• আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ; ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
  • হুইসেল বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী বিজয় উৎসব

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●DSC_3989 (1) এবারের বিজয় দিবসে অন্যরকম বিজয় উৎসব পালন করেছে সামাজিক সংগঠন হুইসেল বাংলাদেশ। উৎসবের মূল বিষয় ছিল ‘১১ তে বিজয়’। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শুরু এবং সেই শুরুর হাল ধরা ১১টি সেক্টর বীরদের বীরত্ব গাঁথা। যাদের রক্তের তিলক পড়ে বাংলাদেশ আজ সার্বভৌম রাষ্ট্র।

    সরেজমিনে দেখা যায় গত ১৬ই ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সংগঠনের সদস্যারা বিজয় দিবসে সকাল ৮টা থেকে শুরু করে এই কার্যক্রম। শহীদ মিনারে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানোর পরে শহীদ মিনারে আগত সর্বস্তরের নাগরিকদের কাছে লিফলেট বিতরণ করা হয়। উক্ত লিফলেটে মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

    নাহিয়ান ফারুক হুইসেল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শাখার সদস্য। উনি জানান, মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে অগণিত মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ,সহস্র, নিযুত মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর কান্না, খোঁজ না পাওয়া শত বুদ্ধিজীবীর জীবনের দামে পাওয়া স্বাধীনতা, মানচিত্র, এই দেশ আমার। সে দেশের ললাটে জয়ের তিলক পড়ানোর পথটা তাই সুগম ছিল না। ইতিহাস আমরা সবাই জানি, তবে ইতিহাসের শুরুটা কতজন মনে রেখেছি?

    আরেক সদস্য দীপ্ত বিশ্বাস জানায় গতবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি একই আঙ্গিকে আমাদের ইভেন্ট ছিল ‘ভাষা শহীদ আমরা তোমাদের কতটুকু চিনি?’ যেখানে আমরা তুলে ধরেছিলাম ভাষার জন্য জীবন দেয়া অকুতোভয় সেনানীদের জীবনী।

    কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে সে বলে, সত্যি বলতে কি আমরা শুধু মুখে মুখেই দু’চার লাইনের ইতিহাস জানি কেবল। প্রকৃতপক্ষে আমাদের একটা বড় অংশই ইতিহাসজ্ঞ! আমরা সালাম, রফিক, শফিক, জব্বারের নাম জানি। তারা ভাষা শহীদ জানি, কিন্তু তাদের বাড়ি কই ছিল? কিভাবে তারা ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হলো? কিভাবেই বা তারা শহীদ হলেন? জানি এগুলো!

    কতটুকু পারবো জানি না, আজকের ইভেন্টের মাধ্যমেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর ইতিহাসটাকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলের মনে নতুন করে জড়িয়ে দেয়ার। এ ইতিহাস, এই লড়াই, এ আত্মত্যাগের স্বাধীনতাই যে আমাদের অহংকার।

    রাউজান উপজেলার পশ্চিম বিনাজুরী ও ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর লায়লা কবির ডিগ্রী কলেজেও এই উৎসবের আয়োজন করে হুইসেল বাংলাদেশের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হুইসেল ব্লাডলিংক সেই সাথে হুইসেল ব্লাডলিংকের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসুচিও পালন করা হয়।

    এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন হুইসেল বাংলাদেশের সহ সমন্বয়ক প্রিংয়কা পাল চৌধুরী, বিভাগীয় সমন্বয়ক খন্দকার সোহানুর রহমান সুমিত, চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক তারেকুল ইসলাম তারেক, মিডিয়া উইংস সৈকত চৌধুরী, সুমিত চৌধুরী, মিশু মাহি, তন্ময় চক্রবর্ত্তী, মুহাম্মদ রকিব, নাহিয়ান ফারুক, দিপ্ত বিশ্বাস, হাসান আলিফ, ইশরাত ইশা, আইরিন রুবী, প্রসেনজিত বিশ্বাস, হুইসেল ব্লাডলিঙ্কের প্রধান সমন্বয়ক তাপস বড়ুয়া, মোঃ জিসান, শফিকুল আলম রিয়াদ, সাজ্জাদ হুসাইন, আব্দুর রহমান, ইমন বড়ুয়া, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল হাসান, রাফিয়া হুমায়ুন, শারমিন কবির নিজুম, ইরমান ও নুর হাসি।

    Close