রোকেয়া হলের জিএস প্রমির সহযোগিতায় সাহিত্য সংসদের প্রথম পাঠচক্র অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধি, ঢাবি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের জন্য ৫টি হলের মধ্যে অন্যতম রোকেয়া হল। গত ১১ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার রোকেয়া হল সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পাঠচক্র। পাঠচক্রের বিষয় ছিলো লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ্ কায়সার রচিত উপন্যাস ‘সারেং বৌ’।

হল সাহিত্য সংসদের অনবদ্য এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন রোকেয়া হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সায়মা আক্তার প্রমি৷ উক্ত আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রমি পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৬টি বইয়ের ব্যবস্থা করেছেন। হল সাহিত্য সংসদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগিতা করায় অত্র হলের শিক্ষার্থীদের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন প্রমি। এমন আয়োজনে পরিবর্তিতেও প্রমি পাশে থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী মাহবুবা স্মৃতি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন-
“গতকাল রাতেই পোস্টটা দেয়ার দরকার ছিল (যদিও তানি তামান্না দিয়েছে পোস্ট)। কিন্তু অবসাদ চিত্তে আর পেরে উঠিনি। অনেক অনেক ভালো লাগার মুহূর্ত নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আর সেটা হলো রোকেয়া হল সাহিত্য সংসদের পাঠচক্রের ১ম আয়োজন। আমাদের রোকেয়া হল সাহিত্য সংসদের এটা ছিল ১ম পাঠচক্র। প্রথমে একটু হতাশা কাজ করলেও পরে আপনাদের উপস্থিতি ও পাঠচক্রে অংশগ্রহণ আমাদের সাহস জুগিয়েছে। আমরা আশা করতেই পারি,পরবর্তী পাঠচক্রের প্রোগামগুলোসহ বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায় গতকালকের মতোই আপনাদের সব সময় পাশে পাবো। কারণ আপনারা না থাকলে রোকেয়া হল সাহিত্য সংসদকে আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই বেশি দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব না।
একই সাথে রোকেয়া হল সংসদের সায়মা আক্তার প্রমি যাঁর কথা না বললে ভারী অন্যায় হয়ে যাবে। প্রমিকে আমার অনেক বেশি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা আর স্নেহ।কারণ প্রোগ্রামটার এতো সুন্দর আয়োজন কোনোভাবেই আমার পক্ষে একা সম্ভব ছিলোনা যদি না প্রমি আমাকে সাপোর্ট দিতো। আমি অনেক বেশিই অভিভূত হয়েছি ওঁর এই আন্তরিকতায়। আরেকটা বড় কাজ যেটা করেছে সেটা হলো প্রমি পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৬টা বইয়ের ব্যবস্থা করেছে। ভাবা যায়? পুরস্কৃত হন প্রমা দেবনাথ, মাহবুবা সাম্মি, তানজিন, সৌমি সহ আরো ২ জন। যেখানে আমরা ৩টা বই রাখবো/রাখতে পারবো কিনা শঙ্কিত ছিলাম সেখানে আপুদের এভাবে অনুপ্রেরণা দিয়ে অনেক বড় একটা উপকার প্রমি আমাদের করেছে। প্রমির জন্য সবসময় আমার ভালোবাসা, শুভকামনা আর দোয়া থাকবে। আশা করি নেক্সট টাইমেও প্রমিকে আমাদের সাহিত্য সংসদে পাবো। ওহ, সবার জন্য চকলেটও ছিল প্রমির পক্ষ থেকে।”

হলের শিক্ষার্থীদের এমন অভিব্যক্তিতে প্রমিও বেশ উচ্ছ্বসিত এবং পরবর্তীতে এমন আয়োজনের সাথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন৷

এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রমি বলেন, ‘আমি জানি না, আমি কতটুকু করতে পেরেছি অথবা অনুপ্রেরণা দিতে পেরেছি। তবে কথা দিচ্ছি, মেধা ও মনন বিকাশের পথ সুন্দর করতে সাথে থাকব। আমার মনে হয় আমাদের শুধু ভার্চুয়াল জগৎ কেন্দ্রীক না হয়ে সাহিত্য চর্চায়ও একটু মনোনিবেশ করা উচিত। এটা আমাদের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, কর্মক্ষমতা বাড়ায়, মানসিক চাপ কমায়, স্মৃতিশক্তি প্রখর করে, কল্পনা শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, নিজের ভুলগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে পারি আমরা ও যৌক্তিক চিন্তায় দক্ষ হতে পারি। শুধু রোকেয়া হল সাহিত্য সংসদ নয়৷ অত্র হলের ছাত্রীবোনদের মেধা, মনন ও প্রগতিশীল ভাবনা আরো সমৃদ্ধ করতে যে যে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো কাজ করবে তাদের পাশে থাকতে আমি বদ্ধপরিকর। আমি রোকেয়া হল সাহিত্য সংসদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি৷ আসুন আমরা বই পড়ার অভ্যাস করি, নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করি।’

 

ফাস্ট বিডিনিউজ২৪/কেএস