• আজ রবিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৮ ইং ; ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ৮ই জ্বিলকদ, ১৪৩৯ হিজরী
  • সাবিহা || তিয়াশা সুরভী

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●
    তিয়াশা সুরভী

    তিয়াশা সুরভী


    অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন
    পেলাম খুঁজে এ ভুবনে আমার আপনজন
    তুমি বুকে টেনে নাও না প্রিয় আমাকে
    আমি ভালোবাসি…ভালোবাসি

    দোকানদার প্রতি সন্ধ্যায় এই গান বাজায়।কাস্টমারেরা এই গানই মাথা দুলিয়ে শুনতে শুনতে চা ,বিড়ি ,পান খায়।হলের পাশের দোকান বলে প্রতি দু তিন ঘন্টা পর পর কাস্টমারের চাপ বাড়ে।দোকানদার কুদ্দুস ও তখন গানের ভলিউম উঁচা করে দেয়।
    আজ চতুর্থদিন।পল্লব সাবিহা সিনেমা হলের পাশের দোকানে বসে চা খাচ্ছে।গান বাজছে নিচু ভলিউমে অনেক সাধনার পরে আমি……।এই এক গান পঞ্চাশ বারের বেশি শোনা হয়ে হয়েছে।পল্লব এক গান বার বার বাজানোর বিষয়টা বুঝতে পারেনা।

    দোকানদার কুদ্দুসও এই কাস্টমারের মতিগতি বুঝতে পারেনা।প্রতিদিন আসে ,চা খায় ,বাইরে ঘুরে আসে আবার চায়ের অর্ডার দেয়। সিনেমা দেখতে আসে না এইটা কুদ্দুস বুইঝা ফেলছে ,প্রতিদিন এতো মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় আর কে কোন কামে আহে এইটা কুদ্দুস বুঝবো না এইটা হয় না। কুদ্দুস কাস্টমারের সাথে ওতো পিৎলা খাতির করে না।আবার কহন বাকি চাইয়া বইয়া থাকে। তয় অন্য কাস্টমার না থাকলে দুই একটা কতা এই লোকের সাথে কওন যায় কুদ্দুস ভাইবা দেখল। কিন্তু উনি কিছুই কয় না জানতে চাইলে।

    পল্লব গান শুনে আর ভাবে আজ বলতেই হবে।আজ নিয়ে যেতেই হবে।বাসায় এই সময়ে কেউ থাকেনা।থাকলেও অসুবিধা হতো না।সবাই বন্ধু মানুষ।আর মেসের বাকি তিনজনের এক জন না এক জন মাঝে মাঝেই রাতে কাউকে নিয়ে ফেরে।তখন পল্লব আর অন্য সবাই রাস্তায় চলে জায়।গল্প গুজব করে ঘন্টা দুই এক পর ফিরে আসে।পল্লব ও ভেবেছে কাউকে নিয়ে যাবে।কোথায় গেলে ওদের পাওয়া যায় তা জেনেছে বন্ধুদের কাছ থেকেই।এখন ওর ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে কাউকে নিয়ে বাসায় ফিরতে।পল্লব পকেটে হাত দিয়ে দেখে ঠিক মতো আছে কিনা।আজ চারদিন ধরে টাকাটা আলাদা করে রেখে দিয়েছে।তিনশত টাকা। জদিও ওরা বলে আরও কম রেট।কিন্তু পল্লব এখনো বুঝে উঠতে পারছেনা দরদাম কিভাবে করে।আর দরদাম ত দূরের কথা ওদের সাথে এখনো কথাই বলতে পারে নি।
    তবে পল্লব ওদের কে দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে।বোরকা ওয়ালীদের ভাল লাগেনা ।ওর পছন্দ হয়েছে অন্য একটা মেয়েকে।হাতে কাচের লাল চুড়ি পরে।তবে পল্লব সাহস করে উঠতে পারেনা।চুড়িওয়ালির সাথে এক লোক কে প্রায় প্রতিদিন ই দেখা যায়।অন্ধকারে দাঁড়িয়ে কথা বলে।ওই লোক কি বলে আস্তে আস্তে আর চুড়িওয়ালি খিলখিল করে হাসে।পল্লব চা খেয়ে দেখে আসে, আবার ফিরে যায়।কিছু বলতে পারেনা,আর প্রতিরাতে বাসায় যেয়ে আফসোস করে।
    সিনেমার শো শুরু হয়ে গেলে মানুষের ভিড় কমে যায়।কিন্তু কিছু মানুষ থেকেই জায়।আর অনেকেই ঘুরতে থাকা মেয়েদের সাথে যেয়ে কথা বলে।ওদের কে নিয়ে যায় অন্য কোথাও।চুড়িপরা মেয়েটা কে মাঝে মাঝে দেখা যায় অনেকের সাথে ফিসফাস করে কথা বলছে।
    পল্লব গান শুনছে আর ভাবছে মেয়েটা আজ আসছেনা কেন,অন্য কারো ঘরে গিয়েছে, কতো সময়ের জন্য।আজ কি আর আসবেনা?
    পল্লব গেটের সামনে যেয়ে দেখে এলো ,কিন্তু নেই।এই লোক আছে যার সাথে কথা বলতে দেখা জায়।পল্লব কে লোকটা আসতে করে ইশারা করলো,পল্লব কাছে যেতেই ফিসফিস করে বলে,ব্রাদার কিছু লাগবো? ভাল জিনিস আছে,রেট ও কম আছে।
    পল্লব কিছু লাগবেনা বলে চলে আসতে চাইল।কিন্তু লোকটা পিছু নিল ,ব্রাদার কতোর মধ্যে চান?দাম টা বলেন।সব ঠিক কইরা দেওয়া যাইব।পল্লব দ্রুত হেঁটে অনেকদূর এসে পড়ল।আবার গেল চা খেতে।
    কুদ্দুস ভাবতেছে ,কি করন যায়।এই কাস্টমারের কি অসুবিধা বুঝা লাগব।অন্য কোন ভেজাল নাই ত।শেষে কোন বিপদে পড়া লাগে।কুদ্দুস কোন বিপদ চায় না।এমনিতেই সে থাকে ডরে ডরে।নানান কিসিমের মানুষ,কার মনে কি আছে আল্লাহ মাবুদ জানে।
    ভাইজান কি কাউকে খুজেন?কুদ্দুস পল্লবকে প্রশ্ন করে।পল্লব একবার ভাবে বলি, আবার লজ্জা লাগে।কুদ্দুসের দোকানে চা খেতে যারা আসে তাদের কে কুদ্দুস কিছু লাগলে ঠিক করে দেয়।কিছু কমিশন কুদ্দুস পায় এটা পল্লব দেখে শুনে জানতে পেরেছে।পল্লব জানায় কিছু লাগবেনা।
    কুদ্দুস মনে মনে বলে কিছু লাগব না তয় ভং ধইরা বইসা না থাইকা আমার চেয়ার ছাড়লেই হয়।

    পল্লব যতবার অনেক সাধনার পরে তুমি গান শোনে সে ততবার ভাবে এইবার যেয়ে বলতেই হবে।কিন্তু মেয়ের সামনেই যেতে ভয় পায়।আশে পাশের মানুষের মুখের দিকে তাকালেই লজ্জা লাগে।মনে হয় সবাই ওর মনের কথা জানে।ও রাতে কি কি ভাবে এই মেয়েকে নিয়ে।
    রাত নয়টার শো শুরু হয়েছে ।মানুষ জন কম অনেক।পল্লব দেখে মেয়েটি একা দাঁড়িয়ে আছে,আশে পাশে কেউ নেই।পল্লব ভাবে এখন ই সময় ।সে দুই কদম যেয়ে থমকে দাঁড়ায়। ফিরে আসে। কিন্তু আবার ভাবে এই সুযোগ সে আর পাবেনা।একটু সাহস লাগছে,হাত পা একটু ঘামছে কিন্তু সে যাবে।

    মেয়েটী দেখছে পল্লব কে।অন্ধকারে চেহারা দেখা যাচ্ছেনা কিন্তু কর্মকান্ড দেখা জাচ্ছে।পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাম মুছতে দেখল।মিটিমিটি হাসে অপেক্ষা করে কখন সামনে আসবে।
    পল্লব কাছে আসতেই মেয়েটি খিলখিল করে হেঁসে উঠে।পল্লব আশে পাশে তাকিয়ে দেখে। নাহ কেউ দেখছেনা।
    কি কই জাইবা আমারে নিয়া?
    পল্লব অবাক হয়ে তাকায়,পল্লব তো কিছু বলেনি এখনো।
    মেয়ে আবার জানতে চায় ,নাকি নেয়ার জায়গা নাই?
    পল্লব বলে ইয়ে ,আমার কাছে তিনশত টাকা আছে
    মেয়েটি বলে হইব,তিনশই হইব।তয় তাড়াতাড়ি ছাড়ন লাগবো।
    পল্লব কি বলবে খুঁজে পায় না,রুমাল খুঁজতে থাকে
    -কি কইলানা কই নিয়া জাইবা
    -১৫ নাম্বার রোড।
    -ক্যান পনের ক্যান? ষোল নাম্বার নিয়া যাও।
    পল্লব টাকা বের করে দেয়।মেয়েটী টান দিয়ে নিয়ে নেয় আর বলতে থাকে, অনেক তাড়া মনে হয় তুমার?জলদি নিয়া চলো তাইলে ।
    পল্লবের এখন ভাল লাগছেনা।মেয়েটীকে দূর থেকে যেমন মনে হয়েছিল এখন আর মনে হচ্ছেনা।পান খেয়ে বার বার পিক ফেলছে পায়ের কাছে।কথা বলছে আর গায়ে হাত দিচ্ছে পল্লব চমকে চমকে উঠছে।শুধু মেয়েটির হাঁসি কানে বাজতে থাকে অনেক ক্ষণ ধর।

    নাম কি আপনার?
    -নাম দিয়া কি করবা?সাবিহা।সাবিহা হলের সামনে থাকি তাই আমার নাম সাবিহা।
    পল্লব কিছু বলেনা।মেয়েটি বলে- যাও এখান থেকে।আমি তোমাকে নিয়ে জাচ্ছিনা কোথাও।
    -ক্যান,রাগ করছ?যাও সাবিহা না ডাইকা যা ডাকবা তাই হইব আমার নাম
    পল্লব আবার বলে-আমি যাচ্ছি।মেয়ে পিছু পিছু আসতে নেয়।পল্লব তাড়াহুড়ো করে একটা খালি রিক্সায় উঠে বসে।
    রিকসা সাবিহা সিনেমা হলের সামনে থেকে চলে আসে ঠিকই কিন্তু পল্লব সাবিহার খিলখিল

    হাঁসি শুনতে পায় বাসায় ঢুকেও ।


    এক কাপ চা দিও। দোকানে গান বাজছে –

    তুমি বুকে টেনে নাও না প্রিয় আমাকে
    আমি ভালোবাসি…ভালোবাসি

    Close