ছবিতে দেখুন যশোর শহরের নতুন রূপ

যশোর জেলার নামকরণ অনুসন্ধান করলে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। ঐতিহাসিকগণের মধ্যেও যশোর জেলার নামকরণ সম্পর্কে বহু মতবিরোধ দেখা যায়। একারণে এর নামকরণ বিষয়ে কোন একক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। যশোর বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন জেলা এর প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে। দেশের অন্যতম এ উল্লেখযোগ্য জেলাটির সৃষ্টি হয়েছিল আজ থেকে প্রায় দুইশত বৎসর পূর্বে। সময়টি ছিল ১৭৮৬ সালে। পাক-ভারত উপ-মহাদেশে বৃটিশের আগ্রসী রাজত্ব শুরু হওয়ার ফলে যশোরসহ সমগ্র বঙ্গ ইংরেজ শাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়। চিরকালের আপোসহীন সংগ্রামী যশোরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপারগ হলে ইংরেজ শাসকগণ তাদের শাসন কাজের সুবিধার জন্য যশোরকে একটি ভূখন্ডে নির্দিষ্ট করে তাকে স্বতন্ত্র জেলায় রূপান্তরিত করে। প্রথম প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন যশোর জেলার সীমানা-খুলনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর এবং আজকের চুরাশিপূর্ব অবিভক্ত যশোরসহ ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

বর্তমান যশোর জেলা প্রাচীনকালে বহু নদ-নদী দ্বারা বিভক্ত ছিল। নদী বিধৌত এ অঞ্চলে মাঝি ও জেলে সম্প্রদায়ের কিছু বিচ্ছিন্ন উপনিবেশ গড়ে উঠেছিল। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকে টলেমীর মানচিত্রে দেখা যায়, বঙ্গীয় ব-দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের ভূ-ভাগ মূলত গঙ্গার দু’টি প্রধান শাখা পদ্মা ও ভাগীরথীর বাহিত পলি দ্বারা গঠিত হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানে যশোরের বুক চিড়ে বয়ে চলা ভৈরব নদ মরে যাওয়ায় এর সৌন্দর্য নষ্ট হতে থাকে। একইসাথে নদীর পাড় জুড়ে দখলদারদের দখলদারি শহরের সৌন্দর্যকে ম্লান করে আসছিল এতোদিন। কিন্তু সম্প্রতি প্রশাসন কর্তৃক দখল উচ্ছেদ করায় নতুন চেহারায় প্রাচীনতম শহরটি। দখল উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। দড়াটানা সেতু থেকে গরীবশাহ মাজারের বকুলতলা পর্যন্ত ও সেতু সংলগ্ন এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই উচ্ছেদের কারণে ভাঙ্গা পড়েছে ২৯৬টি স্থাপনা। এর মধ্যে বই ঘর, লাইব্রেরি, স্টুডিওসহ নানান ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো। দেখুন তারই কিছু খণ্ড চিত্র।

ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/এআইএফ