রমজানের রোজা আল্লাহ তা’য়ালার অশেষ নিয়ামত। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের জন্য ইসলাম কে অনেক সহজ করে দিয়েছেন। রোজা রেখে কিছু কিছু কাজ রয়েছে যেসব কাজ করলে রোজা ভাঙ্গে না।  আমরা অনেক সময় দ্বিধায় থাকি যে এ কাজগুলো করলে রোজা ভাঙ্গবে কি না। তাই চলুন দেখে আসি কোন কাজগুলো করলে রোজা ভাঙ্গবে না…

যে কাজগুলো করলে রোজা ভাঙ্গবে না:

১. ভুলে পানাহার করলে

কেউ যদি ভুলে কোনো কিছু খেয়ে ফেলে বা পান করে ফেলে তাহলে তার রোজা ভাঙ্গবে না। তবে মনে পড়া মাত্রই মুখের মধ্যে কিছু থাকলে তা ফেলে দিতে হবে।

২. রক্ত পরীক্ষা করলে

বেশিরভাগ আলেমগণ বলেন ইফতারের পর রক্ত দেওয়ার জন্য। তবে কোনো কারণে যদি করতেই হয় তাহলে যদি অল্প রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করা হয় তাহলে সমস্যা নেই। এ ক্ষেত্রে পরিমাপ হচ্ছে এক কাপ। যদি রক্ত এক কাপের বেশি নেওয়া হয় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি ছোট সিরিঞ্জ দিয়ে নেওয়া হয় তাহলে তার রোজা ভাঙ্গবে না।

৩. অনিচ্ছাকৃত বমি করা

কেউ যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে বমি করে তাহলে তার রোজা ভাঙ্গবে না। তবে যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করে অর্থাৎ গলায় আঙ্গুল দিয়ে বা অন্য কোন ভাবে বমি করে তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে।

৪. নাক দিয়ে রক্ত পড়লে

যদি রক্ত এক কাপের বেশি না বের হয় তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। এ ক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে নাক চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করে ফেলা।

৫. দাঁত তুলে ফেললে

রোজা অবস্থায় দাঁত তুললে রোজা নষ্ট হয়না। তবে রক্ত বের হলে তা তুলা বা অন্য কিছু দ্বারা বন্ধ করে ফেলতে হবে যেন বেশি রক্ত না বের হয়।

৬. সাধারণ ইনজেকশন গ্রহণ করলে

ঐ সকল ইনজেকশনসমূহ যেগুলো শরীরে পুষ্টি যোগায় কিংবা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে যে শক্তি অর্জিত হয় বা ঐ সকল ইনজেকশনসমূহ যা পেটে প্রবেশ করবে এসব ইনজেকশন গ্রহণ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এ ছাড়া অন্য কোনো ইনজেকশন গ্রহণ করলে রোজা ভাঙ্গবে না।

৭. টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে

রোজা রেখে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত না মাজাই উত্তম। এক্ষেত্রে সেহরি খাওয়ার পরে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিস্কার করে সারাদিন মেসওয়াক করাই উত্তম। এটা একটি সুন্নাত কাজ। তবে কেউ যদি দিনের বেলা টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজে তাহলে তার রোজা ভাঙ্গবে না।

৮. চোখে ঔষধ দিলে

যারা চোখে সমস্যার কারণে চোখে ঔষধ দেন তাদের রোজা ভাঙ্গবে না।

আরও পড়ুনযে সাতটি কাজ করলে রোজা হবে না

৯. কানে ঔষধ দিলে

যারা কানে সমস্যার কারণে কানে ঔষধ দেন তাদের রোজা ভাঙ্গবে না।

১০. চোখে সুরমা ব্যবহার করলে

চোখে সুরমা ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয়না।

১১. ইনসুলিন গ্রহণ করলে

যারা ডায়াবেটিস এর রোগী তাদের দিনের বেলা যদি ইনসুলিন গ্রহণ করার দরকার হয় সেক্ষেত্রে ইনসুলিন গ্রহণ করলে রোজা ভাঙ্গবে না।

১২. ইনহেলার নেওয়া

যারা এজমা এর রোগী তাদের ইনহেলার নেওয়ার প্রয়োজন হয়। সাধারণ শ্বাস প্রশ্বাস জনিত সমস্যার কারণে যে ইনহেলার নেওয়া হয় তাতে রোজা নষ্ট হয়না। তবে ইনহেলার যদি লিকুইড হয় এবং তা যদি পাকস্থলীতে প্রবেশ করে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

১৩. পারফিউম বা আতর ব্যবহার

পারফিউম বা আতর ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয়না।

১৪. সাপোজিটর গ্রহণ করলে

সাপোজিটর হল এক ধরনের ঔষধ। তরল বা বায়বীয় ঔষধ উপাদান যা পায়ুপথে প্রয়োগ করা হয়। এটি গ্রহণ করলে রোজা ভাঙ্গবে না।

১৫. জরুরি অবস্থায় খাবারের স্বাদ নেওয়া

এই মাসয়ালাটি যারা রান্না করেন এবং বাবুর্চি তাদের জন্য। যেমন কেউ যদি ৫০০ মানুষের জন্য ইফতার তৈরি করে এবং তাতে ঝাল বা লবণ বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ৫০০ মানুষের কষ্ট হবে এমন জরুরি অবস্থায় খাবারের স্বাদ নেওয়া হলে রোজা ভাঙ্গবে না। এক্ষেত্রে খাবারের সামান্য অংশ জিহ্বার অগ্রভাগে নিয়ে যাচাই করে সাথে সাথে থুথু ফেলে কুলি করে নিতে হবে।

ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/এআইএফ/কেএস