• আজ রবিবার, ২৭শে মে, ২০১৮ ইং ; ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১১ই রমজান, ১৪৩৯ হিজরী
  • এ থ্রি এইট জিরো || আবদুর রহমান ফারুকী

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●Ab Rahman Faruki eid 2017

    আবদুর রহমান ফারুকী ●
    ইমিগ্রেশন পার হয়ে ওয়েটিং রুমে ওয়েট করছে আবির, জোভান, আদনান আর তৌসিফ। গ্রিষ্মের ছুটিতে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। আবির ছাড়া বাকিদের বাবা আর মা অবশ্যি বারণ করেছিলো। কিন্তু কে শোনে কার কথা। আর আবিরকে বারণ করবেই বা কে?! তার তো বাবা আর মা নেই। বড়ো হয়েছে এবং হচ্ছে বড়ো চাচার কাছে। জোভান, মোবাইল স্ক্রিনে দু’হাতের বুড়ো আঙুল ঝড়ের বেগে চলছে। গেইম খেলছে। ফিফা ফিফটিন। বলতে গেলে গেইম এডিক্টেডেট সে। সে গেইম খেললে পৃথিবী থেকে বের হয়ে অন্য কোনো গ্রহে গিয়ে খেলে। আন্টি একবার বলেছিলো একবার নাকি গেইম খেলতে খেলতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো। ঢাকনাবিহীন ম্যানহল দেখতে পায় নি। একটুপর নিজেকে আবিষ্কার করলো গলা অবধি ডুবে আছে ‘ইয়ে’তে। ইয়াক!! তৌসিফ, ছেঁড়া মলাটের বই পড়ছে একটা। ভার্সিটিতে সবাই ‘বই পোকা’ বলেই ডাকে। ঘুম আর খাওয়া নাওয়া ছাড়া ছেঁড়া হোক ভালো হোক হাতে বই থাকবেই থাকবে। পরিবারশ্রুতি আছে টয়লেটেও নাকি বই নিয়ে যায়। কোন হাতে কেম্নে কী করে?! কে জানে। আদনান, স্ন্যাপব্যাক বেইজবল ক্যাপ নাক পর্যন্ত ঢেকে ঘুমুচ্ছে। একটু সময় পেলেই ঘুমোয় আর ঘুমোয়। আমরা যেমন জেগে থাকি এবং মাঝে মাঝে ঘুমাই আর ও ঘুমিয়ে থাকে এবং মাঝে মাঝে জেগে উঠে। হঠাৎ মেয়েলি কন্ঠ এলাউন্সমেন্ট হলো। আবির ব্যাগ কাঁধে ঝোলাতে ঝোলাতে- – ‘গাইস!! উই’ভ টু গো’। – ‘আবির ! আর একটু… একটা মাত্র গোল’; স্ক্রিনে ডুবন্ত জোভানের শিশু আবদার। – ‘তোর গোলে গুলি মারি!! তুই উঠবি!? তোকে ফেলেই…’ – ‘আচ্ছা আচ্ছা ! উঠছি। চ্যাতস ক্যান!!’ একে একে সবাই চেকিং গেইট পার হচ্ছে। আর আবির এদিকে কুয়াশায় ঘোলা হয়ে থাকা কাঁচ শার্টের হাতা দিয়ে মুছে বাহিরে তাকালো। সাদা ধবধবে বিশাল বিমান। কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে। আবছা ভাবে দেখা যাচ্ছে সাদা গায়ে বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা ‘এ থ্রি এইট জিরো এয়ারবাস’। লাইন ধরে সবার সাথে বিমানে ঢুকে পড়লো। বোডিং পাস এয়ার হোস্টেসকে দিতেই সিটগুলো দেখিয়ে দিলো। মাঝখানের এ ফাইভ থেকে এ নাইন পর্যন্ত ওদের। ওভারহেড লোকারে ব্যাক প্যাক রেখে যার যার সিটে বসে পড়লো। জোভান আবারো স্ক্রিনে ডুব দিলো। বন্ধ বই হাতে নিয়ে বসে আছে তৌসিফ। হয়তো পড়তে ইচ্ছে করছে না। আদনান সিট বেল্ট বাধায় ব্যস্ত। আবির সিট বেল্ট বাধতে গিয়ে আবিষ্কার করলো অর্ধেক ছেঁড়া। অর্ধেক ছেঁড়াটাই বেধে ফেললো। সামনের ছোট্ট স্ক্রিনে ঝিমানো টাইপ ইংলিশ গান চলছে। মাঝে মাঝে আবার ঝির ঝির করে উঠছে। এ গান বেশিক্ষন দেখলে সে নিজেও একটুপর ঝিমাতে শুরু করবে। হাতলের সুইচ টিপে দিলো। আবার দিলো। কাজ করছে না। ঝিমানো টাইপ চলছেই। পেছনের সিটে উঠতি বয়সী কিছু মেয়ে অকারণেই হাসছে। হয়তো একে অপরের গায়ে ঢলে পড়ছে। সাথে আছে সেলফির ‘ক্লিক’ শব্দ। একবার পেছনে তাকাতে গিয়েও তাকালো না। মাথার উপর অ্যাটেনশন কল বাটন টিপে দিলো। ছিপছিপে গড়নের খুবই সুন্দর একটি মেয়ে এসে বললো- – হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?? স্যার! আবির কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো- – ওয়াটার, প্লিজ । -জাস্ট মিনিট। স্যার! আবির নিজের দিকে তাকিয়ে ভাবছে। মেয়েটির কাছে কোন দিক দিয়ে তাকে ‘স্যার’ মনে হলো!?। চার মিনিট হয় নি ছিপছিপে গড়নের খুবই সুন্দর মেয়েটা পানি নিয়ে এলো। ততক্ষনে বিমান চলতে শুরু করেছে। হাত থেকে গ্লাস নিতে যাবে অমনি ভীষন ভাবে ঝাকি দিয়ে থেমে গেলো বিমান। গ্লাসের সবটুকু পানি আবিরের টি-শার্টে গড়িয়ে পড়ে গেলো। ‘আ’ম সরি! স্যার!!’ বলে দ্রুত টিসু বাড়িয়ে দিলো। পানি মুছতে মুছতে শুধু বললো ‘ইট’স ওকে’। আবার চলতে শুরু করেছে এ থ্রি এইট জিরো এয়ারবাস। খুব ক্ষীনভাবে কাঁপছে। আশপাশের সবকিছু। কীরকম ভাবে জানি কাঁপছে। সামনের ককপিট উঁচু হয়ে উপরে উঠে যেতে লাগলো। তবুও থেমে নেই ক্ষীণ কাঁপুনি। উপরে উঠার পর থেকে থেকে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। হাতল চেপে ধরে আছে আবির এবং অন্যরা। চোখের পাতা বুজে আছে। হঠাৎ ডানপাশে কাত হয়ে আবার সোজা হয়ে গেলো। আশপাশের যাত্রী অল্পেকটু গুঙিয়ে উঠলো। এয়ার হোস্টেসরা ইশারা ইঙ্গিতে বলছে সব ঠিক হয়ে যাবে। এয়ার হোস্টেস হেড ওয়ারলেসে পাইলটের সাথে কথা বলছে। তার রক্ত সরে যাওয়া চেহারা দেখেই আবিরের কেনো জানি মনে হলো-সব কিছু আর ঠিক হয়ে যাবে না। বাড়ছে ঝাকুনি কাঁপছে যাত্রী। বারবার উঠে পরার চেষ্টা করছে সবাই। জোভান মোবাইল টোবাইল ফেলে চোখ বুজে বিরবির করছে আর বারবার বুকে ফুঁ দিচ্ছে। এয়ার হোস্টেসরা বারবার শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। পারছে না এবং হচ্ছে না। হটাৎ এক পিচ্চি ছেলের চিৎকারে সবাই সেদিক তাকালো। জানালা দিয়ে কিছু একটা ইশারা করছে। সেদিক তাকাতেই খাঁচে জমে থাকা বরফের মতন সিটের মধ্যে জমে গেলো আবির। স্পষ্ট দেখলো বিমানের ডানপাশের জেট ইঞ্জিনে আগুনের ঝলকানী হতে হতে আগুন ধরে যাচ্ছে। আবারো ডানপাশ কাত হয়ে গেলো তবে আর সোজা হলো না। কাত হয়েই রইলো। সিট বেল্ট খুলে ফেলার কারণে অনেক যাত্রীই ডানপাশে হুড়মুড় করে পড়লো। কানে তালা লাগানোর যোগার ইমার্জেন্সি সাইরেন্স বেজে উঠলো। অনেকগুলো লাল বাতি ঝলছে আর নিভছে। নিভছে আর ঝলছে। উপর থেকে অক্সিজেন মাস্ক নেমে এসেছে। ওভারহেড লোকার খুলে গিয়ে আছড়ে পড়ছে ভারি ভারি লাকেজ আর প্যাকেজ। কারোর মাথায় কারোর মুখে। রক্তাক্ত হচ্ছে কেউ কিংবা বেহুশ। দূর থেকে ধেয়ে আসছে খাবার বোঝাই ট্রেগুলো। নাক মুখ থেতলে দিচ্ছে। কলজে হিম করার মতন চিৎকার আর আত্মচিৎকারে ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশ। বিমানের ভেতর ভয়ংকর এক হুলুস্থুল ।কেয়ামতের আগ মুহুর্তে ঠিক এমনি হবে হয়তো কিংবা আরো ভয়ংকর। এরইমধ্যে পাশ ফিরে তাকালো আবির। তৌসিফ আর আদনান চোখ বুঝে বিরবির করছে। হয়তো দোয়া দুরুদ পড়ছে। জোভান নেই। ভয়ে জ্ঞান আর হুশ হারিয়ে ইমার্জেন্সি গেইটের দিকে ছুটে যাচ্ছে। কী ভয়ানক কাজ করতে যাচ্ছে বুঝে গেলো আবির। “জো~ভান” গলার তিনটে রোগ ফুলিয়ে চিৎকার দিলো। সাইরেন্সের বিকট আওয়াজে চাপা পড়ে গেলো। পৌছে গেছে জোভান। ধরে ফেলেছে হাতল। টান দিলো বলে। এরপর…?। ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেলো আবিরের। আরো একটা রোগ ফুলিয়ে “জো~ভান! ডো~ন্টট”। টান দিয়ে ফেলেছে জোভান। প্রচন্ড শো শো কালো বাতাস গেইট সুদ্ধ উড়িয়ে নিয়ে গেলো জোভানকে। কোন দেশে বা পাদদেশে নিয়ে ফেলবে কে জানে। ধীরে ধীরে পাগল হয়ে যাচ্ছে মনে হয় আবির। কী করবে না করবে বুঝে উঠতে পারছে না। সেই ছিমছিমে গড়নের খুবই সুন্দর মেয়েটা এক কোণে পড়ে আছে দেখলো। রক্তে ভিজে মাথার চুল গালে লেপ্টে আছে। অজ্ঞান নাকি মৃত্যু বুঝার উপায় এবং সময় কোনোটাই নেই এখন। হঠাৎ বিমানের ককপিট নিচু হয়ে গেলো। এতক্ষনে অর্ধেক ছেঁড়া বেল্টের কাণে হুড়মুড় করে পড়ে যায় নি। এবার পুরোটা ছিঁড়ে গেলো। সিটের শক্ত কোণা, টয়লেটের ভারি গেইট, খোলা ওভারহেড লোকার আর মেঝেতে বাড়ি খেতে খেতে ককপিটের দরোজায় আছড়ে পড়লো এবং পড়েই থাকলো। ইমার্জেন্সি সাইরেন্সের জ্বলা-নিভু বা নিভু-জ্বলা আলোতে ডান কান থেকে গড়িয়ে পড়া একটা রক্তের ধারা অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রক্তের ধারাটা কালো। গাঢ় লাল আলোতে রক্ত হয়তো কালো হয়ে যায়। কতক্ষণপর জিজ্ঞেস করলে বলতে পারবে না। মাথাটা একটু উঁচু করলো আবির। জ্বলা-নিভু আলো দেখতে পাচ্ছে কিন্তু কানে তালা লাগার যোগার বিকট সাইরেন্স আর শুনতে পাচ্ছে না। কানে হয়তো আসলেই তালা লেগে গেছে। অনেক কষ্টে এবং সষ্টে ককপিটের দরোজা খুলে ভেতরে তাকালো এবং সাথে সাথে মেরুদন্ড দিয়ে শীতল দু’টা স্রোত বয়ে গেলো। পাইলট দু’জনই অজ্ঞান পড়ে আছে। লুকিং মিররে নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছে নিচের পাথুরে ভূমি। আর মাত্র একশ’ বা একশ’ বিশ গজ। এরপরেই আছড়ে পড়বে এ থ্রি এইট জিরো । দুমড়ে মুচড়ে যাবে এয়ারবাস। হয়তো আগুনে পুরে সবাই এইটুকুন কোলের শিশু হয়ে যাবে। বাবা মা কেউই আর চিনতে পারবে না। আবিরের বড়ো চাচা কি চিনতে পারবে?!! আপনা আপনিই মুখ দিয়ে বিকট চিৎকার বেরিয়ে এলো ‘আ~~~…’ কাঁধে তৌসিফের হাত পড়তেই “আ~~” থেমে গেলো। শেষ করতে পারলো না আর। – আবির!! হোয়াট’স রঙ্গ??!! – আ…আমম… – অমন করে চিৎকার করছিলি?? কেন!! স্বপ্ন?? -কি…কিছউ ন্না…। ভারি শ্বাস প্রশ্বাসে কথা আটকে যাচ্ছে। আশপাশের সব চোখ জোড়া তার দিকে। বড়ো বড়ো চোখ জোড়া। চোখ বন্ধ করে ঝিম মেরে বসে রইলো কিছুক্ষন। নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। কেমনে কী হলো বোঝার চেষ্টা করছে। আসলেই….??!! মাথার উপর লালবাতি সিট বেল্ট বাধার সঙ্কেত দিচ্ছে। আবির শার্টের গুটানো হাতা দিয়ে মুখ মুছে নিজের বেল্ট বাধতে গিয়ে আবিষ্কার করলো অর্ধেক ছেঁড়া। অর্ধেক ছেঁড়া বেল্ট ধরা হাতটা কাঁপছে। তির তির করে। কী মনে করে জানি সামনের ছোট্ট স্ক্রিনে তাকালো। ঝিমানো টাইপ ইংলিশ গান চলছে একটা । মাঝে মাঝে ঝির ঝির করছে। আপনা আপনি হাতলের সুইচে আঙ্গুল চলে গেলো এবং টিপে দিলো। কাজ করছে না। আবার টিপ দিলো। কাজ করছে না। তার মাথাও আর কাজ করছে না। সব কিছু…কেমন জানি…। ঝট করে পেছনে তাকালো। উঠতি বয়সী তিনজন মেয়ে। অকারণে হাসছে আর একে অপরের উপর ঢলে পড়ছে। একজনের হাতে আইফোন প্লাস। ঘন ঘন গ্রুপ সেলফি তুলছে। হয়তো ভয়েই গলা শুকিয়ে সেগুন কাঠ হয়ে গেলো। উপরের অ্যাটেনশন কল বাটনে চাপ দিতেই পুরো গলাই শুকিয়ে গেলো। এবার অবিশ্যি ভয়ে। তাহলে…তাহলে কি সেই দুঃস্বপ্ন…। ছিমছিমে গড়নের খুবই সুন্দর মেয়েটা আসতেই হড়বড় করে বললো- ‘ওয়ান গ্লাস ওয়াটার, প্লিজ’। মেয়েটা কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে “ওকে” বলে চলে গেলো।
    চার মিনিট না যেতেই পানি নিয়ে এলো। আবির হাত বাড়িয়ে নিলো না। সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। ঠিক তখনই প্রচন্ড ঝাকি দিয়ে থেমে গেলো বিমান। গ্লাসের সবটুকু পানি আবিরের কালো টি-শার্টে না পড়ে মেয়েটার সাদা শার্টে পড়লো। তড়াক করে দাঁড়িয়ে গেলো আবির। – আমি নামবো…আমি নামবো…। প্লিজ প্লেন থামান। – আবির!! কী হয়েছে কী তোর?!! বস!!; শার্টের কোণা ধরে টান দিলো জোভান। – না, আমি নামবো। দু’জন এয়ার হোস্টেস এগিয়ে এলো। – স্যার!!উই আ ফ্লাইং, ল্যান্ড ইজ ইমপসিবল। – আপনার ফ্লাইং আর ইমপসিবলের খ্যাতা পুড়ি!! আমরা মারা পড়তে যাচ্ছি। প্লেন থামান। প্লিজ…, আশপাশের যাত্রীদের মাঝে একটা চাঁপা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লো। – কী যা তা বকছিস!?? বস তো; বিরক্ত স্বরে জোভান। -যা তা না। ঠিক আর দশ মিনিট পর উড়তে যাচ্ছিস তুই; কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো আবির। থ হয়ে গেছে সবাই আর জোভান হয়েছে ক। কী বলছে এসব!!??কীসের ওড়াওড়ি!!?। ছিমছিমে গড়নের খুব সুন্দর মেয়েটাকে বললো- – এইযে, আপনি! একটুপর মাথা ফেটে পড়ে থাকবেন ঐ কোনাটায়। এতক্ষনে পেছন থেকে বদ মেজাজী মোটা মতন এক লোক এসে আবিরের কলার চেপে ধরলো। – এ ছোকরার নিশ্চয়ই বদ কোনো মতলব আছে। নামিয়ে দেয়া হউক একে। পালটা কলার চেপে ধরলো আবির। – কীসের বদ মতলব!!? আপনি জানেন?? আর বিশ মিনিট পর আমরা সবাই আগুনে পুড়ে এইটুকুন হয়ে যাবো। এবার যাত্রীদের মাঝে বড়সড় হৈচৈ বেধে গেলো। কিছু কিশোরের সাপোর্টে কিছু মোটা মতনের সাপোর্টে আর কিছু দ্বিধায়। হাতাহাতির পর্যায় চলে যেতেই এয়ার হোস্টেস হেড ওয়ারলেসে বিমান থামিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলো। আবির আর মোটা মতন লোকটাকে নামিয়ে দেয়া হলো। আরো কিছু যাত্রী ভয়ে নাকি কে জানে নেমে গেলো। এদের মধ্যে রয়েছে জোভান আদনান তৌসিফ আর অকারণে হাসা মেয়েগুলো। রান ওয়েতে নেমেই আবারো কলার চেপে ধরলো মোটা মতন লোকটা। আবির আর ধরলো না। সে তাকিয়ে আছে বিমানের দিকে। – তোর জন্যে আজ যেতে পারলাম না। তোর (টুট… টুট)। আবির কিছু বললো না। চোখের পাতা না ফেলে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ততক্ষনে ককপিটের মাথা উঁচু হয়ে উপরে উঠে অনেকদূর চলে যাচ্ছে এয়ারবাসটি। – টিকেটের টাকা দে, টুট…টুট। নইলে… ‘নইলে’ শেষ করার আগেই হঠাৎ বিকট এক বিষ্ফোরণ। যারা নেমে পড়েছিলো সবাই উপরে তাকালো এবং নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না। তবুও দেখলো। যে বিমান থেকে একটু আগে শুধু আবিরের জন্যে নেমে পড়তে হয়েছে। সেটার আগুন ধরা ব্লাস্টেড অংশগুলো খসে খসে পড়ছে নিচে। আস্তে করে কলার চেপে ধরা হাতটি ঢিল হয়ে গেলো।
    Close