• আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ; ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
  • মুকাল্লিদদের তারাবীহর সালাত নিয়ে জালিয়াতী (শেষ পর্ব)

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    Madeena-3

    রিজওয়ান সালাফি ● মাযহাবী গোলামী মানুষকে অন্ধ ও বধীর করে দেয় ।
    *
    উপমহাদেশের মাযহাবী আলেমগনের অনেকে উক্ত রোগে আক্রান্ত ।
    *
    নিজেরা বিভ্রান্ত হয়েছেন, অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করেছেন ।
    *
    কোনভাবেই যখন সহীহ হাদীসের হুকুম খন্ডন করা সম্ভব হয়নি তখন হাদীসের শব্দ, বাক্য, শিরোনাম বিকৃতি করেছে ।
    *
    হাদীসের শব্দ পরিবর্তন, বৃদ্ধিকরন, হ্রাসকরন সর্বক্ষেত্রেই উৎসাহ প্রদান করেছে মাযহাবী সংকীর্নতা ।
    *
    শুধু তারাবীহ সংক্রান্ত নিম্নে কয়েকটি উদাহরন পেশ করা হল –
    *
    ১ নং জালিয়াতী :
    ——————————-
    হাদীসের প্রধান ৬টি গ্রন্থে ২০ রাকআতের কোন হাদীস নেই ।
    *
    অথচ আবু দাউদের উদ্বৃতি পেশ করা হয়ে থাকে ।
    *
    কারন হল দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শায়খুল হিন্দ নামে খ্যাত মাওলানা মাহমুদুল হাসান সুনানে আবু দাউদের একটি হাদীসের শব্দ পরিবর্তন করেছেন ।
    *
    যদিও হাদীসটি ইমাম আবু দাউদসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগনের নিকট যঈফ(দুর্বল) ।
    *
    মূল হাদীসটি হল –
    عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، جَمَعَ النَّاسَ عَلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ فَكَانَ يُصَلِّي لَهُمْ عِشْرِينَ لَيْلَةً
    হাসান বাসরী (রহঃ)
    ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (তারাবীহ সলাতের জন্য) উবাই ইবনু কা‘বের পিছনে লোকদের জামা‘আতবদ্ধ করলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে বিশ রাত সলাত আদায় করলেন। (যঈফ আবু দাউদ হা/১৪২৯, সনদ দুর্বল)
    *
    উক্ত হাদীসের টীকায় মাওলানা মাহমুদুল হাসান নিজের পক্ষ থেকে শব্দ তৈরী করে বলেছেন, অন্য বর্ননায় عِشْرِينَ ر كعة ‘২০ রাকআত’ রয়েছে ।
    *
    এই বিকৃত শব্দেই দিল্লী ‘মুজতবাঈ প্রেস’ আবু দাউদ ছাপায় ।
    *
    অত:পর মাওলানা খায়রুল হাসান আবু দাউদ শরীফের টীকা লিখতে গিয়ে عِشْرِينَ ر كعة ‘২০ রাকআত’ মিথ্যা কথাটুকু মূল হাদীসের সাথে যোগ করেন এবং হাদীসের মূল শব্দ عِشْرِينَ لَيْلَةً ‘২০ রাত’ টীকায় যোগ করেন । যা দিল্লী মজীদী প্রেস থেকে ছাপানো হয় ।
    *
    উক্ত সংস্করনটি ১৯৮৫ সালে দেওবন্দে ‘আছাহহুল মাতাবে’ প্রেস কর্তৃক ছাপা হয় । যা আজও পর্যন্ত সমগ্র ভারত উপমহাদেশে পড়ানো হচ্ছে ।(দেখুন আবু দাউদ পৃ:২০২, সালাত অধ্যায়, বিতর সালাতে কুনুত অনুচ্ছেদ)
    *
    অথচ তার পূর্বে ১২৬৪ হিজরীতে দিল্লী মুহাম্মদী প্রেস, ১২৭২ হিজরীতে দিল্লী কাদেরী প্রেসসহ মধ্যপ্রাচ্যে তথা মিশর, সিরিয়া, লেবানন, কুয়েত, সৌদি আরব প্রভৃতি রাষ্ট্রে প্রকাশিত আবু দাউদের কোন একটিতেও ঐ মিথ্যা শব্দ নেই ।

    মুকাল্লিদদের তারাবীহর সালাত নিয়ে জালিয়াতী পর্ব – ২ :
    ———————————————————————————————————————————
    ইমাম বুখারী (র:) كتابصلاةالتراوبع ‘তারাবীহর সালাতের অধ্যায়’ নামে সহীহ বুখারীতে একটি শিরোনাম উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে ১১ রাকআতের মা আয়েশা (রা:) এর হাদীস বর্ননা করেছেন ।
    *
    ইমাম বুখারী (র:) উক্ত শিরোনাম উল্লেখ করলেও ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশে ছাপা সহীহ বুখারী থেকে তা বাদ দেয়া হয়েছে । কারন হল —
    *
    প্রথমত :
    ————–
    মুসলিম সমাজে মিথ্যাচার করা হয় যে, ‘আয়েশা (রা:) এর উক্ত হাদীসে তাহাজ্জুদের কথা বলা হয়েছে’, ‘তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পৃথক সালাত’, ‘তারাবীহ ২০ রাকআত আর তাহাজ্জুদ ১১ রাকআত’ ইত্যাদি ইত্যাদি ।
    *
    কিন্তু ইমাম বুখারীর শিরোনামের মাধ্যমে উক্ত দাবীগুলো মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে ।
    *
    দ্বিতীয়ত :
    —————
    সহীহ বুখারী পাঠদান ও পাঠগ্রহনকারী লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-ছাত্র ও ওলামায়ে কেরামকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে ।
    *
    কারন ইমাম বুখারীর বিষয়টি যখন তারা বুঝতে পারবেন তখন তাদের নিকট বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, তারাবীহর সালাত ৮ রাকআত ২০ রাকআত নয় ।
    *
    তাই এই ন্যক্কারজনক কৌশল গ্রহন করা হয়েছে ।
    *
    আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ছলচাতুরি করে ইসলামী শরীয়তকে কখনো গোপন রাখা যায়না ।
    *
    ছহীহ বুখারী শুধু উপমহাদেশেই ছাপা হয় না; বরং বিশ্বের বহু দেশে মহান আল্লাহ তার ছাপানোর ব্যবস্থা করে রেখেছেন ।
    *
    তাই সিরিয়া, মিশর, কুয়েত, লেবানন, সৌদি আরব সহ অন্যান্য দেশে সহীহ বুখারী যত বার ছাপানো হয়েছে সেখানেই উক্ত শিরোনাম বহাল রয়েছে, তা পরাতন হোক আর নতুন হোক ।
    *
    আফসোস হক্ব গোপন করার এই কৌশলী ব্যবসা আর কতদিন চলবে ?
    এই ধান্দাবাজি আর চলতে দেয়া যায়না ।
    এখনই সময় এসেছে এ ধরনের কুটকৌশলের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে সাধারন মুসলমানদের সচেতন করার ।
    *
    *
    ধরুন আমি আপনাকে প্রশ্ন করলাম যে রমজান মাসে আপনি কি রুটি খান?
    তখন আপনি উত্তর দিলেন যে আপনি রমজান ও রমজানের বাইরে দুটির বেশি রুটি খান না।
    তাহলে এ উত্তরটা কি আপনার শুধু রমজানের বাইরের মাসের রুটি খাবার সংখ্যা হবে ?
    নাকি রমজান সহ যে কোন সময়ের রুটি খাওয়ার সংখ্যা হবে?
    *
    *
    আরো একটি বিষয় হল যদি তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পৃথক সালাতই হত তাহলে মা আয়েশা (রা:) ‘রাসূল (স:) ১১ রাকআতের বেশি পড়তেন না’ এই কথা না বলে বলতেন ৩১ রাকআতের বেশি পড়তেন না ।
    *
    মূলত তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত তাই মা আয়েশা (রা:) ‘রাসূল (স:) ১১ রাকআতের বেশি পড়তেন না’ এই কথা বলেছেন ।
    *
    *
    ২০ রাকআতের অযৌক্তিক দাবীকে জোর়পূর্বক সমাজে টিকিয়ে রাখার হীন স্বার্থে উপরিউক্ত অপকৌশল ও প্রতারনার ফাঁদ পাতা হয়েছে যুগে যুগে । সেই ফাঁদেই আটকা পড়েছে সরলপ্রান মুসলিম জনতা ।
    *
    তথাকথিত মাযহাবী গোলামীই এ সকল অনৈক্য ও বিভ্রান্তির মূল কারন ।
    *
    শীআরা দলীয় স্বার্থে লক্ষ লক্ষ হাদীস জাল করেছে ।
    *
    আর মাযহাবীরা মাযহাবকে টিকিয়ে রাখার জন্য হাদীসের বিকৃিতি ঘটিয়েছে ।
    *
    রাসূল (স:) এর হাদীস মওজুদ থাকতে বিভিন্ন মিথ্যা কৌশলে তাকে এড়িয়ে যাওয়া অতীব জঘন্য কর্ম । এটা হাদীসের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার শামিল ।

    ( সমাপ্ত)

    (এই লেখার ভিন্ন মত ছাপা হবে)

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/ই ই

    Close