• আজ সোমবার, ২৮শে মে, ২০১৮ ইং ; ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১২ই রমজান, ১৪৩৯ হিজরী
  • নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান এমপি নাবিলের

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ● 

    nabil jsr

    সম্প্রতি সদর যুবলীগের আহ্বায়কসহ তিন নেতা-কর্মীর ওপর হামলার বিষয়ে প্রশাসনকে উদ্দেশ করে যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, যশোরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং নিরীহ কর্মীরা যেন আপনাদের রোষের শিকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখুন; নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকুন।

    তিনি যশোরকে মডেল শহর হিসেবে গড়তে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে ছোটখাটো বিভেদ আছে, তা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
    তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যদি নিজেদের মধ্যে হানাহানি রেষারেষি হয়, তাহলে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বিএনপি-জামায়াত ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে।

    রবিবার বিকেলে যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে যশোর সদর ও শহর আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে’ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    আগস্ট এলেই বাঙালি ব্যথিত হয়, ভারাক্রান্ত হয়। বঙ্গবন্ধুকে এ মাসেই সপরিবারে হত্যা করেছিল ৭১’র পরাজিত শত্রু আর তাদের দোসররা। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টাসহ নেতা-কর্মীদের দুঃসহ যন্ত্রণার কথা তুলে ধরতে গিয়ে যশোরে এসব কথা বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।

     বিপুল নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই জনসভায় কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন দেশটির পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাকে হত্যা করা হয়েছিল, কেননা তিনি শোষিত মানুষের মুক্তির কথা বলতেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে কেননা, তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতিশীল ভূমিকা নিয়েছিলেন।

    কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ট্রোর উক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন হিমালয়ের মতো। সত্তুরের দশকে সারাবিশ্বের মানুষ এক নামেই তাকে চিনতো, যেমন নব্বুইয়ের দশকে সবাই চিনতো আফ্রিকার গণমানুষের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে।

    তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে খুন করার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় ছিল। এই ২১ বছরে তারা বাংলাদেশকে নব্য পাকিস্তান বানায়। সেই রকম অবস্থা থেকে আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

    সংসদ সদস্য কাজী নাবিল সারাদেশে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, মাত্র দু’মাসের মধ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ আইটি পার্ক হিসেবে যশোরে শেখ হাসিনা আইটি পার্ক উদ্বোধন হবে। এটি চালু হলে এ অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তিনি আরও বলেন, ভৈরব নদের খনন ও বিউটিফিকেশনে শিগগিরই ৬০০ কোটির  কাজ শুরু হবে।
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি এমএম কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ, শামস উল হুদা স্টেডিয়াম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক সংসদ সদস্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির ইত্যাদি উন্নয়নের জন্যে ৫ বছরে বরাদ্দ পান ২০ কোটি টাকা। কিন্তু মন্ত্রী, সচিবসহ প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে আমি এই সাড়ে তিন বছরে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়েছি। দু’দিন আগে খবর পেয়েছি, এ অঞ্চলের উন্নয়নে আরও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

    তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা যশোরের ৬টি আসনে যাদের মনোনয়ন দেবেন-তাদের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আরও একবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে আমাদের অসমাপ্ত উন্নয়নের কাজগুলো করার জন্যেই। সেকারণে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনও বিকল্প নেই।
    যশোর সদর আওয়ামী লীগ সভাপতি বাবু মোহিত কুমার নাথের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের জেলা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন।

    তিনি বলেন, যশোরে যারা বিভেদ তৈরি করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান, তারা আজকের এই জনসমুদ্র দেখে শিক্ষা নিন। উন্নয়ন ও স্বস্তির শহর গড়ার কারিগর সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদকে তৃণমূলের মানুষ চান। তারা আগামীতেও এই নেতাকে তাদের দলের সংসদ সদস্য হিসেবে পেতে চান। আর সেকারণেই মানুষ ছুটে এসেছেন।
    জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের উদাত্ত আহ্বান—তিনি যেন যশোর-৩ আসনে পুনরায় কাজী নাবিল আহমেদকে মনোনয়ন দেন বলেন তিনি।

    সদর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মেহেদি হাসান মিন্টুর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম, দলের শহর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুখেন মজুমদার, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সেতারা খাতুন, মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী লাইজু জামান, জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির হোসেন টগর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি অধ্যাপক নূরে আলম মিলন, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সেক্রেটারি শামিম হোসেন, শহর যুবলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান মিলু, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম মাজহার, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান হোসেন প্রমুখ।

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪/ই ই

    Close