কালীগঞ্জ ছাত্রলীগের কমিটি থেকে দুই নেতাকে বাদ দেওয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি থেকে দুই নেতাকে বাদ দেওয়ায় মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাদ পড়া নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে ও শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল করে।

বিক্ষোভ মিছিলে তারা জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধ শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস ও শহরে উত্তেজনা বিরাজ করে। কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থকরা মেইন বাসস্ট্যান্ডে এসে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানাগেছে, গত ৬ জুলাই কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে নাজমূল হাসান নাজিরকে সভাপতি, মনির হোসেন সুমনকে সাধারণ সম্পাদক এবং জাবেদ হোসেন জুয়েল কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে এক বছরের জন্য নতুন কমিটির অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল।

নতুন কমিটি ঘোষণার ৪ দিন পর গত ১০ জুলাই জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ এক জরুরী প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করায় সভাপতি নাজমূল হাসান নাজির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ হোসেন জুয়েলের বিরুদ্ধে বিবাহের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাদের স্ব স্ব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমূল হোসেনকে সভাপতি এবং রিয়াজ উদ্দীনকে সাংগঠন সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কমিটিতে আগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন কে বহাল রাখা হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান ডিটু বলেন, বুধবার রাতে ঘোষিত এই কমিটি আমরা মানি না। ৬ জুলাই ঘোষিত কমিটি বহাল রাখার দাবি জানায় আমরা।

সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ৬ জুলাই ঘোষিত কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান নাজিম বলেন, ৬ জুলাই কমিটি ঘোষণা করার পর থেকে আমরা শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করি। হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে ৪ দিনের ব্যবধানে কমিটির শীর্ষ দুইজনকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের পরামর্শে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মÐল জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্র লীগ কমিটি নিয়ে মিছিল করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছিল। আইন শৃংখলা অবনতির আশংকায় পুলিশকে খবর দিলে তারা চলে যায়।