• আজ সোমবার, ২৮শে মে, ২০১৮ ইং ; ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১২ই রমজান, ১৪৩৯ হিজরী
  • সাবেক এমপি খান টিপু সুলতান আর নেই

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● 

    khan-Tipu-Sultan

    যশোর-৫ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা খান টিপু সুলতান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় খান টিপু সুলতান মারা যান। তার ছেলে হুমায়ুন সুলতান সাদাব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মরহুমের জানাজা রোববার সকাল ১১টায় সংসদ ভবনে, বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে, বাদ আসর যশোর শহরে এবং বাদ মাগরিব মনিরামপুরে অনুষ্ঠিত হবে। বাদ এশার পর খুলনার ডুমুরিয়ায় নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

    গত ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার যশোর শহরে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে খান টিপু সুলতান শরীরে জ্বর অনুভব করেন। এর মধ্যে হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে যান। স্বজনরা তাকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

    ঢাকায় নিয়ে তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি দেখে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানানো হয় ম্যানেনজাইটিজ রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ব্রেনে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে পানি জমছে।

    খান টিপু সুলতান ১৯৫০ সালের ১৩ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়ার জমিদার বাড়ি অর্থাৎ মামার বাড়িতে তার জন্ম। দাদার বাড়ি নড়াইল জেলার নড়াইল থানার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের গোয়াল বাতান গ্রামে।

    দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন বাবা ক্যান্সারে মারা গেলে খান টিপু সুলতান অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন। এসময় লেখাপড়ার জন্য তাকে যশোরের লোন অফিস পাড়ায় মামাবাড়ি চলে আসতে হয়।

    এরপর ১৯৬৬ সালে যশোর সম্মিলনী স্কুলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এসময় তিনি অনেক ছাত্রকে ছাত্রলীগের সদস্য করেন এবং ছাত্রলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। এতে জেলা ছাত্রলীগের নেতারা খুশি হয়ে ওই সময়েই তাকে যশোর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। ১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি পুনঃনির্বাচিত হন।

    খান টিপু সুলতান ১৯৬৯ সালে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে যশোর অঞ্চলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৯ সালে অনুষ্ঠিত জেলা ছাত্রলীগ সম্মেলনে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও ১৯৭১ এর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে যশোর জেলার সাধারণ জনগণের কাছে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    এরপর ১৯৭৮ সালে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেটশিপ অর্জন করেন এবং আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে তার উদ্যোগে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এর পর পরই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচন করা হয়।

    খান টিপু সুলতান ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে যশোর-৫ (মনিরামপুর) হতে নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে আবার যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

    দাপুটে এই আওয়ামী লীগ নেতা ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে যশোর-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খান টিপু সুলতান আওয়ামী লীগের হয়ে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/ই ই

    Close