরি হলে সব কাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে এই সনদে। কৃষি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় নীতিমালা করতে সরকারগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে একটি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করে কৃষি শ্রমিকদের অধিকার ও দায়িত্বগুলো সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি বলেন আমরা মনে করি প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে অঙ্গিকার করতে হবে এই কনভেনশন অনুসমর্থন ও প্রয়োগের বিষয় পদক্ষেপ নিতে।
    প্রধান অতিথি জনাব হাজেরা সুলতানা বলেন, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫% এবং কর্মজীবী নারীর প্রায় ৬০% এই কৃষি খাতে জড়িত। তাই বাংলাদেশের জন্য আইএলও-এর উল্লেখিত সনদ এবং সুরপারিশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই বিষয়ে খুব আলোচনা হয় না আমাদের দেশে। তিনি বলেন কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবশ্যই সরকারকে আইএলও কনভেনশন ১৮৪ অনুসমর্থনের উদ্যেগ গ্রহন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রনয়ন করতে হবে।
    প্রধান আলোচক জনাব জীবন কৃষ্ণ বিশ^াস বলেন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গ্ররুত্বের সাথে নিতে হবে। টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সাথে বিষয়টি সম্পর্কিত। কৃষকরা সচেতনতার অভাবে অতিরিক্ত পরিমান কিটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে। সঠিক মাত্রার কিটনাশক ব্যবহার সম্পর্কে তাদের ধারনা কম। কৃষকদের কীটনাশকসমূহের বিকল্প পন্থাসমূহের ব্যবহার করা, স্বাস্থ্যের উপর কীটনাশকের ভয়ানক প্রভাব জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা ইত্যাদি বিষয়ের উপর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষনের প্রয়োজন।
    আরো বক্তব্য রাখেন গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ সাইয়েদুজ্জামান, নেসলে এমপ্লইজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, মোঃ আসাদুজ্জামান নূর, সিলেট হাওরের কৃষক নেতা অজিত পাল সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শ্রমিক ও কৃষক প্রতিনিধি।

    আলোচনা সভা থেকে নিমোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়:

    ১. কৃষিতে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার উপর আইএলও কনভেনশন ১৮৪ অনুসমর্থন করা এবং আইএলও সুপারিশমালা ১৯২ বাস্তবায়ন করা।
    ২. সমন্বিত উৎপাদন এবং বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে অথবা প্রাকৃতিক দ্রব্য দ্বারা উৎপাদিত জৈব-বালাইনাশক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষককে বিশেষ করে নারী কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া।
    ৩. আইনসঙ্গতভাবে অনুমোদিত সঠিক মাত্রার কীটনাশক ব্যবহার করা।
    ৪. ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামাদি ও কৃষিকর্ম উপকরণ বিনামূল্যে কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা।
    ৫. উচু মাত্রার বিষাক্ত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন রাসায়নিক কীটনাশক আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।
    ৬. কীটনাশকের প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা।
    ৭. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতিপুরণ এবং চিকিৎসা বীমা চালু করা।
    কৃষি খামারের বাইরে স্বনিয়োজিত (self-employed) কৃষি শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে।

    Close