• আজ রবিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৮ ইং ; ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৮ই জ্বিলকদ, ১৪৩৯ হিজরী
  • আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় কিষাণী শ্রমিক সমিতির সেমিনার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি●Photo 2

    সকল ক্ষেত্র নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি সকল ধরণের সহিংসতা রোধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন এবং জাতীয় কিষাণী শ্রমিক সমিতি। more women, more power অর্থাৎ নারীর যত বেশি অংশগ্রহণ, তত বেশি ক্ষমতায়ন-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এ অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
    জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির সভাপতি নাসরিন সুলতানার সঞ্চালনায় এবং বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে উপস্থিত ছিলেন জনাব হাজেরা সুলতানা এমপি। অতিথি হিসেবে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন, নেসলে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি জাকির হোসেন, ইউনিলিভার এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি আখতারুজ্জামান, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফাহমিদা আখতার, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন, ন্যাসলে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সদস্য খাদিজা ইসলাম, ন্যাসলে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর এবং বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক শিউলি শিকদার। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মো. মজিবুল হক মনির।
    মো. মজিবুল হক মনির বলেন, দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ যেমন বাড়ছে, নারীর ক্ষমতায়ন যেমন বেগবান হচ্ছে, তেমনি ত্বরান্বিত হচ্ছে দেশের উন্নয়ন। দেশের মোট জিডিপিতে নারীর অবদান এখন প্রায় ৩৪%, বাংলাদেশের ৪৪% নারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজে জড়িত, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী (৪৯.৪%), দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৩৫.৬% নারী, অথচ সেই নারীর কাছে আছে দেশের মোট ভূমি মালিকানার মাত্র ২-৩%! তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৫৭% নারী কর্মী তার পুরুষ সহকর্মীর চেয়ে গড়ে ৫২% কম বেতন পান, এবং শুধু কম বেতনের কারণে ৩৩% নারী চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। অনেক ক্ষেত্রে বেতন বৈষম্যের পাশাপাশি পদোন্নতির বেলায়ও নারীকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়।
    জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, নারী দিবসে নারীর সাফল্য ব্যর্থতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়, কিন্তু শ্রমজীবী-কর্মজীবী নারীরা তেমন আলোচনায় আসে না। দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শ্রমজীবী নারীর বিষয় ভাবতে হবে আগে। দেশে শীর্ষ পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন প্রশংসনীয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, কিন্তু নারী তার পুরুষ সহকর্মীর সমান সুযোগ ও ক্ষমতা পাচ্ছে না। নারীর উন্নতি এখনো কাক্সিক্ষত মাত্রায় পৌছায়নি কারণ আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। এই মানসিকতা আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।
    বিএএফএলএফ’র সহ সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন বলেন, গণ পরিবহনে নারীর আজ ব্যাপকভাবে নির্যাতিত। নারী শ্রমিকদের জন্য পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে নারী-পুরুষ সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার কথাগুলো যদি মিডিয়ায় গুরুত্ব পায়, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। নারীকে সম্মান জানানোর মধ্যেই সত্যিকার পুরুষের সম্মান বাড়ে। পুরুষকে মানবিক করে ড়গে তুলতে নারী পুরুষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নাসরিন সুলতানা বলেন, নারীর জন্য শ্রম মজুরি নিশ্চিত করা, কর্মজীবী নারীর অধিকার নিশ্চিতকরতে হলে অবশ্যই নারী শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ করে দিতে হবে। যে সংস্কৃতি আমাদের নারীকে অধিকার বঞ্চিত করতে চায়, সেই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন করতে হবে। ন্যাসলে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সদস্য খাদিজা ইসলাম বলেন, নারীর পাশে নারীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া পৃথিবী আজকের অবস্থানে আসতে পারতো না। নারীকে তার দক্ষতা প্রমাণের জন্য চেষ্টা করতে হবে। ন্যাসলে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর বলেন, আমরা আমাদের মাকে যেমন ভালবাসি, মায়ের জাতি নারীকেও আমাদের  সমান ভালবাসা-সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতে পারলে নারীর প্রতি কোনও সহিংসতা বা বৈষম্য থাকার কথা না। বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক শিউলি শিকদার বলেন, নারী আজ শুধু বাইরেই নয়, ঘরেও নির্যাতিত। তাই নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের আন্দোলন শুরু করতে হবে ঘর থেকেই। ইউনিলিভার এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি আখতারুজ্জামান বলেন, নারী বা পুরুষ আলাদা না ভেবে আমরা সবাইকে মানুষ হিসেবে ভাবলেই কিন্তু সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। সংবিধানে বলা আছে নারী পুরষের বৈষম্য থাকবে না। তাই এই বৈষম্য রোধ করা কিন্তু অধিকার, এই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেসনের দপ্তর সম্পাদক গোলাম সরোয়ার বলেন, কর্মক্ষেত্রে, সংগঠন বা সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ উন্নয়নের জন্যই প্রয়োজন। নারীই আসলে দৈনিক সবচেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করেন, সুতরাং তার এই শ্রমের মূল্যও দিতে হবে যথাযথভাবে। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম আমিন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি সকল ক্ষেত্রেই মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করতে হবে। আমাদের বাজেটে নারী শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য আলাদা করে কোনও বরাদ্দ নেই, নারী শ্রমিকদের কল্যানের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ দাবি করি। সকল প্রতিষ্ঠানে, কারখানায় নারী শ্রমিকদের শিশু সন্তানদের ডে কেয়ারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    হাজেরা সুলতানা এমপি বলেন, নারীর কথাগুলো নারীকেই সোচ্চার কণ্ঠে বলতে হবে। যে নারী শ্রমিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, সেই নারী শ্রমিকটিকেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। প্রবাসী নারী শ্রমিকরা ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, গৃহকর্মী হিসেবে যেসব নারী বিদেশে যাচ্ছে তারা কৃতদাসে পরিণত হয়েছে। তাদের কথা ভাবতে হবে।

    আব্দুল মজিদ বলেন, নারীরা আজ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষা, কর্মসহ নানা ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, কিন্তু এখনো নারী শ্রমিকদের যথাযথ অবস্থান তৈরি করতে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। চাকরিসহ কর্মসংস্থানের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের সমান সুযোগ নারীকে দিতে হবে, নারী শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে হবে।

    ফাস্ট বিডিনিউজ২৪/ কে এস

     

    Close