• আজ সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং ; ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১০ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
  • কেশবপুরে নানাবিধ সংকটে থমকে গেছে ১৬ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    TAIFUR-ROAD

    আব্দুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) ● কেশবপুর উপজেলাব্যাপী পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মাছের ঘের। সামান্য বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। মাছের ঘেরের কারণে রাস্তায় পানি, রাস্তার পাশে নেই শুকনো জায়গা, ইট-বালু সংকট, পিচ-পাথরের চড়া মূল্যসহ নানাবিধ সংকটে থমকে গেছে কেশবপুর উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের ১৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ।

    স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ইতোপূর্বে এ দপ্তরের ১৮টি সড়কের টেন্ডার ও রিটেন্ডার হলেও কোন ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। আবার অনেক উন্নয়ন কাজের টেন্ডারে কোন ঠিকাদার অংশ গ্রহণও করছেন না বলে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের অভিযোগ। যে কারণে কেশবপুরের বেহাল দশা রাস্তার উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে।

    জানা গেছে, জলাবদ্ধ ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে কেশবপুরের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন বিলে ৬ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমি লীজ নিয়ে ৪ হাজার ৬১৭টি মাছের ঘের তৈরী করেছে। এর পাশাপাশি তারা বিভিন্ন বিলে থাকা ২১টি ছোট বড় সরকারি খালও দখল করে মাছের ঘেরের মধ্যে নিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করা এবং খাল দখল করার কারণে বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে গত ৩ বছর ধরে এ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা বা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

    সরকারি রাস্তা হতে তিন থেকে পাঁচ ফুট দূরত্বে বেড়ি নির্মাণ করে মাছের ঘের করার নিয়ম থাকলেও এখানকার কোন ঘের মালিক তা না মেনে সরকারি রাস্তা ঘেরের বেঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছে। যে কারণে পানির ঢেউয়ে রাস্তার দু‘পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। অধিকাংশ ঘের মালিক রাস্তার ওপর চার পাঁচ ফুট উঁচু করে বেঁড়ি নির্মাণ করায় মানুষ ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ঘেরে মাছ আনা নেয়া করার কারণেও রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর জানায়, ইতোপূর্বে এ উপজেলায় জিওবিএম প্রজেক্টের আওতায় ৬ কোটি ৮৭ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ৫টি সড়ক সংস্কারের জন্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। সড়কগুলো হলো, কেশবপুর হেডকোয়াটার-সাগরদাঁড়ি মাইকেল সড়কের ৩ হাজার মিটার সংস্কারের জন্যে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, কেশবপুর হেডকোয়াটার-রেলতলা ভায়া বেগমপুর সড়কের ৬ হাজার ৬‘শ মিটার সংস্কারের জন্যে ২ কোটি ৬০ লাখ ৮০ হাজার টাকা, মঙ্গলকোট ইউপি থেকে বুড়–লি বাজার পর্যন্ত ৫‘শ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্যে ১৪ লাখ ১২ হাজার টাকা, ভালুকঘর আবুল হোসেন মাষ্টারের বাড়ি হতে আনছার সানার বাড়ি পর্যন্ত ৩‘শ ৫০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্যে ১৩ লাখ টাকা ও বর্ষাখোড়া মোড় থেকে ফুলতলা মোড় ভায়া বালিয়াডাঙ্গা পূঁজা মন্দির পর্যন্ত ৮‘শ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্যে ১২ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে।

    এছাড়া প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে রি-টেন্ডার হওয়া ৯টি রাস্তা হলো, ৩২‘শ মিটার হদের হাট রাস্তা সংস্কারের জন্যে ২ কোটি ২৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ৭‘শ মিটার জামালগঞ্জ বাজার থেকে পরচক্রা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্যে ৬০ লাখ টাকা, ১ হাজার ৫১৭ মিটার বিদ্যানন্দকাটি ইউপি থেকে জামালগঞ্জ বাজার ভায়া পরচক্রা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্যে ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩২ টাকা, ৩৫‘শ মিটার কাঁস্তা থেকে বুড়িহাটি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্যে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৫ টাকা, ৮২৫ মিটার মেহেরপুর ইসলাম গাজীর বাড়ি হতে ওয়াপদা বেঁড়িবাধ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্যে ৬২ লাখ ৮৭ হাজার ৫১১ টাকা, ১১‘শ মিটার ভরতভায়না বাজার হতে ভরতের দেউল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্যে ৭১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪১ টাকা, ১২‘শ ৪০ মিটার মজিদপুর শ্রীফলা ভায়া কুশুলদিয়া রাস্তা সংস্কারের জন্যে ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৭৫০ মিটার সুফলাকাটি ইউপি থেকে শোলগাতিয়া ব্রিজ ভায়া কাকবাঁধাল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্যে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬০ টাকা ও ইউএসএআইডি প্রজেক্টের আওতায় শানতলা মোড় হতে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা।

    কেডিআইআরআইডিপি প্রজেক্ট থেকে আরও ৪টি রাস্তা মেরামত করার জন্যে যশোর নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরের প্রাক্কলন প্রেরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে মঙ্গলকোট ভায়া হিজলডাঙ্গা সড়ক, কাঁস্তা ভায়া রঘুরামপুর সড়ক, রঘুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভায়া সরসকাটি সড়ক ও মঙ্গলকোটি ইউপি হয়ে পাঁজিয়া ভায়া মাগুরখালি সড়ক। যা আগামি নভেম্বর মাসে টেন্ডার হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও প্রায় একশত কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ২৩টি সড়ক মেরামত করার জন্যে প্রাক্কলন তৈরীর কাজ চলছে।

    প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আব্দুল আহাদ জানান, রাস্তা করতে ব্যাপক ভিত বালুর প্রয়োজন হয়। এরপরও প্রশাসন কর্তৃক বালু উত্তোলনে বাঁধা, বালু উত্তোলনের যন্ত্রপাতি আটক ও পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে বালু, ইট সংকট ও মাছের ঘেরের কারণে রাস্তার ওপর পানি এবং দুই পাশের সোল্ডার ধসে গেছে। জায়গার অভাবে রাস্তা নির্মাণের সামগ্রী রাখার জন্য কোন উঁচু জায়গা নেই। এরপরও গত বছরের চেয়ে এ অর্থ বছরে সরকারি রেট সিডিউলে বিশেষ করে পিচ ও পাথরের মূল্য কমানো হয়েছে বলেই ঠিকাদাররা আগ্রহ হরিয়ে ফেলেছে।

    এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মুনসুর আলী জানান, ঘেরের কারণে অধিকাংশ রাস্তা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। যে কারণে টেন্ডার- রিটেন্ডার আহবান করা হলেও ঠিকাদাররা অংশ নিচ্ছে না। তারপরও উন্নয়নের স্বার্থে যাতে ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশ নেয় তার জন্যে আমরা চেষ্টা করছি।

    Close