আল আমিন তুষার ●
রক্তিম এর বাবা বেশ চাপা স্বভাবের মানুষ, অনেক কম কথা বলেন। এই কারণে অনেকে তাকে কিছুটা অসামাজিক ভাবে। কিন্তু তাঁর সাথে কথা বলে আমার সেরকম কিছু মনে হয় নি। তবে অতিরিক্ত কিছুই তিনি পছন্দ করেন না এটা একেবারে ঠিক। যতটুকু দরকার ঠিক ততটাই, না কম না বেশি।

তাঁর সাথে কথা বলার মাঝে তিনি আমায় একদিন তাঁর ছেলের সম্পর্কে বলছিলেন। মানে তাঁর ছেলের খুব ছোট বয়স এর সময়ের এক ঘটনা। তিনি নাকি পরিবার নিয়ে তাঁর অফিসের এক বনভোজনে যান, তখন রক্তিম মনে হয় ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ে। সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি তাঁর পরিবারকে। তিনি, রক্তিম এর মা, আর রক্তিম। রক্তিম এর ছোট ভাই তখনও এ দুনিয়ায় আসেনি আরকি।

আঙ্কেল এর পরিচয় করিয়ে দেবার ধরণ টাও বেশ ভিন্ন, আমি আজ পর্যন্ত কাউকে তাঁর পরিবারকে এভাবে পরিচয় করাতে শুনিনি। তিনি ঠিক এভাবে বলেছিলেন যে… এই হল আমার বন্দুক (রক্তিমের আম্মুকে) আর ওইটা হল বারুদ ভরা বুলেট (রক্তিমকে)। আমি পরিচয় এর ধরণ শুনে তো কিছুক্ষণ তাঁর দিকে হা করে তাকিয়ে ছিলাম। আমি জানি না আপনারা কি মনে করছেন।

আমার নিরাবতা ভেঙ্গে আঙ্কেল বলে চলেছেন, পরিচয় আদান প্রদানের এক পর্যায়ে আঙ্কেলের এক সিনিয়র অফিসার রক্তিমকে জিজ্ঞেস করেন , বাবা তুমি বড় হয়ে কি হবে? আঙ্কেল অবশ্য বড় অফিসার কে তাঁর ওই উইনিক উপায়ে পরিচয় করাননি। কিন্তু এবার রক্তিম এর উত্তর টা ছিল অনেক ভিন্ন। ৪র্থ শ্রেণীতে পড়া এক ছোট্ট শিশু যে এ রকম উত্তর দিবে এটা কেউই আশা করেনি।

রক্তিম বলল, আমি কি হব তা তো ঠিক জানি না, তবে বড় হয়ে এমন কিছু হতে চাই যেন আমার নামে আমার বাবা-মার পরিচয় হয়। আজ যেমন সবাই আমাকে বলে মামুনের ছেলে। আমি বড় হলে আমার ভাল কাজের জন্য যেন সবাই বলে ঐযে রক্তিমের বাবা কিংবা রক্তিমের মা। তাহলেই আমি ভাববো আমি কিছু হতে পেরেছি।

সাথে সাথেই হয়ত রক্তিম তাতে কিছুটা তার কিছু একটা হতে পেরেছিল আমার মনে হয়। কারণ এরকম সুন্দর উত্তর পেয়ে তার বাবা-মা যেমন গর্বের সাথে সেদিন বনভোজন টা শেষ করেন সেটা আজও তাঁদের জীবনের সেরা দিন গুলোর একটি হয়ে আছে। সেদিন থেকে সেই অফিসার নাকি আঙ্কেলকে আর মামুন সাহেব বলে ডাকেননি, ডাকতেন রক্তিমের আব্বু বলে। যদিও রক্তিম ব্যাপারটাকে ভাবে যে ওই অফিসার কি নিছক মজা করে তার ওই উত্তরের জন্য। কিন্তু সে যে কতটা সফল তা রক্তিম আজও জানে না।

রক্তিমের এমন চিন্তা ধারা যে সেই ছোট বেলা থেকে তা আমি জেনে আরও অবাক হই। তার এমন করে পৃথিবী কে দেখার ক্ষমতাটি জেনে আমার তার মত হবার ইচ্ছা জাগে। হিংসা হয় আমি কেন তার মত হলাম না, সে এমনটা কিভাবে পারে !