• আজ শনিবার, ২৬শে মে, ২০১৮ ইং ; ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১০ই রমজান, ১৪৩৯ হিজরী
  • ২০ রাকআত তারাবীহর উপর ইজমা দাবী করা সম্পূর্ন বানোয়াট ও ভিত্তিহীন (পর্ব ৯-১০)

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●
    namaz masjid islam
    রিজওয়ান সালাফি ● প্রচলিত আছে যে, ওমর (রা:) এর যুগে ২০ রাকআত তারাবীহর উপর ইজমা হয়েছে । ফলে এর উপর মুসলিম উম্মাহর আমল স্থায়ী হয়েছে ।
    *
    পর্যালোচনা :
    ——————-
    উক্ত দাবী সম্পূর্ন ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ।
    *
    যেখানে সাহাবীদের যুগে ২০ রাকআতের অস্তিত্তই ছিল না সেখানে ইজমা হল কিভাবে ?
    *
    হাযার বছর পর এ দাবীর কারন হল, যখন বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, রাসূল (স:) নিজে ১১ রাকআত তারাবীহ পড়েছেন এবং ওমর (রা:) ১১ রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন (মুয়াত্তা মালেক ১/১১৫ পৃ:, বায়হাক্বী, তাহক্বীক মিশকাত, সহীহ ইবনে খুযায়মা ৪/৬৯৮)
    *
    তখন ২০ রাকআত তারাবীহ বিলুপ্ত প্রায় ।
    *
    এমনই এক সময়ে ইজমার ভিত্তিহীন দাবী তোলা হয়েছে ।
    *
    এই উদ্ভট কথাটি সমাজে এমনভাবে ছড়ানো হয়েছে যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে নতুনভাবে ‘অহী’ করা হয়েছে ।
    *
    অথচ তা একেবারেই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ।
    *
    কারন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয়েছে যে ওমর (রা:) ১১ রাকআত তারাবীহ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন ।(মুয়াত্তা মালেক ১/১১৫ পৃ:, বায়হাক্বী, তাহক্বীক মিশকাত, সহীহ ইবনে খুযায়মা ৪/৬৯৮)
    *
    তাঁর খেলাফতের সময়েও জনগন ১১ রাকআত তারাবীহ পড়তেন । সেটাও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত । (মিরআতুল মাফাতীহ ৪/৩৩৩ পৃ:)
    *
    মোট কথা তাঁর সময়ে ২০ রাকআতের অস্তিত্বই ছিল না ।
    *
    তাহলে ২০ রাকআতের উপর ইজমা হল কখন ?
    *
    শায়খ আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (র:) দ্বর্থহীন কন্ঠে বলেন,
    ‘২০ রাকআতের উপর ইজমা হয়েছে এবং তা সর্বত্র স্থায়ী হয়েছে এই দাবী চরম মিথ্যাচার ।(তুহফাতুল আহওয়াযী ৩য় খন্ড, পৃ:৪৪৭)
    *
    মাযহাব পন্থিদের ধারনা হল, মাযহাবের অনুসারীগন অথবা কোন নির্দিষ্ট অন্চলের অধিবাসীরা কোন বিষয়ে একমত পোষন করলেই তা ইজমা হয়ে যাবে ।
    *
    অথচ এটা এক চরম বিভ্রান্তি ।

    তারাবীহর সালাত ২০ রাকআতকে টিকিয়ে রাখার শেষ হাতিয়ার হল যঈফ ও জাল হাদীস :

    অনেকে শেষ হাতিয়ার হিসেবে যঈফ ও জাল হাদীসের পক্ষে জোড়ালো প্রচারনা চালান ।
    *
    ২০ রাকআতের হাদীস জাল হলেও তাদের নিকট কিছু যায় আসে না ।
    *
    মাওলানা আজিজুল হক, নূর মোহাম্মাদ আজমী, মাওলানা মওদূদী প্রমুখ উক্ত জাল ও যঈফ হাদীস দ্বারাই দলীল গ্রহন করেছেন ।
    *
    যে হাদীস যঈফ-জাল অভিযুক্ত এবং ভিত্তিহীন বলে প্রমানিত হয়েছে, সে হাদীস দ্বারা শরীয়তের দলীল সাব্যস্ত করা যায় না ।
    *
    কারন শরীয়ত সর্বপ্রকার ত্রুটির উর্ধ্বে, এখানে দুর্বলতার কোন সুযোগ নেই ।
    *
    কারন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিধান অভ্রান্ত ও চিরন্তন (সূরা হিজর : ৯, নাহল : ৪৪, আমআম : ১১৫)।
    *
    নির্ভরযোগ্য নয় এমন ফাসিক ও ত্রুটিপূর্ন ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহন করতে স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই নিষেধ করেছেন (হুজুরাত : ৬) ।
    *
    রাসূল (স:) হাদীস গ্রহনের ব্যপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন একাধিক হাদীসে (সহীহ বুখারী হা/৩৪৬১) ।
    *
    চার খলিফাসহ অন্যান্য সাহাবী এ ব্যপারে ছিলেন অত্যান্ত কঠোর ।
    *
    সুতরাং মাযহাবী গোলামী ছেড়ে দিয়ে সহীহ হাদীসের প্রতি আত্নসমর্পন করতে হবে ।

    (এই লেখার ভিন্ন মত ছাপা হবে)

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/ই ই

    Close