বাঁচানো গেলো না নুসরাতকে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রের আলিম পরীক্ষার্থী অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি মারা গেছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নুসরাতকে বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি নুসরাতকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না।

তিনি বলেন, আগুনে তার শরীরের প্রায় ৮০শতাংশই পুড়ে যায়। প্রথম থেকেই তার অবস্থা ছিলো আশঙ্কাজনক। তার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে আজকেও আমাদের কথা হয়েছিল। আজ রাতে তার মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে। সকালে ময়নাতদন্তের পর পুলিশ তার স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করবে।

এর আগে নুসরাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টও তেমন কাজ করছিল না। এর কিছু পরেই চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

নুসরাতের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এক শোক বার্তা প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭মার্চ নুসরাত ওই মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ তুললে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে ওই অধ্যক্ষ কারাগারে আছেন।

৬ এপ্রিল সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই ভবনের চার তলায় যান।

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে দাহ্য পেট্রোলিয়াম ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

ফাস্ট বিডিনিউজ২৪/ কেএস