• আজ রবিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৮ ইং ; ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৮ই জ্বিলকদ, ১৪৩৯ হিজরী
  • ‘মণিরামপুর নির্বাচনে জামায়াত যে কোন দলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার শক্তি রাখে’

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    enamul hak

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তোড়-জোর শুরু হয়েছে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাঁপ ও নেতা-কর্মীদের মাঝে আগাম নির্বাচনী হাওয়াও শুরু হয়ে গেছে। মণিরামপুরে বিভিন্ন প্রার্থীদের মধ্যে বেশ আগেভাগে মাঠে নেমেছেন বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মণিরামপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে শক্ত  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এ্যাড. গাজী এনামুল হক। তিনি জামায়াতে ইসলামী যশোর শহর (সাংগঠনিক জেলা) শাখার কর্মপরিষদ সদস্য। তিনি একাধারে ইসলামী স্কলার,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। যশোর সাংস্কৃতি কেন্দ্রের চেয়ারমানও ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার সময় ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী। সহযোগিতা করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। আগামী নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪-এর সাথে।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● আপনি তো ইসলামী স্কলার হিসেবে পরিচিত মানুষের মাঝে, তো ভোটের রাজনীতিতে আসার শুরুটা কীভাবে ?

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● আমার ছাত্র রাজনীতি শুরু হয়েছে ১৯৬৮ সাল থেকেই, তখন ছাত্র ইউনিয়ন করতাম, স্কুল শাখার সভাপতি ছিলাম। ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আন্দোলন করতাম এবং সকল মিছিল মিটিং এ অংশগ্রহণ করতাম। এছাড়াও আইয়ুব খানের মূর্তি তৈরি করে তাতে আগুন দেয়া এসবও করেছি ঝিকরগাছার রাস্তায়। তখন আমি ঝিকরগাছায় লেখাপড়া করতাম। তবে এর জন্য তৎকালীন পুলিশের কাছে কয়েকবার মার খেতে হয়েছে কমরেড আবু বকর ভাইয়ের নেতৃত্বে মিছিলে যেয়ে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমি দেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সে সময় আমি তথ্য আদান প্রদান করতাম আর এর জন্যে আমি একবার তৎকালীন হানাদার বাহিনীর কাছে ধরাও পড়েছিলাম। সেটা ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে। আমাকে অনেক নির্যাতন করেছিল এবং আমি অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● এ হিসেবে তো আপনি মুক্তিযোদ্ধা, যেহেতু আপনি সহযোগিতা করেছেন কিন্তু এখন আপনার যে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী সেটা তো যুদ্ধাপরাধীর দায়ে অভিযুক্ত, এ সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● ইতিহাসে সব সময় পরাজিত শক্তি বা দলকেই যুদ্ধাপরাধী বলা হয়, এটাই ইতিহাস। যুদ্ধাপরাধী চিহ্নিত করতে গেলে যুদ্ধবিষয়ক আইন লঙ্ঘন করে যারা নিজেরা লুন্ঠন করে হত্যা করে ধর্ষণ করে জ্বালাও-পোড়াও করে তাদের কে ছাড়া আর কাউকে যুদ্ধাপরাধী বলা যায় না।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● আদালতে যে প্রামাণ হয়েছে সেটার ব্যপারে কী বলবেন?

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● এই ব্যপারে আপিল কোর্টে বিচারপতি একথা বলেছেন যে তাদের একদিনও সাজা হতে পারে না অথচ তার পরেও তাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। সাঈদী সাহেবের মামলায় তার যে রায় দেওয়া হল তা কার সাক্ষীতে? যার ঐসময় বয়স ছিল ২ বছর। সাঈদীকে যে দু’টি অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে তার প্রথমটি হলো ইব্রাহিম ওরফে কুট্টি হত্যা। এই ইব্রাহিম ওরফে কুট্টি হত্যার বিচার চেয়ে তার স্ত্রী মমতাজ বেগম স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীসহ ১৩ জনকে আসামী করা হয়েছিল। তার মধ্যে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম ছিল না। এমনকি রাজাকার দেলোয়ার সিকদারের নামও ছিল না। সরকার পক্ষ (প্রসিকিউশন) ঐ মামলার কোন নথি ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি। আসামীপক্ষ দাখিল করলেও তা বিবেচনায় নেননি ট্রাইব্যুনাল রায় প্রদানের সময়। ইব্রাহিম ওরফে কুট্টির স্ত্রী, শ্যালক, শ্যালিকা, ছেলে, মেয়ে, শাশুড়ী সবাই জীবিত থাকলেও তাদের কাউকেই সাক্ষী করা হয়নি। নিকটাত্মীয়দের বাদ দিয়ে অনেক দূরে বাড়ি এমন অনাত্মীয় ব্যক্তির মৌখিক কথার ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● বিগত উপজেলা নির্বাচনে আপনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আপনি ভোট কারুচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন, মূল্যায়নটা কেমন?

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● মানুষ বলে জনগণের চেয়ারম্যান আমি আর ভোট চুরি করা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের। আমি নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই খোঁজ পায় ভোট কারুচুপির।তবে আমি নিশ্চিত ছিলাম তারা ভোট চুরি করেও জিততে পারবে না। তারা ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে দিয়েছে। দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা ফোন করে ক্ষমা চেয়েছেন। মণিরামপুরের সর্বস্তরের মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছেন। হিন্দু অধ্যুষিত বিভিন্ন কেন্দ্রে আমি নির্বাচিত হয়েছি। আমি মনে করি ক্ষমতাসীন দল যদি ভোট পরিবর্তন না করে চুরিও করতো, তাহলেও আমি বিরাট ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতাম। কেননা, আমি মণিরামপুরের দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● জামায়াত তো এবার সরাসরি তাদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না সে ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা কী হবে?

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● এখন এটা যদি জোট হয় তাহলে জোটের যে সিদ্ধান্ত হবে সেভাবেই আমি নির্বাচন করব। এছাড়াও আমার দলের চাওয়া পাওয়ার একটা ব্যপার আছে। তবে আমার মনে হয় আমরা প্রতীক পাবো। আর যদি স্বতন্ত্র নির্বাচন হয় তবুও এটা কোনও চিন্তার বিষয় বলে আমি মনে করি না।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● জোটগত ভাবে যদি নির্বাচন হয় তাহলে রাজনৈতিক সমীকরণ তো বলে যে জামায়াত পাবে না, যেহেতু শরিক দলের একজন প্রধান এখানে আছেন, সে ব্যপারে যদি কিছু বলতেন।

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● আপনি মুফতি ওয়াক্কাস সাহেব এর কথা বলছেন, আমি তাকে সম্মান করি একজন আলেম হিসেবে।কিন্তু তার রাজনৈতিক চরিত্র বিতর্কিত । তিনি এমপি হওয়ার জন্য প্রায়শই দল পরিবর্তন করেছেন।  তিনি মণিরামপুরে এমপি হন ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে।কিন্তু নির্বাচিত হলে তিনি মানুষের খোঁজ রাখেন না। প্রতিবার জামায়াতের ভোট ব্যাংককে কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে বিএনপি-জামায়াতের উপরে এতো নির্যাতন হচ্ছে, মামলা হচ্ছে কিন্তু তার নামে তার সংসদীয় আসনে কোন মামলা নাই। তিনি এই নির্যাতনের  বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেননি। জোট যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে মণিরামপুরের আপামর গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যে ত্যাগ মণিরামপুর এর জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী করেছেন, সে হিসেবে এই আসনের দাবিদার জামায়াতে ইসলামী। মণিরামপুরে জামায়াত যে কোন দলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার শক্তি রাখে। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● নির্বাচিত হলে বিশেষত কী কী কাজ করতে চান?

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● আমি আসলে এ ধরণের প্রলভন মূলক কথা বলা পছন্দ করি না, তবে প্রথমত আমি  প্রশাসনিক যে দুর্নীতি গুলো আছে এগুলো কঠোর হাতে দমন করতে চাই। রাজনৈতিক যে মিথ্যা মামলা সেটা যেকোনো দলেরই হোক না কেন এগুলো আমি কঠোর হাতে দমন করতে চাই। তারপর মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ধরে এনে যে টাকা আদায় করে সে যেই হোক এর বিরুদ্ধে আমি কাজ করব। আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও এসকল দুর্নীতি দমন করার চেষ্টা করব।

    সরকার থেকে যে অনুদান চেয়ারম্যান, মেম্বার বা উপজেলায় আসে তা সঠিকভাবে যদি বণ্টন করা হয় তাতেও কিন্তু অনেক দারিদ্রতা দূর করা সম্ভব হয় এমনকি এর ৫০ শতাংশও যদি জনগণের কাছে যায় তাও কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান হয়। দেশের ৮০ শতাংশ জনপ্রতিনিধিরাই এসমস্ত আত্মসাৎ করে, কিন্তু এগুলো আমি হতে দেবনা।

    আমি মনিরামপুরকে সারা বাংলাদেশের একটি মডেল থানায় পরিণত করতে চাই, প্রশাসনের দিক থেকে, ন্যায় নীতির দিক দিয়ে এবং সর্বদলের লোকদের মাঝে সহনশীলতা স্থাপনের মাধ্যমে একটি বিরল  নজির সৃষ্টি করতে চাই।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● এখন বর্তমান দেশের রাজনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। এখন তো মনে হচ্ছে পুলিশই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এমনকি সরকারেরও যেন কোন নিয়ন্ত্রন নেই। পুলিশ এখন ইচ্ছাকৃত ভাবে মিথ্যা মামলা করছে। এটা শুধু মনিরামপুরে না, সারা বাংলাদেশে  এই অবস্থা চলছে। এই আবস্থা দেখে মনে হয় এটা একটা পুলিশী রাষ্ট্র।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● ধন্যবাদ।

    এ্যাড. গাজী এনামুল হক ● ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪-কেও ধন্যবাদ।

    Close