‘হাসি মুখ ও রাঙা হাসি’

হাসি মুখ ও রাঙা হাসি

কর্মসূচির নাম ‘হাসি মুখ ও রাঙা হাসি’। কর্মসূচিটির নাম শুনলেই যেন এক অন্য রকম ভালোলাগা-ভালোবাসা কাজ করে। নামের সঙ্গে কাজও দারুণ। সমাজের অসহায়-সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক সংগঠন ‘White Black’র বন্ধুদের ও গুটিকয়েক সুন্দর মনের মানুষের অর্থায়নে কর্মসূচিটি পালিত হয়েছে। ‘White Black’র সদস্যরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের হাতে খুব বেশি পরিমাণে টাকা-পয়সা থাকে না। তবুও তাঁরা নিজেদের টাকায় যতটুকু সম্ভব অসহায় শিশুদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। ঈদে যেন এক বাড়তি সুখ, বাড়তি তৃপ্তি নিয়ে এসেছে।

‘আমরা খুব ভালোবাসি, অসহায়দের মিষ্টি হাসি’ ব্রতকে বুকে লালন করে নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের বিশনন্দীর মেঘনাপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক সংগঠন ‘White Black’র উদ্যোগে শিশুদের মধ্যে নতুন জামা ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। গোপালদী ও বিশনন্দীর ২৬ জন শিশুকে নতুন জামা ও খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়।

এদিন ‘White Black’র বন্ধুরা শিশুদের নতুন জামা বিতরণের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এ যেন ঈদের আগেই আরেকটি ঈদ। নতুন জামা পাওয়া গোপালদীর ৪ বছরের বালিকা খাদিজা বলে, ‘আইজকা আমি অনেক খুশি।’

গোপালদী এলাকা থেকে এসেছিলেন সমবয়সী শামীম ও তানভীর। ৯ বছরের শামীম বলে, আমার জীবনে এখনো আমি পাঞ্জাবী পরি নাই। নতুন পাঞ্জাবী পেয়ে আমি অনেক খুশি। তার সাথে সুর মিলিয়ে বিশনন্দীর ১২ বছরের নয়ন বলে, নতুন পাঞ্জাবী পেয়ে খুব ভালো লাগতাছে।’ নতুন জামা নিতে এসেছিল বিশনন্দী গ্রাম থেকে শান্ত, রাকিব, ফরহাদ ও সাব্বির। ওদের ভালো লাগাটাও ছিল অন্য রকম। সদাসদী গ্রামের মেয়ে মীম বলে, ‘নতুন জামা পেয়ে আমার খুব ভালো লাগতাছে। আমি আব্বার কাছে নতুন জামা চাইছিলাম। আব্বা বলছে, পরের ঈদে কিনে দিমু। এখন নতুন জামা পেয়ে খুব খুশি লাগতাছে।’

এদিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশাপাশি সব বন্ধুর মাঝেও ছিল উৎসবের আমেজ। এমন একটি সুন্দর আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে সবাই খুব খুশি। যেমনটা বলছিলেন, মেঘনাপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন বন্ধু আবির, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘White Black’র এমন কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক মহিতুল ইসলাম হিরু বলেন, ‘সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব সবার। অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার শিশুদের সহযোগিতার হাত না বাড়ালে তাদের বিপথগামী হওয়ার শঙ্কা থাকে। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিশুরাই ভবিষ্যতে জাতিকে আলোর পথ দেখাবে।

‘White Black’র উপনেতা সুজন মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, সারাবিশ্বের মুসলমানরা রমজান মাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এখন ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু হত-দরিদ্র, দুঃস্থ-অসহায়দের জীবনে ঈদ খুব সামান্যই খুশির বার্তা নিয়ে আসে। আর আমরা সেই অসহায়দের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই এমন উদ্যোগ নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা প্রতিটি মানুষ যদি একটি করে অসহায়ের দায়িত্ব নেই, তবে একটিও মলিন মুখ আমাদের দেখতে হবে না। সবাই নতুন পোশাকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারবো। সবার প্রতি আমাদের আহ্বান, আমরা যেন একটি করেও অসহায় শিশুর দায়িত্ব নিয়ে ঈদকে আর বেশি রাঙিয়ে দেই।

মেঘনাপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন বলেন, WB সামাজিক সংগঠনটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে WB আমার বিদ্যালয়ে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তা সম্পূণরুপে সফল এবং আমি সত্যিই অভিভূত। ছাত্রছাত্রীরা ঈদ সামগ্রী পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। সামাজিক জীব হিসেবে প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষের উচিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ঈদে WB তাদের যৎসামান্য চেষ্টা দিয়ে অনেক মানুষের পুরোটা হৃদয় জয় করে নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন মহতী কাজে WB এর সাথে আমরাও নিজেকে সামিল করতে চাই।

‘White Black’র পরিচালক অরণ্য সৌরভের পরিচালনায় ঈদ উৎসব আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক মহিতুল ইসলাম হিরু, হাতেখড়ির আড়াইহাজার প্রতিনিধি মোজাম্মেল আহমেদ, হাতেখড়ি ও সাপ্তাহিক আমাদের আড়াইহাজারের ফটো সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, ‘White Black’র বন্ধু আলতাফ হোসেন, আলী আহমেদ রনি, দোলা দাস, লিয়ন কুমার সাহা, আবির হোসেন, হিরন আহমেদ, রায়হান, সজল আহমেদ, ডালিম, কাউছার, সাকিব, আলামিন, ইমতিজা, পিংকি আকতার, নাহিদা, নাদিয়া, রাবেয়া, ফয়সাল আহমেদ, শান্ত আহমেদ প্রমুখ।

আলোচনা শেষে অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেয়াসহ শিশুদের হাত মেহেদীর আলপনায় আঁকা হয়। রাঙা হাসি কর্মসূচি ইমতিজা, পিংকি, রাবেয়া, নাদিয়া, নাহিদা ও হাবিবা শিশুদের মুখে রাঙা হাসির ঝিলিকে সম্পন্ন করে।

ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/ই ই