ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে জমজমাট ঈদের বাজার

শাকিল আর সালাম: ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে জমজমাট শপিংমল গুলো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে ছেলে-মেয়ে ,বয়োবৃদ্ধ সব বয়সীদের।দোকানগুলোতে হরেক ধরনের রং-বেরঙের বাহারী ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে আগতরা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন। আর এবারের ঈদে প্যান্ট, শার্ট, ফতুয়া, থ্রী-পিস, শাড়ীসহ সব ধরনের পোশাকেরও সরবরাহ বিপুল।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ঈদের মত এবারের ঈদেও কালিগঞ্জে মার্কেটগুলোতে প্রচুর পোশাকের সমারহ ঘটেছে। বড় বড় দোকানগুলোতে কোটি কোটি টাকার পণ্য উঠানো হয়েছে। শো-রুম গুলোতে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে লাভের আশায়। কিছু পোশাকের দাম বেশি হলেও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে অন্যান্য পোশাকের দাম। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বেচা-বিক্রি বাড়ছে। তবে সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরো বাড়বে বলে জানান বিক্রেতারা।

গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহ পর্যন্ত দমাতে পারছে না, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের আনন্দোচ্ছল কেনাকাটার প্রবল আগ্রহ। উল্লেখ্য, এবারে ঘূর্ণিঝড় ফণীর ভ্রকুটি সত্বেও ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীরা খুশি। খুশি সাধারণ মানুষও নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে থাকায়। এর পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়তি বোনাস তো আছেই।

ঈদকে ঘিরে ক্রমশ চাঙ্গা হয়ে উঠছে দেশের অর্থনীতি। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও এর অবদান কম নয়। আরও যা আশার কথা, এর পরিমাণ বাড়ছে দিন দিন। অবশ্য বিষয়টি যে একেবারে নতুন তা নয়। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির জীবনে দৈনন্দিন অর্থনীতির চাকা সচল হয়ে ওঠে প্রধানত যে কোন ধর্মীয় অথবা সাংস্কৃতিক উৎসবকে ঘিরে। এই যেমন ঈদ, পূজা, বাংলা নববর্ষ, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইত্যাদি।

তবে তা সবচেয়ে সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে প্রধানত ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আজহাকে ঘিরে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা উপলক্ষে। তবে সবার ওপরে রয়েছে ঈদ-উল-ফিতর।অন্তত বাংলাদেশে একসময় ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিলো নতুন জামা, নতুন জুতা বঙ্গ ললনার ক্ষেত্রে তা ছিলো শাড়ি। তবে এখন যুগ ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা এবং রুচি বদলেছে।

এসেছে ফ্যাশন দুর¯ত কাপড়-চোপড়, মেয়েদের সালোয়ার কামিজ, বাহারি শাড়ি ও হিজাব, রকমারি জুতা, প্রসাধন সামগ্রী, গহনা ইত্যাদি। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও আজকাল সর্বদাই হাল ফ্যাশনের অনুষঙ্গ খোঁজে ঝপোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে, এমনকি শিশুরাও বাদ যায় না। আর এ তো শুধু পোশাক-পরিচ্ছদে সীমাবদ্ধ নেই, একই সঙ্গে চাই ঘরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, এসি, এমনকি হাল মডেলের গাড়ি। মানুষ এখন রীতিমতো আধুনিক ও কেতাদুরস্ত হয়ে উঠেছে।

এত বিপুল ব্যয় ও অর্থ খরচের পেছনে মূল নিয়ামক হিসেবে যেটি কাজ করেছে তা হলো ইতোমধ্যে মানুষের আয়-উপার্জন বেড়েছে বহুগুণ। সরকারি, আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উৎসব ভাতা বেড়েছে। বেড়েছে প্রবাসী আয়। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হারও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক, সাত শতাংশের ওপরে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়।

দেশ এখন স্বল্প আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে ধাবমান। ছোট-বড় ব্যবসা-বাণিজ্যও বেড়েছে বহুগুণ। মানুষের মধ্যে জেগেছে কর্মস্পৃহা। সে এখন আয়-উপার্জন বাড়াতে ইচ্ছুক। এসবই যুক্ত হচ্ছে জাতীয় উৎসবের অর্থনীতিতে। ফলে শহরের অর্থনীতির পাশাপাশি চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিও। জমজমাট ঈদের বাজারে এরই সুবাতাস প্রবহমান। আমরা চাইবো নির্বিঘ্নে মানুষ যাতে কেনা কাটা করতে পারে।