পানির ঘাটতি পূরণে দৈনিক কতটুকু পানি পান করবেন?

আসিফ করিম:

গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সবার। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে সূর্যের তাপ। তাপদাহের জেরে ঘেমেনেয়ে একাকার। সেইসাথে চলছে রমজান মাস। সাথে আছে লোডশেডিং। বাইরে বের হলে যেমন রোদের তাপ, ঘরেও তেমন চাপা গরম। জীবিকার তাগিদে সারাদিন পাখা কিংবা এসির নিচে বসে থাকারও উপায় নেই; রোদে পুড়ে ঘামে ভিজে হলেও বাইরে বের হওয়াটা নিয়মিত রুটিন । শরীর থেকে যে পানি বের হচ্ছে তার ঘাটতি পূরণের জন্য পানির বোতল সাথে রাখার বিকল্প নেই।

কতটুকু পানি পান করবেন:

পানির এই শূন্যতা কাটিয়ে উঠে দেহের কার্যকারিতা অক্ষুন্ন রাখতে ঠিক কতটা পানি আমাকে খেতেই হবে? অন্য কোনও বিকল্প রয়েছে কি হাতে, এই সম্পর্কে কোনও সঠিক তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। তাই কখনো পানির ঘাটতি পড়ে কিংবা পানিপানের আধিক্য হেতু নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। পানিস্বল্পতা রোধে প্রতিদিন ঠিক কতটুকু পানি পান করতে হবে এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা বাঞ্চনীয়।

ভারতীয় পুষ্টিবিদ মালবিকা দত্তের মতে, ‘‘ব্যাক্তি ভেদে পানির চাহিদা একেক জনের জন্য একেক রকম। এই পরিমাণটা ২ থেকে ৪ লিটারের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। কিন্তু রুটিনের হেরফের হলে একই ব্যাক্তির ক্ষেত্রে পানির চাহিদার পরিমান বদলে যায়। ঘরোয়া পরিবেশে তাঁর চাহিদা একরকম আবার ঘরের বাইরে আরেক রকম। তবে তৃষ্ণার্ত বোধ করার আগেই জলের জোগান শরীরের পক্ষে জরুরি। আর পানিশূন্যতা থেকে বাঁচতে শরীর থেকে যে পরিমাণ জল বের হচ্ছে, তার সমপরিমাণ পানির সরবরাহ শরীরের জন্য জরুরি।’’‌

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ি, এক জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দিনে খেতে হবে ২.৭ লিটার জল। মহিলাদের ক্ষেত্রে এ পরিমান আরও এক লিটার বেশি, অর্থাৎ কমপক্ষে ৩.৭  লিটার।

শরীরে পানির ঘাটতি কিভাবে বুঝবেন:

মূত্র ত্যাগের সময় লক্ষ্য করুন মূত্রের রং এ কোনো পরিবর্তন দেখতে পান কিনা। মূত্রের রং যদি হলুদাভ হয়ে আসে তবে বুঝবেন শরীরে পানিশূন্যতা। এছাড়াও আরো বিভিন্ন উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। যেমন- শরীর দূর্বল হয়ে আসা, গা ঝিম ঝিম করা, পেশিতে ক্রাম্প, ক্লান্তি প্রভৃতি পানিশূন্যতার লক্ষন।

দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে পানি খাওয়ার প্রতি আমাদের খেয়াল খুবই কম থাকে। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পানি আমাদের শরীর পায় না। আবার শিশুদেরকে সবসময় ধরেবেঁধে পানি খাওয়ানো কঠিন হয়ে যায়। বড়দের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য কখনও সখনও। এ দিকে শরীরে পানির ঘাটতি হলে মহা বিপদ। শসা বা তরমুজের মত ফলগুলি সে ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে । মুসুর ডালের পানি বা ডাবের পানিও খেতে পারেন। এতে শরীরে পানির জোগান যথেষ্ট বাড়বে। সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও যোগ হবে। তবে রাস্তার লস্যি, কাটা ফলের শরবত! এগুলো থেকে দূরে থাকুন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, আনন্দবাজার।

ফাস্ট বিডিনিউজ২৪/কেএস