• আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ; ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
  • একটি কঠিন সময় পার করছে মিশরের বাঙালি শ্রমিকরা

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    bangladeshi labour in foreign

    মিশর প্রতিনিধি : বুক ভরা আশা আর পাহাড় সমান স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায় অনেক শ্রেণী পেশার মানুষ। এদের মধ্যে কতজনই বা পেরেছে তাদের সে কাংক্ষিত   স্বপ্ন পূরণে সঠিক উপায়ে কাজ করে যেতে। কিংবা কতজনই পেরেছে মিসরের সুনামধন্য ব্যবসায়ী মি. সুমন, মি.জাকির বা মি.স্বপন হতে।

    বর্তমানে মিশরে পোশাক খাত ছাড়া অন্য কোন খাতে বাঙালি শ্রমিক খুজে পাওয়া একটি দুরহ বিষয়।হাতে গোনা কয়েকজন বাঙালি ব্যবসার সাথে জড়িত।  এদের মধ্যে কেউ বৈধ আবার কেউ অবৈধ উপায়ে ব্যবসা করে টাকার পাহাড় গড়ছে। কিছু দিন আগে জাল ভিসার একটা প্রকোপ ছিল বাঙালিদের মধ্যে যা দূতাবাসের হস্তক্ষেপে একেবারে নাই বললেই চলে। এখনো মিশরে বাঙালিরা হুন্ডি ব্যববসা জড়িত যা বাংলাদেশ সরকারের রেমিটেন্স খাতে গুরুত্বপূর্ন প্রভাব ফেলছে।যদিও এটাকে বাংলাদেশি কোন ব্যাংকেরর শাখা না থাকার কারনে এটাকে জায়েজ হিসেবে মনে করছে অনেকে। ইতমধ্যে কয়েকটি জায়গা যেমন: কায়রো শহরের  বিভিন্ন জায়গা,মাদিনাতুস সালাম,  বিশেষ করে আওয়াল গামাল সহ বেশ কয়েকটি স্থানে অভিজান চালিয়ে দুইশত এর অধিক শ্রমিককে গ্রেফতার করে তাদেরকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যহত রয়েছে এবং মিশরীয় পুলিশ গ্রেফতার অভিজান অব্যহত রেখেছে ।

    যে সমস্ত শ্রমিকদের এখনো ভিসা নাই তারা খুব আতংকের ভিতরে দিনাতিপাত করছে।মিসর সরকারের একটি নতুন নিয়ম হয়েছে যদি কোন শ্রমিক অবৈধ ভাবে  বেশকয়েক বছর কাটিয়ে দেয় তাহলে তাকে, সে যে কয়েকবছর অতিবাহিত করেছে  অবৈধ ভাবে এজন্য তাকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা জরিমানা দিয়ে মিশর থেকে বিদায় নিতে হবে। যদি কেউ জরিমনার টাকা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে একটি নির্দিষ্টসময় পর্যন্ত জেল খাটতে হবে।কাজের অনুমতি নিয়ে আসা মিশরে খুব একটি সহজ কাজ নয় বর্তমানে। তারপরেও মানব পাচার কারীরা ওঁত পেতে বসে আছে।মিসরে এখন কাজের অনুমতি নিতে হলে জি টু জি আলোচনা ছাড়া সম্ভব নয়।

    মিসরে বাঙালিদের অনৈতিক কর্মকান্ড যেমন: সোনা চোরাচালান, অবৈধভাবে ঔষধ পাচার,হুন্ডি, মেয়েদের নিয়ে অনৈতিক কাজ,কিডন্যাপ  সহ এধরণের কিছু কর্মকান্ডে জড়িত মিসরে পরিশ্রম করতে আসা বাঙালিরা ।আর এসমস্ত বেআইনী কাজের ধরা পড়ে বেশীর ভাগ বাঙালি।কিছু দিন আগে নাহাদা এলাকায় চারজন বাঙালি সহ তিন জন মিশরীয় নারী সহ আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে স্থানীয় বাসিন্দারা। ধরা পড়ার পর বেধড়ক মারপিট করে দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় আর বাকি দুইজনকে পুলিশের হাতে সপর্দ করা হয় স্থানীয় মিশরীয়রা।বাঙালিদের  এই ধরণের কর্মকান্ডে দেশের যেমন ভাবমূর্তি খুন্ন হয় ঠিক তেমনি দূতাবাসো হিমসিম খায় বিষয় গুলো সামাল দিতে।

    বর্তমানে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন কাউন্সিলর (রাজনৈতিক)  এ.টি.এম আ: রউফ মন্ডল বলেন, এ সমস্ত বিষয় গুলো বেশীরভাগ হ্যান্ডেল করে অত্র দুতাবাসের প্রথম সচিব মিসেস জোবায়দা মান্নান, তারপরেও কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। তবে বছরের শেষে এসে পুলিশের  গ্রেফতার অভিজান অব্যহত থাকে বলে জানিয়েছ অনেকেই।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/এ আই

    Close