• আজ রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ; ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৭ই জ্বিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী
  • ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে হৃদয়

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কাউন্সিলে এবার নতুন চমকের ঘোষণা দিয়েছে হাইকমান্ড। অদৃশ্য সিন্ডিকেটের বলয় থেকে ছাত্রলীগকে মুক্ত করতেই এমন ঘোষণা এসেছে। এবারের কাউন্সিলে নির্বাচনের পরিবর্তে তাই নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্বে কারা আসছেন সে বিষয়ে কেউই বলতে পারছেন না কিছু। তবে ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় এগিয়ে আছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ্ আহমেদ হৃদয়। ইতোমধ্যে তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের জন্য মনোনয়ন পত্রও সংগ্রহ করেছেন।

    ছাত্রলীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, এবারের কাউন্সিলটি অন্যান্যবারের কাউন্সিলের চাইতে আলাদা হবে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে খাঁটি মাঠের কর্মীকেই সংগঠনের দায়িত্ব দিতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেজন্যই নেতৃত্ব নির্বাচনে নতুনত্ব আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

    সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌঁড়ে অন্যান্যদের চাইতে হৃদয় এগিয়ে আছেন বলেও জানান সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী। তারা জানান, ‘যেহেতু মাঠের কর্মীদেরকেই মূল্যায়ন করার বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসছে, সে হিসেবে হৃদয়ের অবস্থান অন্যদের চাইতে ভালো। গত কয়েক বছর ধরে ছাত্রলীগের সব আন্দোলন সংগ্রামে হৃদয়ের সরব উপস্থিতি যেমন ছিলো, তেমনি সাংগঠনিক যোগ্যতার দিক থেকেই তিনি আর সবার চাইতে এগিয়ে আছেন’

    এদিকে অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৫ বছর ধরে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে বৃহত্তর বরিশাল থেকে কেউ আসেনি। অথচ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বরিশালের অধিবাসীদের অবস্থান তূলনামূলক শক্তিশালী। সেই দিক বিবেচনা করে বরিশাল থেকে এবার শীর্ষ নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর বরিশাল অঞ্চলের প্রসঙ্গ এলে হৃদয়ের চাইতে সক্রিয় কেউ নেই বলেও সূত্রটি দাবি করে।

    এছাড়াও সালেহ্ আহমেদ হৃদয় ছাত্রলীগের ডাকে সব ধরণের আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করেন কোনো কোনো নেতা। ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, বিএনপি-জামায়াতের সরকার বিরোধী হরতাল, অবরোধ ও ধর্মঘট প্রতিহত করে মানুষের জানমাল রক্ষায় হৃদয়ের সাহসী ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তারা।

    পাশাপাশি ২০১৪ সালে বিএনপি জামায়াতের ডাকা অবরোধের বিরুদ্ধে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণ, ২০১৫ সালে বাংলামোটরে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেনকে চাপা দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গাড়ি বহরকে প্রতিহত করাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে তার অগ্রণী ভূমিকারও প্রশংসা করেন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা।

    প্রসঙ্গত, সালেহ্ আহমেদ হৃদয় ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেকে গড়ে তুলেন। ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার পরেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে। দীর্ঘ এই ছাত্র রাজনীতির যাত্রায় তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন।

    নেতৃত্বের আলোচনায় এগিয়ে থাকা প্রসঙ্গে হৃদয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ করি বঙ্গবন্ধু আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়নের জন্য। নিজস্ব কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ সংগঠন করি না। ফলে সব সময়ই রাজপথে আবার অবস্থান ছিলো। যেহেতু এ সংগঠনকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি, তাই আমি চাই এ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সংগঠনকে আরও আদর্শ ও গতিশীল করে তুলতে। তবে এ বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নিবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, তাহলে আমি আমার সবকিছুর বিনিময়ে তার মর্যাদা ও সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    Close