ঈদ আনন্দ; শহরে ও গ্রামে

ঈদ আনন্দ; শহরে ও গ্রামে

-খালেদ সাইফুল্লাহ

ঈদ মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদ আসে সকলের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে। দীর্ঘ একটি বছর ঘুরে সকলের মধ্যে খুশির কোন সীমা থাকে না। আর, খুশি আনন্দ হবে নাইবা কেন। ঈদ মানেই তো খুশি। তবে সকলেই যে একরকম ভাবে আনন্দ উপভোগ করবে তা কিন্তু না। ঈদের খুশিরও আবার আছে অনেক ভিন্নতা, অনেক প্রকৃতি। ভিন্ন ভিন্ন সমাজে ঈদটাকে উপভোগ করা হয় বিভিন্নভাবে। যদিও, ঈদের খুশি সকলের জন্য তবুও সকলেই এই খুশি আনন্দের অংশীদার সমানভাবে হতে পারেনা। তবে বৈচিত্রময় ঈদ উপভোগ করার দিক দিয়ে শহর ও গ্রামের মানুষের তুলনা করা যেতে পারে। যদিও বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে শহুরে জীবনের ছোঁয়া লেগেছে বহুলাংশে তবুও গ্রাম ও শহরের মানুষের ঈদ উপভোগের পন্থার মধ্যে রয়েছে পার্থক্য। গ্রাম -শহর ভেদে সকলেরই ঈদ শুরু হয় শপিং এর মধ্য দিয়ে। তবে গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে এই শপিং এ রয়েছে বেশ খানিকটা পার্থক্য। শহরের ধনী শ্রেণীর মানুষেরা বেশ জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ শপিং করতে পছন্দ করে। তাদের শপিং এ থাকে আভিজাত্যের ছোঁয়া। ঈদে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শপিং এর মধ্যেই।

শপিং ছাড়া সবারই ঈদ যেন অপরিপূর্ণ থেকে যায়। তাই গ্রামের মানুষও ঈদের আগমূহুর্তে ব্যস্ত হয় শপিং এ।তারা জাকজমকপূর্ণভাবে শপিং না করলেও শপিং এর আনন্দ থেকে বাদ যায় না কেউই। তবে শপিং এর পর কার কাপড় কত সুন্দর হয়েছে তা দেখতে মেতে ওঠে সকলেই।

শপিং এর ব্যাস্ততা শেষ হতে না হতেই চলে আসে বহু প্রতিক্ষীত ঈদের দিন। সকলেই ব্যাস্ত হয়ে পড়ে নতুন কাপড় পরিধান আর সাজসজ্জায়। তারপরই সকলে মেতে ওঠে আনন্দ আড্ডায়। শহরের মানুষেরা ঈদের দিন কাটায় পার্ক বা সিনেমা হলে, অথবা বড় বড় হোটেল রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে। অপরদিকে গ্রামের মানুষেরা ঈদের দিনকে উপভোগ করে শহরের থেকে ভিন্ন ভাবে। তারা ঈদের আনন্দ উপভোগ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে। তারা প্রতিবেশীদের সাথে এক হয়ে নিজেদের খুশিকে সকলের মধ্যে ভাগাভাগি করে ঈদের আনন্দ টাকে উপভোগ করে।

এভাবে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ চেষ্টা করে ঈদকে সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে যথা-সম্ভব খুশি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে কাটানোর। তবে এই খুশি ও আনন্দেরও একটা সীমা থাকা উচিৎ। কারণ, ঈদ মুসলিম জাতির ধর্মীয় উৎসব। তাই ধর্মীয় দিকটি খেয়াল রেখেই সবাইকে ঈদকে উপভোগ করতে হবে। পোশাক পরিচ্ছেদ ক্রয় ও পরিধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই সকলকে ধর্মীয় দিক নির্দেশনা মেনে যথাসম্ভব মার্জিত পোশাক পরিধান করতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের অবশ্যই আপত্তিকর পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকতে হবে।

এছাড়াও আমাদের সকলকে খেয়াল রাখতে হবে যেন ঈদের খুশিটা ধনী- গরীব, উচু-নিচু ভেদে সকলেই উপভোগ করতে পারে। এই বিষয়টি খেয়াল রেখে ঈদ উদযাপন করলে সমাজের সকলেই ঈদটা উপভোগ করার সুযোগ পাবে। তাহলেই সকলের ঈদ হবে আরো সুন্দর, আরোও বেশী খুশির ও আনন্দের।

লেখা : খালেদ সাইফুল্লাহ