• আজ সোমবার, ২৫শে জুন, ২০১৮ ইং ; ১০ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১০ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
  • কাঁটাতার || মুস্তাক মুহাম্মদ

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    Mustak Muhammad eid 2017

    মুস্তাক মুহাম্মদ ● বাবা আর কত দূর হাটবো। এত দূর হেটে পারা যায়! বাবা , ও বাবা কথা বলছো না ক্যানো। আর কত দূও …..। বাবা, আমাকে একটু কোলে নিবা।  আচ্ছা বাবা , মা আমাদের নিতে আসবে। আমরা মায়ের কাছে যাচ্ছি। ও বাবা, বাবা, তুমি কথা বলছো না ক্যানো। বাবা তুমি না বললে Ñ  নৌকোয় পার হবো। নৌকা কনে বাবা, নদী কনে বাবা। বাবা, মা আমার জন্য পুতুল কিনে রেখিসতো।  কটা পতুল কিনিছে Ñ  তিনটা। আমি কিন্তু পুতুলের বিয়ে দেবো। আমার পুতুল লাল শাড়ি পোরে লাল গাড়িতে করে স্বামী বাড়ি যাবে। বাবা, কত মজা হবে। বাবা, পুতুলের জন্য তুমি কাঠের বাকসো বানায়ে দিবা । দিবাতো বাবা।

    মানদার আলী ফেলানির হাত ধরে সীমান্তের দিকে যাচ্ছে।মেয়ের প্রশ্নে অতিষ্ঠ হয়ে বলল, হাত ঝাকি দিচ্ছি ক্যান । চুপ কর । সব দিবানি। আর একটু চল মা। চুপ কর। কথা বলিসনি। লাঠি নিয়ে পুলিশ আছে বলো সামনে  ধরবে। কথা বলিসনি। আমি সব কিনে দেবো। এর একটু হাট। বরপ কিনে দেবে। লাল বরপ। চুপ করে হাটো। তোর মা নেয়তো রাগ করবে নি। আমার মা ভাল। একটু চুপ করো। আর এসে গেছে। সামনে বাজার পেলে পটেটো কিনে দিবানি। চুপ কর মা , চুপ কর কথা বলিসনি।ছয় বছরী মেয়ে ফেলানি। সামনের কোরবানির ঈদে ওর বয়স হবে সাত বছর যে বছর ও হয় সে বছর ওর বাবা ভারতে ধানকুনি ইস্টেশনে কুলির কাজ করত। এক বছর পরে ফেরে ফেরে। ফেলানি হবার সময় ওর মার প্রসব বেদনা হবার সময় পদ্মার বাঙন হয়। সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শেল্টা হোমের দিকে ছুটাছুটি করতে থাকে।ফেলানির নানী বুড়ি ,পাড়ার আইজানের মার ডাকতে গিয়ে আসতে দেরি করে। ফেলানি হয়ে কাঁদছিল। ওর মার হুশ ছিল না। নানী এসে দেখে একটা মেয়ে হয়েছে। বিপদের সময় পুরুষ হলেই  ভবিষ্যতে মোকাবেলা করতে পারতো। হয়েছে মেয়ে  যাকে নিয়ে আর এক টেনশন। এই বিপদে সময় প্রকৃতিই তাকে বাঁচিয়েছে। প্রকৃতিই এদের মা বাপ। তার হাতেই সব। মারলে প্রকৃতি মারে বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচায়।ফেলানির নানী এসে দেখে একটা মেয়ে পড়ে আছে।মায়ের নাড়ির সাথে লেগে আছে।সেই বিপদের দিনে, মা তো আর মেয়ে ফেলে যেতে পারে না। আরও অসুস্থ্য মেয়ে। একটা না দু’দুটো জীবন।বুড়ি নাতনির নাড়ি কেটে সুতা দে বেঁধে দেয়। মেয়ের জন্য গরম পানি করে। মেয়ের হুশ হলে বলে, এর নাম রাখলাম ফেলানি। এ তো ফেলায়ে  হয়েছে। সেই জন্য। নদী ভাঙনে সেবার ফেলানিদের ভিটে বাড়ি রক্ষা পায়।ফেলানি বড় হতে থাকে।ছোটো ছোটো মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে ; সবাই ওকে ভালবাসে। পাড়ার দোকানদার হারু ওকে দাদী বলে ডাকে । হারুর দাদী নাকি ওর মত দেখতে ছিল। কথাও বলত ওর মতো ভুরো বাকায়ে মিষ্টি করে।দিনে দুবার হারুর দোকানে গেলে , হারু বিনে পয়সায় ওকে মিষ্টি দেয়। ওর বাবা  ভারতের ধানকুনি ইস্টেশনে কাজ করে।মুটের কাজ। ট্রেন থেকে মাল নামায়। এর আগের পদ্মার ভাঙনে  ওর বাবার ভিটে বাড়ি সব ভেসে যাওযার পর ধানকুনি চলে যায়।  ফেলানির মাকে রেখে যায়। বছর চারেক আগে ফেলানির মাকেও নিয়ে যায়। কিন্তু ফেলানিকে রেখে যায় নানীর কাছে। ফেলানির নানীর অসুস্থ্যতার খবর পেয়ে মানদার আলি আসে। গ্রামে ফেরার দিন দশেক পরে ফেলানির নানীর মুত্যু হয় । তাই ফেলানিকে এবার নিয়ে যাচ্ছে মানদার আলি। ধানকুনি ইস্টেশনে রেল কোম্পানির জায়গায় গড়ে তোলা একটা ঘুপচি টোঙে কোনো রকম মাথা গুজে স্বামী স্ত্রী থাকে।এখানে সব বাংলাদেশী বাঙালি। এরা অল্প পয়সায় প্রচুর কাজ দেয় বলে পুলিশও এদের কিছু বলে না। সামান্য জায়গা জুড়ে এরা থাকে কিন্তু কাজ যা করে তা অসামান্য। কত টাকা আর এরা দেশে নিয়ে যেতে পারে। তার চেয়ে এদের জীবনের বেশি অংশ এখানে রেখে যায়।তবু নাড়ির একটা টান থাকে বলে এরা মাঝে মাঝে দেশে যায়। অনেকে বিশ তিরিশ বছরে মাত্র একবার কিংবা দুবার দেশে গেছে। এখন আর যেতে চাই না।  দেশে ভাল লাগে না। অন্ন দিয়ে যে পালে তাকে ছেড়ে যেতে মায়া করে। আর ভালো আছে তো এখানে-  ভাতের অভাব নেই। বাঙালিও আছে। মনে হয়- মিনি বাংলাদেশ।  সবাই সবার আপন। বাংলাদেশ থেকে কেউ এল প্রথম প্রথম কি আদর আপ্যায়ন এরা করে।তারপর কাজে লাগিয়ে দেয়।

    মানদার বলল, ফেলানি চুপ কর মা। আর বেশি দুর না। একটা তারের কাঁটা পার হলেই আমরা চলে যাব।

    ফেলানি ক্লান্ত হয়ে বলল, বাবা আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি ঘুমোব। আমার কষ্ট হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে হয় তুমি জান না।

    একটু চুপকর। আর এসে গেছে। একটু হাটো মা। এই মাঠটা পার হলেই আমরা চলে যাব। আর বেশি দুর না।মাঠ পার হলেই চলে যাব। তোরে লাল চুড়ি কিনে দিবানি। চুপ কর। পুলিশ আছে।

    ফাকু ধুড় পার করে। সে  বলল, মানদার ভাই একটু জোরে পা চালাও। বিএসেপ আবার পাল্টে যাবে। আর একদল আসে পড়লে আমাদের ধরে ফেলবে। ভোরের আগে আমাদের পৌছুতে হবে। টহল পাল্টে যাবে। আমরা এদের টাকা দিছি। এরা থাকতে থাকতে আমাদের পার হতি হবে। আবার বড় বাবু আজকাল বার বার টহল দেখতে আসছে।তার আসার সময় হলে আমরা সংকেত পাব। ডাইরেট গুলির অডার । সেদিন গরু পার করতে গে দুজনের জাগায় গুলি করে মেরেছে। চুক্তি ছিলো। বড় বাবুর সামনে পড়ে গিলো। সংকেত পেয়েও কাজ হয়নি। গরু ছেড়ে প্রায় পার হয়ে গেলো।তবু রক্ষে পায়নি। তারের এই পাশে এসে গুলি লাগে।একটা না, দশটা গুলি লেগেছিল। এই কাজ করেও আর মজা নেই। আগে এক সময় মজা ছিলো। তাও কি করব। দেশের মানুষের তো উপকার হোক। লাভ না হয় না হোক। তারা খেয়ে বেচি থাকলিতো একদিন হলেও বলবে ফাকু পার করে  দিলো। এই যা ….. । পা চালাও বাবু আবার এসে যাবে। ডাইরেট গুলির অডার। কবে যে মরণ বদলাবে কে জানে। আগের বাবু ভাল ছিলো। একবার মাত্র বিডিআরের সাথে গুলাগুলি  হইলো।আর এখন দুই একদিন বাদে বাদে হঠাৎ হঠাৎ  গুলাগুলি হচ্ছে। গরু পার প্রায় বন্ধ।দু একটা ধুড় পার করে কি আর বিড়ির পয়সাও হয়। আবার জীবনের রিকস। কি করব। শুনি কোন এনজিও নাকি মানবাধিকার ওরা এই সব নিয়ে কি করে। আমওে একদিন শার্ট, ইনকরা লোক  জিজ্ঞেস করছিলো- কিভাবে মারা গেল। বলাম তারপরে তো আরও কড়াকড়। বডার এত কড়াকড় হলে চলে। খাতায় কি যেনো লিখলো । কাগজে মেওে দিল । আগে জানলি বলতাম না। মানুষতো বাচবো। প্রতিবেশি ভাই ভাই। বিপদে আপদে আমরা আগুয় না আসলে কারা আসবো।  আমরা যদি গরু না খেতাম । মালউনরা কি করত এত গরু দে। কত সম্পদ ওদের নষ্ট হতো একবারও ভেবেছে মালাউনরা।আমরা আছি বলে ওরা বেচে গেল। না হলে এতো গরু কি করত। তেজহীন বুটের ডাল, বড় বড় পেজ কি করত। আমাদের কাছে বেশি দামে বেচতে পারে। তাতে দু পয়সার মুখ দেখে। যত সব বাতিল মাল দে ভাল ভাল টাকা নেয়। কড়কড়ে টাকা দে গরু কিনে আনি। আমরা ফিরি আনি না। আবার গুলি মারবো। তোদের (বিএস এফ) দেশের মানুষরা আমাদের কাছ থেকে নেরযো দাম নেয়।আমরা ফিরি আনি না। টাকা দে কিনে আনি। আর যারা বেচে  তারা একটাও মরে না। আমরা কিনে আনি আমরা মরি। আমরা ব্যবসা করি। আর তোরা হারামি করিস আমাদের সাথে। আমাদের বিডিআর পারে না ? পারে। না হলে ওরা পারে ? আমরা পারি না। আমাদের বুকের পাটা আছে। কিন্তু একটু মায়া বেশি। এত মায়া হলি চলে। দাত ভাঙা জবাব দিতি হবে। সোয়ানা সোয়ানা লড়াই হবে। পাকিস্তানের সাথে কোনো রকুম কুলুবুলু চলে না। বোঝ – শক্তের পাল্লায় পড়িছিস। এ আর বাংলাদেশ পাসনি।আমাদের দেখি ওরা শিখতে পারে । তার করে না। স্বাধীনতার রাইটের সময় সব পেতল কাসা ভালভাল যনতর পাতি নে নেছে ওরা। এখনো কি কম নেয়। তাও ওদের পেট ভওে না। রসুন ঝালের অভাব হলে ওরাও আসে । আমরা ওদের সাহায্য করি। দুই একটা গুলি করে কই আমরা মারি নাতো ওদের। আমরাও পারি। প্রতিবেশিÑ  অভাব হয়েছে। নে  খেয়ি বাচুক। আমরা এই ভাবি। আর ওরা আমাদের গুলি খাবার । হারামির বাচ্চারা! ভাল ভাল জিনিস গুলো যখন ওরা নে গেলো তখন কিছু মনে হয় নি।এখনো নিয়ে যায়।কচ্ছপগুলো যায়। ওদের জ্বালাই ইলিশ মাছ খাবার মত নেই। সব ওরা নিয়ে যায়! আমরা আনতে গেলি দোষ। আরে তোরাতো গরু খাসনা।  মালাউন, তোদেও আমরা গরু নে উপকার করি। টাকা পাস। তোদের মুসলমানদেরও তোরা খেতি দিসনা। চুরি চামারি করে একটু খেলি তোরা জানতে পাললি গ্রাম ছাড়া করিস। ভাল জিনিস নে আমাদের কি দিস ? ফেনসিডিল,হিরোইন গেজা ,যত রকম নেশা আছে তাই। কই তোদের লোকতো একটাও মরে না। ফেন্সি পার করার সময়তো কেউ মরে না। গুলি করিস না। যুদ্ধেও সময়  হাত বাড়ায়ে দে বন্ধুত্বও নামে লুটেপুটে নিয়ে গেছে। তোদেরতো উপায় ছিলো না। পাকিস্তান তোদেও শততুর ছেলো। ওদের সাথে তোদের সাতচল্লিশতে  যুদ্ধ লেগেই আচে। তাসকন্দ চুক্তি সাময়িক কিছু করতে পারলেও যুদ্ধ কি বন্ধ করতি পেরিচে ? পারেনি। আর পারবেও না। তোরা দেখলি বাংলাদেশ আমাদের সাহায্য করতি পারবে। ওদের দেশ দিয়ে ভবিষ্যতে টেনজিট পাব। ওদের স্বাধীন করতি পাললি আমাদের লাভ। তোরা যে সম্পদ নিচিস তা  আমাদের থাকলি আমাদের কি আজ কারোর কাছে হাত পাততে হত। আমরা ভিখারী না। আমাদের সব ছিলো।আমরা কি তোদের দেশে ভিখ্খা করি।  ব্যবসা করি। যা আল্লা আমাদের জন্নি হালাল করেছে।রীতি মত কাজ করি। তোদের উন্নত করি। তোদের মত ছোট লোক না। উপকারের বদলে ফেনসিডিল দে আমাদের  আগামি শেস করছিস! ক্যান এত শয়তানি ক্যান। একটু ভাল ব্যবহার করতে পারিস না। আমরা কি তোদের পর । আমরা তো সব একদেশের এক সংসারের মানুষ ছিলাম।সংসার বড় হলে আলাদা হয় না। তাই বলে কি রক্তের সম্পর্ক নাড়ির টান মুছে ফেলা যায়। আমরা ওদে আপন ভাবি। বিশ্বাষ করি । ওরা আমাদের পর ভাবে।ওরা আমাদের বিশ্বাসের সুযোগ নে বাশ দেয়। ওই বিটিসদের চালে পড়ে ওরা এরাম করে । বিটিসরা কম বিটিস না। চলে গেছে কিন্তু গুড় লাগায়ে থুয়ে গেছে।যাতে আমরা সারা জীবন মারামারি করে মরি। সুখে না থাকি। ওরা বোঝে না। আমাদের গুলি মারে। আপন সার্থক পাগলেও বোঝে ।ওরা বোঝে না। ওরা আমাদের গুলি মারে। লাথি মারে, মার। আর কত কার মারবি। আমরা একদিন দেখে নেব। যার কেউ নেই তার আল্লা আছে। আমরা মাথা তুলে দাড়াবোই।দেখিস বাংলাদেশ বিশ্বের নামকরা দেশ হবে একদিন। কি মান্দার ভাই মেয়ে ঘুমোয় পড়লো নাকি। ওকে কাধে  তুলে নেও। তোমরা একটু  বাগানে দাড়াও । আমি দেখে আসি কি অবস্থা।  বাশি বাজালে মনে করবে বিপদ সংকেত। বাবু এসে গেচে। আজ একটু দেরি হয়ে গেছে। সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে আসি। খবরদার দুজন করে ছাড়া যেনো যাবে না। আমি থাকবতো সাতে।তবে একটু আবডালে। তোমরা ঐ যে গাছ দেখা যাচ্ছে না। উকিনি আমার লোক আছে ওরা তোমাদের নিয়ে যাবে। শুধু তোমরা তারকাটা পার হয়ি ওই বাড়ির ওপাশে গেলে আর তোমাদের কেউ ধরতে পারবেনা। তাড়া করলে দোরুতি হবে।  একটু বাড়ি পনতো পোছুতে পারলে হলো। আমাদের গাড়ি তোমাদের নে যেতি পারবে। এখন এইটুকু তোমাদের যেতে হবে। ঘাটে টাকা দেবা আছে। যদি বড় বাবু না আসে তালি কোনো ভয় নেই। আরামে যেতে পারবে। কিন্তু বড় বাবু এলে একটু সমস্যা । তাও কোনো  ব্যাপার না। তোমরা যাও। খালিতো কিছু বলবে না। ধরতে পারলে একটু মারবে। তারপর ছেড়ে দেবে। কোনো ভয় নেই। তালি যেভাবে বললাম ওই ভাবে দুজন করে  যাবে। ঠিক আছে।শোনো কাঁটাতারের দিকে যেনো যেও না। ওতো বোলো কারেন্ট দেবা আছে। ধরলে বোলো আর জীবনে ছাড়বে না। সাবধান!

    বাশির সংকেত পেয়ে দুদল আগে গেছে। মানদার মেয়িকে  কোলে করে আস্তে আস্তে দোরুয় যাচ্ছে। এমন সময় একজন বলল, মিশিজি বড় বাবু আইগা। গুলি ছোড়ো।  একটা গুলি মানদারে পায়ে লাগে। মানদার মেয়ি কোলে করে  তাও দৌরুতে থাকে। পিছন পিছন চারজন সেপাই।ধরেই তারা লাথি মারতে থাকে। বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় বাড়ি মারে। মানদারের মাথা ফেটে যায়। মানদার মেয়িকে আকড়ে ধরে কাদতে কাদতে অনুনয় কর-  বাবু গো মারবেন না। আমরা ব্লাক করি না। ধানকুনি ইসটিশনে কাজ করে খাই। মেলাদিন আছি। আমরা এদেশকে আমাদেও দেশের মত মনে করি। বাবু আমাদের ছেড়ে দেও। কথা শুনে আরও মারতে থাকে। ফেলানিরে টেনে নিতে চায় একজন। মানদার মেয়িকে রক্ষা করতে না পেরে একজনের পায়ে পড়ে বলল –  বাবু গো ছেড়ে দেও। হামার লেকড়ি কো ছোড় দো,বাবু। ।  মোজে মারদো বাবু। হাম লেকড়ি কো ছোড় দো। আমরা চোর না। ব্লোক করি না। আমাদের ছোড় দো বাবু। জমের হাত কাঁপলেও এই সব নিরহ মানুষেরা আইনের হাতে মার খাবেই। কারণ আইনের প্রয়োগ নিরহ মানুষদের উপর দিয়ে কাজ করে সহজে। আর বড় বাবুরা সামনে থাকলে তো আর কথায় নে! আইনের কাজ করতেই হবে। আইনের রক্ষক । এদের না মারতে পারলে আইন রক্ষে করা যাবে না। রাঘব বোয়ালরা তো মুখোশ পরে থাকে। প্রতিদিন ওদের পাবা যাবে না। সস্তায় যাদের পাবা যায় চলুক না এক্রপেরিমেন্ট এদের উপর! বসে বসে তো হাত পায়ে জং ধরে গেছে। আর এ সব কথা শুনতে শুনতে কান আর শুনতে পায় না। হররোজ একই ডায়লগ।

    সবাব মিলে লাথি মারে।একজন বলল, আচ্ছা লেড়কি। আদার ছোড়দো । বুড়াকো মার দো।আচ্ছা লেড়কি।এক কিস করেগা।ফেলানি ছটফট করতে থাকে । বাবা বাবা বলে কাঁদতে থাকে।

    এক সেপাই বলল, কিয়্যা লেড়কি।ছোড় গুলি। মুজে হাতকা কামড় দেগা। বলে গুলি করে। ফেলানি দৌড়াতে দৌড়াতে বাবা বলতে বলতে মাটিতে পড়ে যায়।

    সেই সিপাই রাগের মাথায় ফেলানিকে ধরে কাঁটাতারের উপরে ছুড়ে  দিয়ে রাগে গজ গজ করতে বলল, ছোটা লেড়কি। যা বাংলাদেশে মরগা। চোর মরগা। ফেলানি কাটাতারে ঝুলতে থাকে।বাদুর যেমন বিদ্যুতের লাইনে ঝোলে তেমন। ফেলানির হাত দুটো বাংলাদেশের দিকে। রক্ত গড়িয়ে পড়ছে কাটাতার বেয়ে। মুখটা মাটির দিকে। পাখিরা কি স্বাধীন ওদের কোনো কাঁটাতার নেই। ওরা উড়তে পারে। এক দেশ থেকে আর এক দেশে যেতে পারে। মানুষ স্বাধীন না। মানুষ পারে না। ফেলানিরা পারে না। জীবকিার জন্যও পাওে না। শীতে অতিথি পাখিরা সাইব্রেরীয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাঁচতে আমাদেও দেশে আশ্রয় নেয়। ফেলানিরা আ¤্রয় পায় না। ফেলানি ঝুলছে না ঝুলছে বাংলাদেশ? রক্ত ঝড়ছে ফেলানির না বাংলাদেশের। ছয় বছরের ফেলানিরা চোর, না বাংলাদেশ চোর। আর যারা  ফেলানিদের মারে তারা মাঝে মাঝে পতাকা বৈঠাক করে ভাল ভাল খাবার খেয়ে হ্যান্ডশেক করে। আর নিজেদের স্ত্রী মেয়েদের কুশল জিজ্ঞাসা করে । পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সাহায্যর আশ্বাস দিয়ে যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর করে। গাদা গাদা কাগজ কিন্তু কাদের জন্য এ সব !  কিছুদিন পর পর ফেলানিরা কাঁটাতারে ঝুলতে থাকে। কাক-শকুনও সেখানে যায় না। এ যে কাঁটা তারে ঝোলা লাশ! যমে ছুলে লাশ ছোঁয়া যায় কিন্তু কাঁটা তারে ….. ! এভাবে ফেলানিরা ঝুলবে আর কত কাল ? আমরা আর কত কাল কাঁটাতারে ঝুলবো ?

     

    Close