বাঙ্গালীর দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬। বাঙ্গালী সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ বাংলা নববর্ষ উদযাপন। ১লা বৈশাখে বাংলাদেশের মূল আকর্ষণ থাকে চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙ্গালী জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই উৎসবটি নিয়ে থাকে নানাজনের নানা পরিকল্পনা। বিশেষ করে তরুণরা সকলেই চান একটু ভিন্নধর্মী নববর্ষ উদযাপন করতে। ফাস্ট বিডিনিউজ২৪ এর বৈশাখের আয়োজন সাজানো হয়েছে তেমনি কিছু তরুণদের বৈশাখ কাটানোর পরিকল্পনা নিয়ে। সংকলন করেছেন খালেদ সাইফুল্লাহ-

আসাদুল্লাহ রনি
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বাঙ্গালি সংস্কৃতির ধারক আমাদের বৈশাখীর আমেজ । পুরো বাংলা সনের মধ্যে এ দিনটি ঘিরে রয়েছে বিশেষ উন্মাদনা। পান্তা-ইলিশের মিলনমেলা, সঙ্গে রয়েছে শাড়ি পাঞ্জাবির একাকার মিশ্রণ । বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বৈশাখ নিয়ে এত পরিকল্পনা করি। তার আগে এতটা পরিকল্পনা বা আমেজও ছিলোনা । বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বারের মত বৈশাখ উদযাপন করবো এবার তাই উৎসাহ একটু গত বছরের চেয়েও বেশি। ১৪২৬ সনে প্যারিস রোডে কাপলদের একসঙ্গে আঙ্গুৃলে আঙ্গুল ছুঁয়ে হাঁটার দৃশ্য উপভোগ করবো । বন্ধুদের সাথে সিরাজী ভবন থেকে হয়তো চারুকলায় প্রস্থান করবো তারপর গান-নাচে সময়টা ভালোই কাঁটবে আশা করি । বাঙ্গালি বলে পরিচয় দিলেই গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। সাহস ভরা কণ্ঠে বলি বৈশাখ আমার সংস্কৃতির অংশ , আমরা বাঙ্গালি চেতনা লালন করি । সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।

শাহনাজ সম্পা
নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

রবিঠাকুর নতুন বর্ষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছিলেন- “এসো হে বৈশাখ এসো এসো”। তিনি নববর্ষের প্রথম মাসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন নতুন বার্তা বয়ে নিয়ে আসবে বলে। অতীতের বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার ছিল। কিন্তু অধুনা পহেলা বৈশাখ অনেকটাই শহরকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। বর্ষবরণে চমকপ্রদ ও জমজমাট হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকা। এখানে বৈখাখী উৎসবের অনুষ্ঠানমালা যেনো মানুষের মিলন্মদলায় পরিণত হয়।। ছায়ানটের সদস্য হওয়ার সুবাদে আমার পহেলা বৈশাখ শুরু হবে জনাকীর্ণ রমনার বটমূলে রবীন্দ্রনাথের আগমনী গান “এসো হে বৈশাখ ” এর মাধ্যমে নতুন বর্ষকে বরণ করেই । সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের বকুলতলার প্রভাতী অনুষ্ঠানের সুর আর তালে মেতে উঠবো। শহীদ মিনার, টিএসসি, কলা ভবন, মলচত্বর লাল-সাদা শাড়ি পরে জনসমুদ্রে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় হারিয়ে যাবো প্রাণের টানে। এর ফাঁকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে পান্তা-ইলিশ খাওয়া হবে। বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই দিনটি যেন স্থান, কাল, জাত, শ্রেণি, ধর্মভেদে সবাই ভাগাভাগি করে নেয়। ফাস্ট বিডিনিউজের সবাইকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

আমিমুল ইহসান ফাহাদ
ইংরেজি বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ

বাঙ্গালী জীবনে যে কয়টি উৎসবের ছোঁয়া লাগে তার মধ্যে পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালীর একান্ত নিজস্ব উৎসব। এই দিনটিকে ঘিরে তাই বাঙ্গালীর আগ্রহের সীমা-পরিসীমা নেই। নানা জন নানাভাবে দিনটিকে উপভোগ করে। এবারের পয়লা বৈশাখ শুরু হবে চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে। রমনা বটমূলে শাড়ী পাঞ্জাবির সারিতে হারিয়ে যাবো। বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্টানমালা উপভোগ করবো বন্ধুদেরকে নিয়ে। আর পান্তা-ইলিশ তো থাকছেই। সবকিছু মিলিয়ে এবারে বৈশাখটি সিবাইকে সাথে নিয়েই কাটাতে চাই। বাঙ্গালী সংস্কৃতি বেচে থাকুক আমাদের অন্তরে, আমাদের কর্মের মধ্যে। ফাস্ট বিডিনিউজকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

ফারহানাহ সানজিদাহ
আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি

আঠারো, শুধু কী সংখ্যা? না, এটা আমার বয়সও। আমার আঠারোতম বয়সের প্রথম বৈশাখ ’বাংলা নববর্ষ’। যৌবনে প্রথম পর্দাপন, তাই হয়তো এবারের বৈশাখের প্রথম দিনটা আমার কাছে একটু আলাদা। যদিও আমি ঘরকুনো তবুও এবার ছোট ছোট কিছু পরিকল্পনা আছে। দুহাত ভরে লাল রেশমি চুড়ি আর সিঁদুর লাল শাড়ি পড়ে প্রভাতের ভেজা ঘাসে নগ্ন পায়ে হাঁটা আর সোনালি রোদ্দুরে স্নান করা। আরও একটা আছে, আমার প্রথম স্বল্প আয়ে মায়ের জন্য মিষ্টি কমলা রঙের একটা শাড়ি কেনা (আমার মা অসম্ভব রুপবতী না হলেও, কমলা রঙে আমার চল্লিশোর্ধ মাকে নতুন বৌয়ের মতো দেখায়)। আমার পহেলা বৈশাখের পরিকল্পনা তো শুনলেন। আপনার পরিকল্পনা কী আমার মতোই না একটু আলাদা? শুভ হোক সকলের এবারের ’পহেলা বৈশাখ’।

ফাস্ট বিডিনিউজ২৪/ কেএস

2 COMMENTS

পাঠকের মতামত:

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × two =