অহেতুক

অহেতুক

শামায়ীল আহসান জাইফ

আরেফিন খুব আলুথালু হয়ে পড়লো আরজুকে দেখে। তার এই ছোট অফিস ঘর হঠাৎ তার কাছে নিতান্ত সাধারণ, সামান্য অগোছালো, গরিব মনে হলো। একদিন ভালোবাসা ছিলো। একদিন অনেক কিছু গল্প ছিলো। একদিন খুব রঙিন ছিলো। এই অফিসের ঘরটিতে আরজু আগেও এসেছিলো। তখন আরো রঙিন ছিলো সব। গল্প ছিলো, যার শেষ ছিলো না। ভালোবাসা? ঢোঁক গিললো আরেফিন। থাকলেওবা ভালোবাসা, মেয়েটিকে নিয়ে রঙিন সব একদিন থাকলেও, গল্প বিরতিহীন যদিওবা ছিলো-বা এখনো কি? বিয়ের দেড় মাসের মাথায় আরজুকে দেখে-বিদায় সে তো দিয়েছিলো, দেয়নি কি? আজ সব ঝাঁপিয়ে পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলো। আরেফিন বললো, আরে তুমি? পেছনে তাকালো আরেফিন। আরজুর পেছনে। যেন আশা করলো সে-কিম্বা আশঙ্কা? পেছনেই আছে আরজুর স্বামী হাফিজ শাহ, যেন হাফিজও এসে পড়বে। পেছনে কী দেখছো? কেউ নেই। অনুমান করবার ক্ষমতা অসাধারণ আরজুর। এই ক্ষমতা পরিচয় কতোবার কতদিন পেয়েছে আরেফিন তাদের দেড় বছরের ভালোবাসার দিনগুলোতে। আরজুর চেয়ারে অনেকক্ষণ বসবার ভঙ্গিতে গুছিয়ে বসে বললো, আমি একা। কেমন আছো? মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থেকে আরেফিন বললো, সবুজ টিপে তোমাকে ভারি মানিয়েছে। সবুজ টিপ পছন্দ করতে। না? আবার ঢোঁক গিলে আরেফিন। হ্যাঁ কিম্বা না কোনোটাই বলতে পারেনা সে। মনে পড়লো, বিয়ের দু’দিন আগে শেষ যখন দেখা হয়েছিলো, দেখা করতে এসেছিলো আরজু, কপালে সবুজ টিপ ছিলো তাঁর, আরেফিনের পছন্দের সবুজ, মধ্যিখানে লাল একটি বিন্দু। অমন করে দেখো না তো। আরজুর মৃদু তিরস্কার, কিন্তু চোখ ফেরাতে পারলো না আরেফিন। আরজু নয়, আরজুর মুখখানাও নয়, টিপ, শুধু ওই সবুজ টিপ, সবুজের ওপর বিন্দুর মতো লাল, যেন পিনের খোঁচায় একফোঁটা রক্ত-আরেফিনের সবটা চোখ জুড়ে রইলো। বিয়ের পর আরজুর সঙ্গে এই প্রথম দেখা। কেমন? সব ভালো? আরেফিন আবার ঢোঁক গিললো। মাথা নাড়লো আরজু। না? না। সে কি? হ্যাঁ। মানে? আরজু ভ্রূকুটি করে উঠলো। এত মানে মানে কোরো না তো। হাফিজের সঙ্গে সম্ভব না। আমি চলে এসেছি। দেখতেই পাচ্ছো। হ্যাঁ, দেখতেই সে পাচ্ছে আরজু তার সমুখে। আর চোখেও পড়ছে তার নিজেকেই, সে, সে দুঃখিত হবার বদলে, চমকে ওঠার বিপরীতে নিজের ভেতরে একটা খুশির দোলা দেখছে। পরমুহূর্তেই মনে হলো তার; আরজু কতোবার তাকে বলেছে- তুমি অভিনয় একেবারে করতে পারো না। কি সে পারছে এখন গোপন করতে তার ভেতরের খুশিটা। আরেফিনও ভ্রূকুটি করলো। ভ্রূকুটি এমন একটি ভঙ্গি; খুব সহজ মুখটিকে গোপন করবার। বললো, চলে এসেছো মানে? আবার মানে? মাথা নাড়লো আরেফিন। বললো মানে মানেটাই তো বুঝতে পারছিনা। চলে এলে মানে? সম্ভব না মানে? আবার মানে? হাফিজ কোথায়? আমি কি জানি! অফিসের লোক অফিসেই নিশ্চয়। এই ফাঁকে আমি চলে এসেছি। আর যাবো না। আরজু হঠাৎ তীব্র চোখে তাকালো আরেফিনের দিকে। বললো, তুমি কি ভয় পেলে? না, না। দু হাত নেড়ে বললো আরেফিন। না, ভয় কি? ভয় কিসের? কিন্তু একেবারে দেড় মাসের মাথায় এরকম? আরজু হাসলো। হাসছো যে! তোমার হিসেব দেখে। ঠিক ঠিক মনে রেখেছো আমার বিয়ের আজ ঠিক দেড় মাস। ভালোবাসতে তাহলে? আরেফিন আবার ঢোঁক গিললো। আরজু বললো, কথা বলছো না কেন? আমি না হয় বিয়েই করেছি, তাই বলে ভালোবাসা তো আর করিনি। সে ছিলো তোমার সঙ্গে আমার। ভালোবাসতে তো! বাসতে না? আরেফিন ঢোঁক গিলে বললো, হ্যাঁ, সে তো, হ্যাঁ, বাসতাম। তবে বলতে এতো ভয় পাচ্ছো কেন? আরজু টেবিলে দু’হাত তুলে ঝুঁকে বসলো। শোনো আরেফিন। অনেক দেখলাম। এই দেড় মাস। হাফিজের সঙ্গে আমার হবে না। তাই চলে এলাম। তোমার কাছে? ভয় পেয়ো না। তোমাকে কোনো বিপদে ফেলবোনা। তবে? এই দ্যাখো, তুমি বিপদ ভাবছিলে তো? মুখটা কেমন সুন্দর হয়ে গেলো তোমার। আমাকে দেখেই যে আঁতকে উঠেছিলে। এখন দ্যাখো তো, কত সহজ লাগছে তোমাকে। তোমার ভয় নেই। আরেফিনের ভেতরটা ভয় ভয় করে উঠেছিলো ঠিকই। আরজুর আশ্বাসে সে ভয় কিছুটা কেটে গেছে তো অবশ্য। ভয়ের বদলে এখন উদ্বেগ। সহজ হতে চেষ্টা করলো সে। এতো ভয় ভয় করছো কেন আরজু? ভয় আমার নেই। তুমি যদি আজো বলো– কথাটা শেষ করলো না আরেফিন। আজো তবে কি? চুপ করে আছো কেন? কি তবে আজো? আমি ডাকলে চলে আসবে? আমি এলে আমাকে নেবে? নাকি, বিয়ে একটা করেছি বলে আমি মানে আমার সব, মানে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে? মরে গেছে? না, তা কেন? আরজু চেয়ারে মাথা এলিয়ে বললো, না, তোমাকে বিপদে ফেলবোনা। হাফিজ কে ছেড়ে চলে এসেছি। বাপের বাড়ি যাবো। বাস ছাড়বে সন্ধে ছ’টায়। নাইট কোচ। এই সময়টুকু আমাকে শুধু লুকিয়ে রাখবে। হাফিজ দুপুরে বাসায় খেতে আসে। আমাকে না দেখে ঠিক বুঝে যাবে আমি চলে গেছি। আজ দু’দিন থেকে ঝগড়া চলছে তো! দু’রাত আমাদের কিছু হয়নি। আমি কাছে আসতে দেইনি। আজ সকালে বলেও দিয়েছি, থাকবো না আমি। যদি খুঁজতে বেরোয়? আরেফিন নিশ্বাস ফেলতেও পারলো না সহজ করব। ছমছমে গলায় বললো, তাতেই বা কি? তুমি আমার এখানে জানবে কি করে? অনুমান তো করতে পারে। না, না। ও তো জানে তোমার কথা। জানে? হ্যাঁ জানে। আমি বলেছি ওকে। কী বলেছো? বলেছি তোমাকে ভালোবাসতাম। আরেফিন উদ্বিগ্ন হলো। ভালোবাসতাম? অতীত তাহলে। ভালোবাসি তবে বলে নি? হাহাকার করে উঠলো ভেতরটা। একটা সিদ্ধান্ত নিলো সে। আরেফিন উঠে দাঁড়ালো। বললো, ভালোবাসাতাম কেন, আরজু? এখনো ভালোবাসো না? আমি এখনো কি ভালোবাসিনা তোমাকে? দ্যাখো, অফিসের ভেতরে এর বেশি কথা বলা যায় না। এখানে লোকজন। কে কখন এসে পড়ে। আমি তোমাকে এখনো ভালোবাসি। এখনো তুমি ডাকলে একবার ডেকে দেখো আমাকেই পাবে। আমাকেই তুমি পাবে। উজ্জ্বল চোখ মেলে তাকিয়ে রইলো আরজু। কয়েক মুহূর্ত পর ছোট্ট করে শুধু বললো, সত্যি? চেয়ারে ফিরে গিয়ে বসলো আরেফিন। বললো, হাফিজ যদি আসে। না, তাহলে তোমার এখানে থাকা ঠিক হবেনা। আমি বরং ছুটি নেই অফিস থেকে। চলো, দূরে কোথাও গিয়ে বসি। তারপর সময় হলে বাসে উঠে যেয়ো। ওমা সেকি! আরজু হেসে উঠলো। প্রসঙ্গ টা বুঝতে পারলো না আরেফিন। আরজু বললো, তাহলে বাপের বাড়িতেই আমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছো? একবার বলছো না, চলো আমার বাড়িতে? একবারও কি বলতে ইচ্ছে করছে না তোমার, আমার কাছে থাকো? আরজুর উজ্জ্বল চোখ জোড়ার দিকে তাকিয়ে আরেফিনের হঠাৎ মনে হলো, কোথাও একটা খেলা চলছে না তো! আরজু মিথ্যে বলছে না তো!হাফিজের সঙ্গে তার সবই ঠিক আছে, এমন নয় তো! এ শুধু একটা বোকা বানানোর খেলা, যদি এমন হয়! আরেফিন বললো, তুমি সবই জানো। আরজু, তুমি জানো, তোমাকে আমি ভালোবাসি। তোমাকে আমার জীবনে চেয়েছি। এখনো চাই। না, অফিসে এর বেশি বলা যায় না। যদি হাফিজের সঙ্গে সম্ভবই না হয়, আমি তো আছি। চিবুক বাঁকিয়ে আরজু বললো, একটু বেশি হয়ে গেলো না? মানে? আবার মানে? তুমি আমার কথা বিশ্বাস করছো না? পুরুষকে বিশ্বাস আছে? কেন, তুমি পুরুষ নও বলছো? পুরুষ আমার চেনা হয়ে গেছে। মানে? এবার আর তাকে টুকলোনা আরজু। চোখ ভরে তার পানি চলে এলো। বললো, পুরুষ কি চায় তা আমার জানা হয়ে গেছে। বিয়ের দেড় মাসে আমার দেড় যুগ বয়স হয়ে গেছে, আরেফিন। ভুল, আমি ভুল করেছি তোমাকে ফিরিয়ে দিয়ে। আরেফিনের ভেতরটা যেন নদীর বানে দুকূল ভরে উঠলো। বললো, ফিরিয়েই তো দাও নি। এইতো তুমি এসেছো। তোমাকেই যে একমাত্র ভালোবাসি, সে কথা নিশ্চয় তুমি জেনে এসেছো, আরজু। আর তুমি? আমিও তো তোমাকে ভালোবাসি। তুমি হারাওনি। হারিয়ে যেতে পারো না তুমি। আমার যা ছিলো তোমার জন্যে এখনো আছে। সবই আছে। চলো, বেরোই। তুমি একটু বোসো। আমি এমডি সাহেবের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে আসি। না, ছুটি নিতে হবেনা। আমি বরং একটু ঘুরে আসি। কোথায় যাবে? বারে, কোথায় আর যাবো? শপিংয়ে। বাবা -মার জন্য কিছু কেনাকাটা করবো। তারপর তোমার অফিসের নিচে দাঁড়াবো। পাঁচটার সময়। আমাকে নিয়ে বাসে তুলে দিবে। হাফিজের বুকে মাথা রেখে আরজু টেবিল বাতিটা নিভিয়ে দিয়ে বললো, আচ্ছা, তোমার মনে কোনো কৌতুহল নেই? হিংসে নেই? কেন? বারে, আমার তো একটা অতীত থাকতে পারে। আরজুর ব্রা-য়ের হুক খুলতে খুলতে হাফিজ বললো, অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি আমি পছন্দ করি না। এ কথা তো রোজ একবার করে বলছো। সত্যিই অতীত নিয়ে তোমার কোনো কৌতুহল নেই? বলতে বলতে আরজু নিজেই তার সায়াম থেকে নিজেকে মুক্ত করে ফেললো। তার পিঠের ওপর হাত রেখে হাফিজ বললো, অতীত মানেই অতীত। যা কিছু এখানে নেই, সেটাই অতীত। কিন্তু অতীত কি বিদায় নেয়? তোমার কোনো অতীত নেই? সে কি নেই? হারিয়ে গেছে? আরজুর ওপরে লম্বমান হলো হাফিজ শাহ। এই আমাদের অতীত, এই আমাদের বর্তমান। ভবিষ্যৎ? আরজু হাফিজের জন্য প্রসারিত হতে হতে, সহজ সুগম হয়ে উঠতে উঠতে, হাফিজের পিঠ দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আবার জিজ্ঞেস করলো, ভবিষ্যৎ? কিম্বা সেটি প্রশ্ন নয়, হাওয়া শুধু। কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসার একটি ধ্বনিমাত্র। অনেকক্ষণ পর আরজু বললো, ভালোবাসা তো? সন্দেহ আছে? আছে তো। উত্তর দিলো না হাফিজ। পিচ্ছিল গভীরে সে এখন প্রবেশ করতে মনযোগী। যেন একটা অংক তার হাতে সেইটে করে ফেলতে হবে। আরজু বললো, আমাকে নিয়ে ভয় হয়না? না। একবারও মনে হয় না, আমি নাও থাকতে পারি? না। মনে হয় না, আমি কাউকে ভালোবেসেছি, এখনো বাসি? চুপ করো তো! ধমক দিয়ে ওঠে হাফিজ। আর কোনো কথা বলে না আরজু। অনেকক্ষণ পর হাফিজ নেমে যেতে যেতে বললো, তুমি আমাকে পরীক্ষা করছিলে, না? না-না আরজু প্রবল মাথা নেড়ে পাশ ফিরে শুলো। চোখ ভরে পানি এলো তার। এতোটা কঠিন পরীক্ষা করা তার উচিত হয়নি। আরেফিন কি এখনো দাঁড়িয়ে আছে তার অফিসের নিচে? পাঁচটা থেকে এখন অবধি? রাত কতো এখন? ঘড়িটা দেখে নিলো সে। রাত সাড়ে এগারোটা! বাইরে ও কিসের শব্দ? বৃষ্টির? নাকি তার কান্নার? আরেফিন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরছিলো। আরজু তো বলেছিলো, নাইট কোচ ছাড়বে সন্ধে ছ’টায়। না, ছ’টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি সে। পৌনে ছ’টাতেই আরজুর জন্য অপেক্ষা করে ছেড়ে দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা করেছিলো। বাড়ির দিকে? হ্যাঁ, বাড়ির দিকেই, কিন্তু বাড়িতে নয়। একটা রেস্তোঁরায় চুপ করে বসেছিলো সে। রাতের খাবারও খেয়ে নিয়েছিলো সেখানে। তারপর রাত সাড়ে এগারোটায় যখন রেস্তোঁরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো, যখন টেবিল-চেয়ার গুটিয়ে বেয়ারাগুলো নিভিয়ে দিচ্ছিলো বাতি, তখন তার মনে হয়েছিলো, একটি জীবন ছিলো, এখন শেষ হয়ে যাচ্ছে। বেরিয়েই বৃষ্টি। আচ্ছা, তবে ভেজা যাক বৃষ্টিতে। নিজে সে কাঁদতে না পারলেও আকাশটা তো কাঁদছে! কাঁদুক। আরেফিন নিজেকেই বলতে বলতে বাড়ি ফিরলো, আমি কাঁদছিনা। কিন্তু নিজের ভেতরে এতো আনন্দ হঠাৎ হচ্ছে কেন? আরেফিন বুঝতে পারলোনা। বৃষ্টি তে ভিজতে ভিজতে খুব তর্ক করলো নিজের সাথে। হাফিজের সঙ্গে আর সম্ভব নয়– আরজু তাকে এখনো ভালোবাসে বলে? কিন্তু এটাও তো পরিণতিহীন। আরজু তো পাঁচটার সময় আসেনি। তবে? তবে কোথা থেকে এতো আনন্দ আসছে তাঁর? এখনো আরজুকে সে জীবনের ভেতরে নিতে পারে, এই কথাটি স্পষ্ট করে বলতে পেরেছিলো বলেই কি? টপটপ করে বৃষ্টির পানি পোড়ছীলো তার মাথা বেয়ে, শরীর ভিজিয়ে। জামা ট্রাউজার সপসপ করছে। আহ, জ্বর না এলেই হয়। পা টেনে টেনে চলেছে সে। আহ, জ্বর একটা আসবেই। আসুক জ্বর। জ্বর এলে তবু সে কাঁতরে উঠতে পারবে। প্রবল তুমুল একটা জ্বর আকাঙ্ক্ষা করতে করতে আরেফিন দরজার তালা খুললো। ঘরের ভেতরে বিছানাটা দেখেই তার চোখের ভেতর ঝাঁপিয়ে পড়লো আরজু। কপালে সবুজ টিপ, টিপের ভেতরে লালবিন্দু। শুধু আরজু নয়, হাফিজও। হাফিজকে সে কখনোই দেখিনি। তবু দেখে উঠলো স্পষ্ট। একটা দেহ। দুটি দেহ। নগ্ন। সংলগ্ন। কয়েক মুহূর্তের জন্য কান্না পেলো তার। ছবিটা হঠাৎ মিলিয়ে গেলো। রয়ে গেলো কান্নাটিই শুধু। এবং বৃষ্টি। বৃষ্টিও সারারাত তাঁর সঙ্গে কাঁদতে লাগলো।