পেটে মেদ বাড়ে যে ৮টি কারণে, জেনে নিন

শাহরিয়ার আরাফাত ●
মানুষের দেহের সব থেকে দ্রুত মেদ জমে পেটে। পেটের বিভিন্ন অংশে এই ‘ফ্যাট’ জমে, যার থেকে নানা রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। পেটের মেদ হৃদ রোগের সাথে জড়িত সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, কিডনির রোগ এমনকি ক্যান্সার হবার সম্ভাবনাও থাকে। জমাকৃত স্থান থেকে পেটের মেদ কমানো বেশ কঠিন একটি কাজ। তাই কিভাবে এই পেটের মেদ থেকে পরিত্রাণ পাবেন তা জানার জন্য আগে কেন পেটের মেদ সৃষ্টি হয় তা জানা থাকলে অনেক উপকৃত হবেন। শুধুমাত্র খাওয়াদাওয়াই নয়, পেটের মেদ সৃষ্টি হতে পারে আরও নানা কারণে। দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে—

১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

সারা দিনে ঘুরে ফিরে কাজের ফাঁকে কিছু-না-কিছু খাওয়া হয়েই যায় আমাদের। কিন্তু খাবারগুলি মুখরোচক স্ন্যাক্স, প্যাকেট ও প্রক্রিয়াজাত করা খাবার হলেই সমস্যার সৃষ্টি করবে। ফাস্ট ফুড খেতে মুখরোচক হলেও স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ঠিক নয়। তবে এর তার বদলে আপনি কিছু ফল বা স্যালাদ খেতে পারেন, এতে উপকার পাবেন।

২. বিষণ্ণতা

করনেল ইউনিভারসিটির বিশেষজ্ঞদের মতে, নেগেটিভ ইমোশান থাকলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা হয়। যা শরীরে পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। বিষণ্ণতায় ভুগলে তখন দেহে কর্টিসল নামক একপ্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়। আর এই কর্টিসল হরমোন পেটের চারদিকে চর্বি জমাতে সাহায্য করে পেটের মেদ বৃদ্ধি করে।

৩. রাতে দেরি করে খাওয়া

রাতের খাবার খাওয়ার পর তা হজম হওয়ার জন্য বেশ কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। রাতে ভরপেট খাবার খেয়েই সাথে সাথেই ঘুমাতে যাবেন না। খাবার খেয়েই ঘুমাতে গেলে সেই খাবারটা আর সঠিকভাবে হজম হওয়ার সময় পায়না এবং দেহে খাদ্যোপাদানগুলোর সঠিক শরীরের অন্যান্য অংশে বণ্টন হয় না। এর ফলে তা পেটের মেদ হিসেবেই জমা হয়।

৪. কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস খাওয়া

তৃষ্ণা পেলে আমরা অনেকেই সফট ড্রিঙ্কস পান করে থাকি। এতে অনেক বেশি পরিমাণ চিনি থাকার ফলে এগুলো থাকে ক্যালোরিতে পরিপূর্ণ। এতে যে অত্যাধিক ক্যালোরি রয়েছে যা শরীরের মেদ বাড়িয়ে দেয়।

৫. সময়মত খাবার না খাওয়া

রোগা হতে গিয়ে অনেকেই খাওয়াদাওয়া কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, খাবারের পরিমাণ কমালে এতে করে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, বেশি ক্ষণ না খেয়ে থাকলেও পেটে মেদ জমে। তাই এই অবস্থা এড়ানোর জন্য সঠিক সময় এবং সঠিক বিরতিতে খাবার গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৬. অনেকক্ষণ বসে থাকলে

আমরা অনেকেই অফিসে বা অন্য কোনও কাজ করার সময় এক ভাবে অনেকক্ষণ বসে থাকি, এতে করে পেটে মেদ জমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর নিজের সিট থেকে উঠে খানিকটা হাঁটাচলা করা উচিত।

৭. খেতে পারেন দই

নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারণ এতে রয়েছে কিছু ‘উপকারি ব্যাক্টেরিয়া’, যা হজমে সাহায্য করে। ফলে পেটে মেদ বাড়ার সুযোগ হয় না।

৮. বংশগত কারনে

বংশগত কারণেও অনেক সময় পেটের মেদ হতে পারে। বাবা মায়ের কারো পেট মেদ থাকলে ছেলে মেয়েদের মাঝেও পেটের মেদ হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যেতে পারে। তাই সেসব ক্ষেত্রে অবশ্যই একটু অতিরিক্ত মনোযোগী হতে হবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধারার প্রতি।

ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/এআইএফ