• আজ রবিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৮ ইং ; ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৮ই জ্বিলকদ, ১৪৩৯ হিজরী
  • মাকে দেখতে বাড়ী যাবো, টাকা দিন..

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●
    logo
    আবদুর রহিম ● আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি। রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আযহা। তাই আমার পাশের সহকর্মী ও বন্ধুদের মুখে হাসি। আনন্দ আছে আমার বাসার পাশের প্রতিবেশিদেরও। তবে আনন্দের রেশমাত্রও নেই আমার মুখে। কিভাবে থাকবে আমি যে পেটের ক্ষুদাও নিবারণ করতে পারছি না। গত ১৩ তারিখ থেকে টাকার অভাবে উপবাস ছিলাম বহুদিন। লজ্জায় কাউকে বলতেও পারিনি । আজ বিকেলে ওপার থেকে মায়ের ফোন… সঙ্গে আছে কান্নার শব্দ।
    বাবা!  তুই বাড়ী আসবি কখন? তাড়াতাড়ি আয়। আমি বলার সাহস পাচ্ছি না মাগো আমি টাকার অভাবে গত রাত এবং আজ সকালে খেতেও পারিনি। সহকর্মী প্রিয় শাকিল ভাই কিছুক্ষণ আগে ৪০ টাকা
    দিয়ে গেছে দুপুরে খেতে। রাস্তার পাশে খোলা হোটেলে মাত্র খেয়ে আসলাম। পেটটা না এখন খুব শান্তি। মাগো তুমিতো জানো প্রতি ঈদে তোমার জন্য কিছু নিয়ে যাই। আব্বাকেও খুশি রাখার চেষ্টা করি। আর মাহি, মাজেদ, আফরিদা, শুভরা ঠিকই অপেক্ষা করছে মামা/কাকা আসছে তাদের জন্য ঠিকই কিছু নিয়ে
    আসবো। ক্ষমা করে দিও মা। এবার মনে হয় বাড়ী আসতে পারবো না। আমার পকেটে ১০টা টাকা নেই। গাড়ী ভাড়া নেই। মাথার চুলগুলো অনেক বড় হয়ে গেছে টাকার অভাবে কাটতে পারছি না। গত তিনদিন আগে জুতাটিও ছেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে বাসাই এখন আপন ঠিকানা। এক বন্ধুকে বলেছি এক হাজার টাকা দিতে। সে কথা দিয়েছে দেবে। যদি পাই তোমাকে দেখার মানসিকতা এখনো রাখি মা।
    মা… তোমাকে বলতে পারিনি। বললে তুমি খুব চিন্তা করবে তাই। তবে আকবরকে(ছোট ভাই) বলেছি। গত ১৩ তারিখ আমার প্রাণের কর্মস্থল jamunanews24.com কোনো ঘোষনা ছাড়াই ইন্টারনেটের সমস্যা বলে একদিন ছুটি দিয়ে এর পরদিন থেকে বন্ধ। অফিস এখনো তালা মারা। জানিনা তা আদৌ খুলবে কিনা। তবে এ নিয়ে কিছুদিন আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনের সব নেতারা দাবি জানিয়েছেন তা খুলে দিতে । এবং আমাদের পাওনা টাকা সব পরিষোধ করতে। গত দুমাসে আমার ঘাম ঝরানো টানা ১০ ঘন্টা করে  দৈনিক পরিশ্রমে ২১ হাজার করে ৪২ হাজার টাকা এখনো আমি পাইনি। ঈদ বোনাস তাতো এখন স্বপ্ন। তবে এছাড়াও অফিসে আমার বেশ কিছু টাকা আটকে আছে। আমার ড্রয়ারে কিছু টাকা। আমার টেবিলের নিচে একটি মাটির ব্যাংকও আছে। তাতেও রয়েছে কিছু টাকা। তা অফিসের সবাই জানে। আছে আরো কিছু মূল্যবান জিনিস। তাও উদ্ধার করতে পারছি না।
    মাগো বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে ভালো নেই আমি। আমি টাকা পাই, টাকা দেন। এ কথা বললেও এখন বিপদ। যারাই টাকা চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অফিস গায়েবী নিউজ করছে। ইজ্জতের ভয়ে অনেকে নীরব আছে। কারণ তাদের হাত অনেক উপরে। আর আমরা সামান্য সাংবাদিক। মালিক পক্ষের কাছে আমরা বদলার মতো। মা তুমি মনে হয় জানো… গত ঈদে অফিসের সবাইকে নিয়ে গল্প করেছিলাম। তাদের মধ্যে অফিস সহকারী মুকুল, বার্তা সম্পাদক নয়ন ভাই, সিনিয়র রিপোর্টার জিসান ভাই, শুশান্ত দাদার বিরুদ্ধে কি-যে, মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য দিয়ে নিউজ করেছে। আমার বলতেও থুতু আসছে। শুধু আমি না মা কেউ ভালো নেই।
    আজ সকালে অফিসের সবার চেয়ে সিনিয়র লাবিব হাসান(ছদ্ম নাম) বড় ভাইকে ফোন দিয়েছিলাম,  ভাই কেমন আছেন। জানো মা! ভাই কেঁদে দিলো। বললো, কাল ঈদ!  আমার ঘরে ভাতের চাউল নেই। আমার ছোট ছেলে জিজ্ঞেস করছে বাবা আমাদের গরু কিনবে না! পাশের বাসার সবাই না বড় বড় গুরু গুলো কিনে ফেলেছে। আমার দু সন্তান ও স্ত্রীকে মুখ দেখাতে পারছি না। ভাইয়ের কথার পর সকাল থেকে কিছুটা স্বাভাবিক আছি। আমি না খেয়ে আছি তবে ভাইয়ের থেকে একটু ভালো আছি।
     সাব অ্যাডিটর
    যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Close