• আজ রবিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৮ ইং ; ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৮ই জ্বিলকদ, ১৪৩৯ হিজরী
  • আবার রোহিঙ্গাদের আসা বেড়ে যাওয়ার কারণ কি

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    Rakhain Rohingya

    বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণ প্রান্ত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

    অনুপ্রবেশের ঘটনা সপ্তাহ-খানেক আগে কিছুটা কমে যাওয়ার পর গত ২৬শে সেপ্টেম্বর থেকে আবারো বেড়েছে।

    এ ক’দিনে এখান দিয়ে প্রায় অর্ধ লক্ষ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে একটা প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন।

    তিনি বলেন, গত তিন চারদিনে চল্লিশ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে তারা ধারণা করছেন। “এবং এই আসার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে,” বলেন তিনি।

    আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।

    শাহপরীর দ্বীপের খোলাপাড়া নামে একটি জায়গা থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক জানান, কিছুক্ষণ আগেই সেখানে ২৭০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী গিয়ে পৌঁছেছে।

    তিনি জানান, এরা কয়েকটি নৌকায় করে পৌঁছেছে। এসব নৌকা মিয়ানমার থেকে এসে শরণার্থীদের নামিয়ে দিয়েই আবার ফিরে যায়।

    “বার্মা থেকে নৌকাগুলো আসে। এখানে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। তারপর আরো কিছু রোহিঙ্গা নিয়ে আসে,” বলেন মি. হক।

    জানা যাচ্ছে, এখন বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী আসছেন তাদের প্রায় সবাই নৌকা দিয়ে এই শাহপরীর দ্বীপেই আসছেন।

    এখানে রয়েছেন কোস্ট গার্ড ও বিজিবির লোকজন। তারা এদের দেখভাল করছেন, এবং এখান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কুতুপালং হোয়াইক্যাংসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

    এলাকাটি পড়েছে সাবরাং ইউনিয়নের ভেতরে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলছিলেন আগত শরণার্থীর সংখ্যা প্রতিদিনই সন্ধ্যের পর বেড়ে যায়।

    প্রতিদিন সন্ধ্যে বেলায় অন্তত দুই তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শাহপরীর দ্বীপে এসে পৌঁছাচ্ছে বলে জানান মি. হোসেন।

    মাঝখানে শরণার্থীদের আসার ঘটনা কমার পর আবার যে বেড়ে গেল, এর কারণ কি? তিনি কি জানতে পারছেন?

    “আমরা শুনেছি যে ওখানে মুসলমানদেরকে নাকি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্যে বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সেকারণে তারা বাংলাদেশে চলে আসছেন,” বলেন তিনি।

    টেকনাফে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মধ্যে নেতৃত্ব-স্থানীয় একজন মোহাম্মদ নূর, যিনি আগে থেকেই, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন এবং কুতুপালং মেকশিফট সেটলমেন্ট ক্যাম্প ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি, তিনি বলছিলেন, ‘মিয়ানমারের সরকার মাঝখানে দু-চার-পাঁচ দিন তাদেরকে বিভিন্ন কথায় ভুলিয়ে রেখেছিল। মানুষ এপারে আসার জন্য রওয়ানা দিলে তাদের বাড়িঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এটা তারা করেছে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে।’

    মি. নূরের ভাষায়, ‘এটা এক ধরণের প্রতারণা তারা করেছে। দু’চারদিন পর এখন আবার তারা নির্যাতন শুরু করে দিয়েছে।’

    মি. নূর আরো বলছিলেন, রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সৈন্যরা এখন রীতিমত মাইকিং করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বলছে যে, জমিজমা ছেড়ে দিয়ে বাড়িঘর খালি করে তারা যেন বাংলাদেশে চলে যায়।

    একই রকম বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুল হকের কাছ থেকেও, যিনি প্রতিদিনই শাহপরীর দ্বীপে আগত শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন এবং তাদের নানা রকমের সহায়তা দিচ্ছেন।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/এ আই

    Close