• আজ সোমবার, ২৮শে মে, ২০১৮ ইং ; ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১২ই রমজান, ১৪৩৯ হিজরী
  • অধিক অর্জনের জন্য উচ্চাশা

    অধিক অর্জনের জন্য উচ্চাশা

    ভিনেসেন্ট ভ্যান রস

    পর্বতারোহন

    অনুবাদ: খালেদ সাইফুল্লাহ

    সমগ্র পৃথিবীর মানুষদেরকে অর্জনকারী এবং প্রশাংসাকারী এই দুইটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথমত যারা জীবনে সফলতা এবং অর্জনের মুকুটে ভূষিত হয়েছে। এবং দ্বিতীয়ত যারা অর্জনকারীরা যা করেছে তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে তারা অর্জনকারীদের প্রশংসা করা শুরু করেছে।

    প্রকৃত বিষয় হলো যেসব ব্যক্তিরা তাদের নিজেদেরকে ঐসব লোকদের মত ভাবে যারা জীবনে সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং তখনই নিজেদেরকে গুণী ব্যক্তিতে পরিনত করে ফেলে তারাই জীবনে উত্তম পুরষ্কার পেতে পারে।

    এটা সঙ্কল্প এবং মানসিক দৃঢ়তার প্রশ্ন। এটা কোনো কিছু অর্জন করার প্রশ্ন। এটা একজন গড়পড়তা মানুষ যা করার ইচ্ছা করছে তার চাইতে বেশি কিছু করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রশ্ন। এটা বাড়তি উদ্যমের প্রশ্ন। এই বিষয়গুলো আমাদের অর্জনকারী এবং প্রশাংসাকারী ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্যটা পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেয়।
    যেসকল ছাত্রছাত্রী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে, ঠিকমত বাড়ির কাজ প্রস্তুত করে, অতিরিক্ত ক্লাস করে এবং মধ্যরাতের তেল পোড়ায় তারাই লক্ষ্য অতিক্রম করতে পারে। অন্যদিকে যারা এ বিষয়গুলোকে হালকাভাবে গ্রহন করে এবং কঠোর পরিশ্রম করে না তারা রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে। এখানে পার্থক্য হলো এটা অর্জন করার জন্য অতিরিক্ত উদ্যম নিয়ে সফলতা এবং ইচ্ছাশক্তি তৈরী করার সংকল্পের মধ্যে।এইম
    তুমি তোমার ক্লাসে সর্বোাচ্চ ছাত্র নাও হতে পার। ষাট জনের ভেতরে তোমার অবস্থান ২০ও হতে পারে। যদি তুমি আত্মপ্রত্যয়ী হও তুমি তোমার অবস্থানে অটল থাকতে পারো। সেটা যদি তুমি যথেষ্ট ভাগ্যবান হও। অন্যথায় তুমি তোমার অবস্থান থেকে একটানে নিচে ছিটকে পড়বে। কিন্তু তুমি যদি প্রথম স্থানের জন্য আকাঙ্খা করো এবং সে অনুযায়ী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকো তবে তুমি নিশ্চয় অনেক ধাপ উপরে উঠবে যদিও তুমি প্রথম স্থান না পাও।

    যদি তুমি সকালে ৪ কিলোমিটার পথ হাঁটতে মনস্থ কর তবে এটা চিন্তা করো না যে তোমাকে ২ কি. মি. গিয়েই ফিরে আসতে হবে। তার পরিবর্তে তৃতীয় কিলোমিটার অতিক্রম করার মানসিকতা তৈরী করো। এভাবে তুমি নিজেকে ৬ কি. মি. হাঁটার জন্য প্রস’ত করতে পারো। তিন কি মি. যাওয়া এবং সেখান থেকে ফেরা। যদি তুমি চার কিমি. হাঁটার জন্য চার কিমি. এরই লক্ষ্য নাও তবে অদ্ভুত ব্যপার হলো তুমি ঐ চার কিমি. শেষ হওয়ার আগেই ক্লান্ত অনুভব করবে। কিন্তু যদি তুমি ৬ কিমি.’র লক্ষ্য নাও এবং ৪ কিমি. হাঁট তবে চার কিমি. হাঁটার পরও তোমার এনার্জি লেভেল অনেক উচুতে থাকবে। এটা সম্পূর্ণ মনস্তাত্বিক বিষয়। কিন’ এটি কেমন কাজ করে !!

    পর্বতারোহীদেরকে কিসে উচ্চ চুঁড়ায় উঠতে সাহায্য করে? তারা কি আমাদের থেকে ভিন্ন কিছু? তারা কি আমাদের থেকে ভিন্ন কোন বস্তুর তৈরী? না, তারা আমাদের মতই পাঁচটি উপাদানের তৈরী। কিন্তু তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং তারা কখনো সহজে হাল ছাড়ে না আর এটাই তাদেরকে আমাদের থেকে বিশিষ্ট করেছে। একজন সাধারন মানুষ যখন হাল ছেড়ে দেয়ার পরও সে তার চেষ্টা অব্যাহত রাখে।

    বিশ্বাস করুন, মানবদেহ শক্তির ভান্ডার। আমরা কখনো আমাদের শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করিনা। আমাদের শক্তি আমাদের যানবাহনের পেট্রোল ট্যাংকের জ্বালানীর মত। যখন আমরা একটি নির্দিষ্ট পরিমান জ্বালানী ব্যবহার করি তখন যানবাহন তার স্বভাব সুলভ আচরন করে। তার মানে এটা পুনরায় জ্বালানী ভর্তি করার সময়। আমরা মনে করি আমরা পেট্রোল ট্যাংকের তলা শূণ্য করে ফেলেছি। কিন’ পাত্রের তলায় কিছু পেট্রোল থেকে গেছে যা মূলত আমাদেরকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার জন্য সঞ্চিত। আমরা এটা কদাচিৎ ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু এটা থাকে। এটি মানবদেহের অবস্থার সাথে মিলে যায়। আমরা মনে করি আমরা সকল শক্তি নিঃশেষ করে ফেলেছি, কিন’ কিছু শক্তি জমা থেকে যায়।

    একটি উদাহরন দেখা যাক। একদিন আমি কিছৃ কেনাকাটা করতে গেলাম। একটানা আমি তিন ঘন্টা হাটি। যখন আমি আমার বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে আমি খুবই ক্লান্ত অনুভব করলাম। আমার মনে হতে লাগল আমার পা দুটি মাটিতে পুতে গেছে। আমার মনে হতে লাগল আমার পাদ্বয় আমার ওজন বহন কত পারছে না। আমার মনে হতে লাগল আমি আর এক ইঞ্চিও নড়তে পারবো না। ঠিক ঐ সময়ে আমি শুনতে পেলাম আমার সামনে একটি কুকুর ডাকছে। আমি চমকে গেলাম। সে আবারও ডাকলো এবং কামড়াতে উদ্যত হলো। আমি দৌড়তে আরম্ভ করলাম। আমি কুকুরের কামড়ানোকে যমের ন্যায় ভয় পায়। কয়েক মিনিটের মধ্যে আমি শুধু একশ গজের মত পারই হলাম না বরং আমি আমার বাড়ির ভেতর সিড়ির ৩২ টি ধাপ অতিক্রম করে ফেললাম যতক্ষন না আমি নিরাপদ অনুভবম করলাম।

    সেদিনের ঘটনা আমার জীবনে একটি বিরাট জিনিস শিক্ষা দিয়েছে। এটা আমাকে শিখিয়েছে আমরা যেমনটা ভাবি তার থেকে বেশি শক্তি আমাদের রয়েছে। আমাদের অদৃশ্য শক্তি আমাদের বাস্তব শক্তির থেকে অনেক বেশি। এটি এতে বিশ্বাস করা এবং আমাদেরকে এই ক্ষুদ্র অতিরিক্ত অংশের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রশ্ন। যদি ক্রিকেটে হাফ সেঞ্চুরি করে সন্তুষ্ট হয়ে থাকি তাহলে আমরা কখনোই শতকের ধারে কাছে যেতে পারবো না। কিন্তু যদি আমরা দুটি শতকের আশা করি তাহলে আমরা কখনো কখনো শতক পূরণ করতে পারি। যখন আমরা সিদ্ধান্ত নেই কিছু করতে আমাদের সিদ্ধান্ত দ্বারা উৎপাদিত আলোড়ন এটা ঘটাতে সাহায্য করে। এগুলো আমাদেরকে সামনে ঠেলে দেয়। সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের শক্তি আমাদের সিদ্ধান্তের ফলাফল দেওয়ার জন্য ক্ষুদ্র স্থানে জমা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি হচ্ছে আমরা কি অর্জন করতে চাই তা হতে আমাদের উদ্দেশ্যগুলোকে একটি উচ্চতর পর্যায়ে রাখা। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা। গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি হচ্ছে আমাদের নিজেদেরকে এবং সক্ষমতাকে বিশ্বাস করা। এবং তারপর এই উদ্দেশ্যগুলো অর্জনের জন্য বের হওয়া।
    যদি আমরা ১০০ ভাগের আশা পোষন কওে থাকি তবে আমরা এর থেকে কম পেতে পারি। কিন্তু, যদি আমরা তার থেকেও বেশি আশা করি তবে আমরা ঐটুকু পেতে পারি।

    লেখক: সাংস্কৃতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক
    নয়াদিল্লী
    অনুবাদক: ছাত্র ও সাংবাদিক-কলামিস্ট
    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪. কম

    ফাস্ট বিডিনিউজ২৪/ কে এস

    Close