• আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ; ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
  • জিলহজের প্রথম দশ রাত : ফজিলত ও আমল

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ || আহমাদ আবসার হুসাইন মাদানী ●
    dua-Taobah Islam Muslim
    ইসলাম ● কুরআন ও হাদীসে জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা কুরআনে এ আয়াতসমূহের কসম খেয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে
    শপথ ফজরের।  শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার।যা জোড় ও যা বেজোড়। এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে (সূরা ফজর ১-৪)
    এ চার আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তাআলা পাঁচটি জিনিসের কসম খেয়েছেন। ১. ফজরের। ২. দশ রাত্রির। ৩. জোড়ের। ৪. বেজোড়ের। ৫. এবং রাতের।
    অধিকাংশ তাফসিরবিদ যেমন- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., কাতাদা, মুজাহিদ, সুদ্দি, যাহ্হাক, কালবি রহ. প্রমুখ ‘দশ রাত্রি’ দ্বারা জিলহজের প্রথম দশরাত উদ্দেশ্য নিয়েছেন। এর সত্যায়ন একটি মারফু হাদিস দিয়েও হয়। যা হযরত জাবের রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ফাজরের তাফসিরে বলেন  :
    ফজর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল সকাল। আর দশরাত্রি দ্বারা জিলহজের প্রথম দশ রাত উদ্দেশ্য, যাতে কুরবানিও শামিল রয়েছে। এবং الوتر   দ্বারা আরাফার দিন নবম জিলহজ উদ্দেশ্য। আর الشفع দ্বারা দশম জিলহজ বুঝানো হয়েছে। শুআবুল ইমান-৩/২৫২;
    ফাজায়িলুল আওকাত-৩৪০;
    মুস্তাদরাকে হাকিম-৪/২২০
    জিলহজের প্রথম দশরাত্রি সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা রা. হাদিস বর্ণনা করেন
    রাসুলুল্লাহ স. বলেন, দুনিয়ার সাধারণ দিবস-রজনীর মধ্যে আমল করার চেয়ে জিলহজের প্রথম দশ দিনে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়। এ সময়ে একদিন রোযা রাখা অন্য সময়ের একবছর রোযা রাখার সমান। একরাতের ইবাদত শবে কদরের মতো মহান।
    বায়হাকি শুআবুল ইমান- ৩/৩৫৫
    ফাজায়িলুল আওকাত-৩৪৬
    জিলহজের প্রথম দশকে পালনীয় : 
    * রাতজেগে ইবাদত করা।
    * প্রথম নয়দিন রোযা রাখা সুন্নত ও মুস্তাহাব। বিশেষত আরাফার দিন অর্থাৎ জিলহজের নয় তারিখে রোযা রাখা। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ অঞ্চলের নয় তারিখ অনুপাতে রোযা রাখবে। সৌদি আরবের নয় তারিখে নয়। হা, প্রথম নয় তারিখের ভেতর হলে তো রাখতে কোনো সমস্যা নেই।
    * আইয়ামে তাশরীক অর্থাৎ নয় জিলহজের ফজর থেকে তের তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর তাকবীর পড়া। মোট ২৩ ওয়াক্ত নামায হয়।
    আল-জাওহারাতুন নাইয়িরাহ : খ. ১, পৃ. ৩৭৭
    রদ্দুল মুহতার : খ.৭, পৃ. ৩২৩
    আল-বাহরুর রায়েক: খ.২, পৃ.৫৬
    জিলহজের রাতে কী ইবাদত করবে?
    জিলহজের রাতে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত নেই। নিজের অবস্থা, চাহিদা ও রুচি মোতাবেক যে-কোনো ইবাদত করতে পারে। তেলাওয়াত, জিকির, নামায, দান-খয়রাত, ইলমচর্চা যে-কোনো ইবাদত করা যায়। তবে কোনো ইবাদতকে নির্দিষ্ট করা বিদআত হবে।
    আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা, আমাদেরকে এ বরকতের রাতসমূহে ইবাদত করার তাওফিক দাও। তোমার স্বীয় অনুগ্রহ ও অনুকম্পায় আমাদের সকল গোনাহ মাফ করে দাও। সর্বপ্রকার ফেতনা-ফাসাদ, বালা-মুসিবত ও অনিষ্টতা থেকে দূরে রাখ।
    আমিন।
    লেখক: আলেম, মুফতী,গবেষক 
    খলিফা: আল্লামা আহমদ শফী দা.বা.
    Close