• আজ রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ; ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৭ই জ্বিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী
  • গার্মেন্টস শ্রমিক মহিউদ্দিনের জীবন সংগ্রামের গল্প

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    অংকন বিশ্বাস অর্ক বর্তমান বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এমনি একটি রপ্তানি খাত যা  সবচেয়ে উন্নয়নমূখী খাত হিসেবে বিবেচিত। ষাটের দশকে শুরু হয়েছিলো এই যাত্রার। তবে সত্তর দশকের শেষের দিকে এই যাত্রা অনেকটা উন্নয়ন লাভ করেছে, যা বর্তমানে সবথেকে এগিয়ে আছে। এতে করে যেমন হয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন, তেমনি বেড়েছে এদেশের কর্মক্ষেত্র। আর এই কর্মক্ষত্রে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা। ঠিক এমনি একজন গার্মেন্টস শ্রমিক মোহম্মদ মহিউদ্দিন । বাড়ি বরিশাল বিভাগের হিজলা থানায়। তিনি কাজ করছেন  ঢাকার মিরপুরের শচীন ফ্যাক্টরীতে।

    তার সাথে কথায় কথায় জানা গেল, প্রথম দিকে পরিবারে বেশ টানাপোড়ায় জীবন চলতো। দু্ই ছেলে-মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে চার সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকতো। ১৯৯৬ সালে ফ্যাক্টরির কাজে যুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরেই বিয়ে দিয়ে দেন তার কন্যা সন্তানকে। এর পরে যে তিন সদস্যের পরিবার ছিলো, তার মধ্য থেকে ছেলেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি করান। ছেলের কথা চিন্তা করে নিজের স্ত্রীকেও ফ্যাক্টরির এই পেশায় যুক্ত করান। মহিউদ্দিনের মাসিক আয় ৭ হাজার টাকা। ছেলের কথা চিন্তা করে কখনো একবেলা খেয়ে রওনা হয় কাজে।

    তবে সংসারের ব্যয় ও ছেলের পড়াশুনায় তার এই অল্প বেতনে কতটা সুখী তিনি? জানতে চাওয়া হলে মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেখেন ভাই, আমরা গরীব মানুষ। তার জইন্নো কি সুখ থাকবেনা? যাগো অনেক ট্যাহা পয়সা আছে, তাদের চাওয়াডাও হয়তো অনেক বেশি। যহন ৭০০০ ট্যাহা লইয়া বাসায় ফিরি বউ বাচ্চার কথা ভাইবা আমার সব কষ্ট দুর হইয়া যায়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি তো আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি। যারা কাজকাম করতে পারেনা। যারা পঙ্গু, দুই বেলা ভাত জুডাইতে পারেনা। তাগো চাইতে তো ভালো আমি। আমার বেতন কম অইতে পারে, তার জইন্নে কি ভালো থাকুম না? আমার অহন একটাই আশা, যাতে ছেলেডা একটা মানুষের মত মানুষ অইতে পারে। তয়লে মাথার বোঝাডা একটু কমে। আল্লাহর কাছে এইডাই অহন চাওয়া।’

    Close