• আজ বৃহস্পতিবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৮ ইং ; ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৫ই জ্বিলকদ, ১৪৩৯ হিজরী
  • ভ্রমন পিপাসুদের জন্য প্রস্তুত চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার

    আশরাফুল ইসলাম, মৌলভীবাজার:

    ঈদকে ঘিরে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা। আর প্রতিবছরে ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির লীলাভূমি হিসাবে পরিচিত পর্যটন জেলা চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স’ান দেখতে সমাগম ঘটে লাখো পর্যটকদের।

    বিশেষ করে নয়নাভিরাম শতাধিক চা বাগান, জীব্যবৈচিত্র্যে বরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, দেশের বৃহত্তম জলরাশি মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, দূর্গম পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে হামহাম জলপ্রপাত, এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, প্রাকৃতিক সুন্দর্যের মাধবপুর লেইক, শ্রীমঙ্গলের স্বাধীনতার বধ্যভুমি, বাইক্কা বিল, আগরের কারখানা, রাবার বাগান, জুড়ির কমলার বাগান, তুর্কি নকশায় নির্মিত শ্রীমঙ্গলের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, মনিপুরি তাঁতশিল্প, খাসিয়াদের চাষকৃত পানের বরজ মৌলভীবাজারের বর্ষিজুড়া ইকোপার্ক  সহ আরো অনেক সুন্দর আকর্ষণীয় জায়গা।

    সৌন্দর্য উপভোগ করতে ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে অভিজাত সব রেষ্টহাউস থেকে শুরু করে ছোট বড় হোটেল রিসোর্টগুলো।

    দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা কিভাবে উপভোগ করতে পারে দৃষ্টি নন্দন এই স্থান গুলো। পর্যটকদের সুবিধার জন্য আকর্ষণীয় স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলো ধরা হলো।

    হাকালুকি হাওর: ছোট বড় ২৩৮টি বিল নিয়ে এ হাওরের আয়তন ২০ হাজার ৪ শত হেক্টর। প্রকৃতির এই বিশাল দুনিয়ায় কি নেই। নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ, পাখি, শাপলা-শালুক, ঝিনুক, শত শত প্রজাতির জলজ প্রাণী আর হিজল, কড়চ, বরুন, আড়ং, মূর্তা, কলুমসহ সবুজের ঢেউ জাগানিয়া মনকাড়া পরিবেশ। এই বর্ষা মৌসুমে থৈ থৈ পানি আর শীত মৌসুমে পাখির খেলা বিমোহিত রূপ মাধুর্যে কাছে টানে প্রকৃতি প্রেমীদের। এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির সীমানা মৌলভীবাজার ছাড়িয়ে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত। হাকালুকি হাওরে যাওয়া যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা দিয়ে। তবে কুলাউড়া উপজেলা হতে এখানে যাওয়া সহজ।  pic-4

    মাধবকুন্ড জলপ্রপাত: দেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুন্ড। বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী বাজার থেকে ৮ কি. মি. পূর্ব দিকে এগোলেই কানে আসবে ক্রমাগত জল গড়ানোর শব্দ। সেই সঙ্গে থাকবে সবুজ চা পাতার তাজা গন্ধ। প্রায় ২শ’ ৫০ ফুট পাথারিয়া পাহাড়ের ওপর থেকে ছোট-বড় পাথরের বুক চিড়ে আছড়ে পড়া জলরাশির ঝর্ণাধারার দৃশ্যে মন নাচে আনন্দ আবেগে। তাই যে কোন প্রকৃতি প্রেমীর জন্য এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

    জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া: দেশের ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বিনোদনের অন্যতম এ স্পটটি দেশের বনাঞ্চলের মধ্যে নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবসি’ত জীববৈচিত্র্যে ভরপুর কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় দেখা মেলে বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণীর। ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের একটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি হিসেবে টিকে আছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে ‘জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে ঘোষণা করে। বিলুপ্ত প্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত। উল্লুক ছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ জীবজন’, কীটপতঙ্গ এবং উদ্ভিদ। নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেস্টের মতো এখানেও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ড্রেথ ছবিটির একটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল এই বনে।pic-2

    আগর বাগান: বড়লেখার আজীমগঞ্জ ও সুজানগর এলাকায় বিশাল বিশাল আগর বাগান আর তা থেকে নানা প্রক্রিয়ায় সুগন্ধি সংগ্রহের দৃশ্য কৌতূহল জাগায়। ওখানকার উৎপাদিত আগর সুগন্ধির চাহিদা মিটাচ্ছে দেশ-বিদেশের। যা রপ্তানী করে বৈদেশিক মুনাফা অর্জিত হয়।

    দুর্গম হামহাম: গহীন অরণ্যের দুর্গম হামহাম জলপ্রপাত। ১৫০ ফুট পাহাড়ের ওপর হতে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানি আছড়ে পড়ছে বড় বড় পাথরের গায়ে। হামহাম জলপ্রপাত কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিটের গহীন অরণ্যে। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. পূর্ব-দক্ষিণে আয়তন ৭ হাজার ৯৭০ একর। এলাকার পশ্চিম দিকে চাম্পারায় চা বাগান, পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। এই বনবিটের প্রায় ৯ কি.মি. অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন এই হামহাম জলপ্রপাত। প্রায় ১০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয় এই ‘ঝর্ণা সুন্দরী’র আঙ্গিনায়। নতুন সন্ধান পাওয়া রোমাঞ্চকর দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত একনজর দেখার জন্য দিনদিন পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে। pic-1

    মাধবপুর লেক: মাধবপুর লেক। নয়ন জুড়ানো এই লেক জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানের পাদদেশে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পাহাড়ি ও সমতল পথ পেরিয়ে চা বাগানের ভেতরে দেখা মিলে আকর্ষণীয় এই লেকের। ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন চা বাগানের ভেতরে মাধবপুর লেক নিজের রূপ দিয়েই দেশি-বিশে পর্যটকদের নয়ন কাড়ে।

    ভ্রমন পিপাসুদের ভ্রমনকে আরামদায়ক করতে  রেস্ট হাউস গুলোতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

    আর এ দিকে আইন-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্বিগ্ন রাখতে থাকছে অতিরিক্ত লোকবল।

    ফাস্ট বিডিনিউজ২৪/কে এস

    Close