• আজ সোমবার, ২৫শে জুন, ২০১৮ ইং ; ১০ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১০ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
  • অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস

    অতিথি-পাখি-৪

    মো: মুসা.জাবি প্রতিনিধি:
    প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা। সবুজ গাছপালা আর লতাপাতায় ঘেরা ৭০০ একর ভূমি। এর সৌন্দর্য আরো বহুগুনে বেড়ে যায় যখন শীত আসে। প্রতিবছর শীত শুরু হতে না হতেই আসে অতিথি পাখির ঝাঁক। এ বছর ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শীত আসতে না আসতেই জলাশয়গুলো পাখিতে পরিপূর্ণ। সূদুর সাইবেরিয়া,মঙ্গোলিয়াসহ শীতপ্রধান দেশ থেকে আসে অতিতি পাখিরা।

    তবে প্রধান দুটির লেকের মধ্যে অন্যতম পরিবহন চত্বরের পাশের এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেকে অন্যন্য বছরের তুলনায় এবার পাখি কিছুটা কম এসেছে। বিগত বছরে না এলেও এবার বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেকে তুলনামুলক বেশি পাখি এসেছে । পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।
    প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, ‘প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে হিমালয়ের উত্তরে শীত নামতে শুরু করে। ফলে উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়াসহ শীতপ্রধান দেশের তীব্র শীতে টিকে থাকতে না পেরে এ সময় হাজার হাজার অতিথি পাখি দ¶িণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে।’
    বাংলাদেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে তার মধ্যে জাবি ক্যাম্পাস অন্যতম। মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে অতিথি পাখিরা। আবার মার্চের শেষদিকে ফিরে যায় আপন ঠিকানায়। অতিথি পাখিদের মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, কোম্বডাক, গার্গেনী, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি ও পাতারী অন্যতম। এছাড়া মানিক জোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি প্রভৃতি পাখিও আসে প্রতিবছর।
    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুটি লেকে পাখি কম আসার কারণ হিসেবে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন জানান, ‘প্রধান দুটি লেকে পাখিদের বসার মতো পর্যাপ্ত খাবার নেই। আর পরিবহন চত্বরের পাশে হওয়াতে লেকের পাড় সব সময় কোলাহল পূর্ণ থাকে যার দরুন পাখি কম বসেছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেকে খাবার ও পাখি বসবাসের পরিবেশ পাখিদের অনূকুলে থাকায় পাখি বেশি এসেছে।’
    উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সাল থেকে জাবিতে অতিথি পাখি নিয়ে কাজ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি বসার উপযোগী ছোট বড় প্রায় ১৭টি লেক রয়েছে। তাছাড়া পাখির নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের বিধান ও কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে।

    Close