• আজ রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ; ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৭ই জ্বিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী
  • যশোর উপশহরে পুলিশের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে অপরাধীরা, ঘটছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    1389893378jessore_district_map_70889

    যশোর অফিস●যশোর শহরতলীর উপশহরের আইন শৃংখলা চরম অবন্নতি ঘটেছে। পুলিশের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে অপরাধীরা একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কথায় কথায় চালানো হচ্ছে সন্ত্রাসী হামলা। সাধারণ মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। সন্ধ্যা হলেই পুরো এলাকা সন্ত্রাসীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়।

    এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, শহরের যেকোন এলাকার চেয়ে উপশহর এখন সবচেয়ে ভংঙ্কর এলাকায় পরিনত হয়েছে। সাধারন মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। পুরো এলাকা সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি। সন্ধ্যা নামলেই গোটা এলাকা সন্ত্রাসীদের পদভারে প্রকম্পিত হয়ে উঠে। বহিরাগত সন্ত্রাসী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা মিলে এলাকায় তান্ডব চালায়। এলাকাবাসী এলাকার কোথাও বসলে তাকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হয়। এসব সন্ত্রাসী হামলার সাথে কারা জড়িত উপশহর ফাঁড়ি পুলিশ তা ভাল করেই জানে। কিন্তু ফাঁড়ি পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। বরং সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদের কথা মতো এলাকার নিরীহ বাসিন্দাদেরকে উল্টো হয়রানি করা হয়।

    উপশহর ফঁড়িতে ইনচার্জ হিসেবে এস আই আব্দুর রহিম যোগদানের পর থেকেই উপশহরে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফাঁড়ি পুলিশের এস আই আব্দুর রহিম সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে অবৈধ কর্মকান্ডে মেতে উঠেছে। ফলে সন্ত্রাসীদের সাথে ফাঁড়ি পুলিশের সখ্যতা গড়ে তোলার কারণেই উপশহরে একর পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটছে। ২২ আগস্ট শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে উপশহর সি ব্লকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় রাশেদ (২৮) নামে এক যুবক। রাশেদ উপশহর এলাকার মৃত মুনসুর আলীর ছেলে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্ত বিস্তার নিয়ে একই দলের প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের পিটুনি ও ছুরিকাঘাতে সে আহত হয়। গুরুত্বর অবস্থায় তাকে আড়াইশ শয্যার যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকরা হাসপাতলে গেলে তাদেরকে রিপোর্ট করতে নিষেধ করা হয়। যে কারণে রিপোর্টটি শনিবার কোন পত্রিকায় প্রকাশ হয়নি। বিষয়টি সর্ম্পকে শুক্রবার রাত ১০ টায় উপশহর ফাঁড়ির এস আই রহিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

    এর আগে গত ২১ মে উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে খুন হয় যুবলীগ কর্মী এনামুল ইসলাম কাজল। কাজল হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় যুবলীগের একাংশ উপশহর বাজারে সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে কাজল হত্যাকান্ডের ইন্ধন দাতা ও খুনিদের নাম বলা হয়। কিন্তু ফাঁড়ির এস আই আব্দুর রহিম কাজল হত্যাকান্ডের পর চার মাস অতিবাহিত হলেও ইন্ধনদাতা বা খুনিদের এপর্যন্ত আটক করতে পারেনি। অথচ গত সপ্তাহে রাজনৈতিক আশ্রয়ে কাজল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত টমাস, রনি ও মানুন শেখকে আদালতে আত্বসমার্পণ করানো হয়।

    সূত্রটি বলেছে, উপশহর ফাঁড়ির এস আই রহিম কাজল হত্যাকান্ডের ঘটনাকে পুজি করে আসামি ও ইন্ধন দাতাদের কাছ থেকে প্রায় দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আর একারণেই দারোগা রহিম কাজল হত্যাকান্ডের পর নিরব ভুমিকা পালন করে। যে কারনে দারোগা রহিম চার্জশীটও দায় সারা ভাবে দিয়েছে।

    এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সরকার পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করেছে। না সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার জন্য ফাঁড়ি করেছে। যদি মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফাঁড়ি করা হয় তা হলে সন্ত্রাসী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। সন্ত্রাসীরা একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটানোর পর বার বার কি ভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে এলাকাবাসি পুলিশর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

    Close