• আজ রবিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৮ ইং ; ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৮ই জ্বিলকদ, ১৪৩৯ হিজরী
  • বিএডিসি-এর খামারে কর্মরত অনিয়মিত কৃষি শ্রমিকদের নিয়মিত করার দাবির যৌক্তিকতা

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    Sorowor
    গোলাম ছরোয়ার ● কৃষি, মৎস্য ও প্রানীসম্পদ ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ বাংলাদেশ কৃষিউন্নয়নকর্পোরেশন(বিএডিসি), কৃষিগবেষনা, ধানগবেষনা, পাটগবেষনা, ইক্ষুগবেষনা, রেশমবীজাগারও ডেইরীফার্মের খামার সমূহে কর্মরত কৃষিফার্ম শ্রমিকরা দীর্ঘ দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষনার কাজে সহায়তার পাশাপাশি মানসম্মত ভিত্তিবীজ উৎপাদন করে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্নতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখে আসছে। কৃষিফার্ম শ্রমিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার ‘কৃষিফার্ম শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রন নীতিমালা’ ঘোষনাকরে। এই নীতিমালা অনুযায়ী খামারের শ্রমিকগণ তাদের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় গবেষনা প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিএডিসি কর্তৃপক্ষএই নীতিমালা মানছেন না।

    গত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় বিএডিসি কর্তৃপক্ষ কৃষিফার্ম শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রন নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মানসম্মত ভিত্তিবীজ উৎপাদনকে ধ্বংশ করার জন্য সকল ভিত্তিবীজ উৎপাদন খামারের ১৬০৪ জন নিয়মিত শ্রমিককে ৮ মাসের বর্ধিত বকেয়া মজুরী প্রদান না করেই অবৈধ ভাবে বাধ্যতামূলক অবসান দেয়। ২০০২ সালের পর হতে অদ্যাবধি প্রায় ১৫ বছর যাবৎ বিএডিসিতে চলছে অমানবিক শ্রমিক নির্যাতন। নীতিমালা অনুযায়ী কোন শ্রমিককে নিয়মিত না করায় গরীব ভূমিহীন বিত্তহীন কৃষিফার্ম শ্রমিকগণ সরকার প্রদত্ত সকল সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়ে মানবতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে।

    বিএডিসির খামার কর্তৃপক্ষ দীর্ঘকাল যাবৎমিথ্যা মাষ্টার রোলেহাজিরার নামে (অর্থাৎ ১০ জনশ্রমিকের স্থানে ১৫/২০ জনের মাষ্টার রোলে হাজিরা দেখানো) লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। খামার শ্রমিকেরা দীর্ঘ দিনধরে এই মিথ্যা মাস্টার রোলে হাজিরা বন্ধ করার জন্য দাবি করে আসছিল।কৃষিফার্ম শ্রমিকনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণনীতিমালার ৭ নংধারায় বলা হয়েছে‘নিয়মিত/অনিয়মিত শ্রমিকদের মজুরি শ্রমিকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান করিতে হইবে। কোন ক্রমেই নগদ মজুরী প্রদান করা যাইবেনা’ কিন্তু বিএডিসি কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্দেশ আজও কার্যকর করে নাই।

    বিএডিসি কোন অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান নয়। ইহা একটি সংগঠিত সেক্টরএবং আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান। যেখানে সারা বছর কাজ থাকে সেখানে নিয়মিত শ্রমিকের পদ অবলুপ্ত করে নিজের খুশিমতো কন্টাকটের মাধ্যমে বা নিজের লোক দিয়ে কাজ করাতে পারেনা। খামার সমূহ যতদিন থাকবে স্থায়ী শ্রমিকের পদসমূহ ততোদিন থাকবে। বিএডিসির এই সিদ্ধান্ত দেশীয় ভিত্তিবীজ সমূহকে ধ্বংস করার একটি ষড়যন্ত্র। তারা আমাদের দেশের কৃষি উৎপাদনের মূলসম্পদ মহামূল্যবান এই বীজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

    খামারে নিম্নতম একজন কর্মচারী বেতনছাড়াও সরকারের যাবতীয় ভাতা ও সুবিধাদী পেয়ে থাকে। চাকুরী থেকে অবসরের পর পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং এককালিন একটি বড় অংকের টাকা পায় যা তার পরিবারেরএকটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় খামার শ্রমিকগণ দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর একই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাজ করেও এই সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।কৃষি ফার্ম শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রন নীতিমালার ধারা ৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৩ (তিন) বছর কাজে নিয়োজিত থাকলে অনিয়মিত শ্রমিককে নিয়মিত করা যাইবে ।বিএডিসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্তেও মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা মানছেন না। শ্রমিকরা বারবার এই বৈষম্যের স্থায়ী সমাধান চেয়ে আসছে। কিন্তু বিএডিসি কর্তৃপক্ষএই বৈষম্য সমূহের স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি।

    মানসম্মত ভিত্তিবীজ উৎপাদন ও আমাদের দেশের কৃষি উৎপাদনের মূলসম্পদ মহামূল্যবান এই বীজ উৎপাদনের কারিগরবি এডিসির খামারে কর্মরত কৃষি শ্রমিকদের নিয়মিত করার দাবি বাস্তবায়নের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কোন বিকল্প নাই।

    লেখকঃ গোলাম ছরোয়ার, অর্থসম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন।

    ইমেইল:   sorowor@gmail.com

    Close