• আজ রবিবার, ২৭শে মে, ২০১৮ ইং ; ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ; ১১ই রমজান, ১৪৩৯ হিজরী
  • তখন ক্লাস এইটে || মাহাবুবুর রহমান

    ফাস্ট বিডিনিউজ ২৪ ●

    Mahbubur Rahman eid 2017

    বহুবছর আগের কথা, তখন ক্লাস এইটে পড়তাম। আমি ছিলাম ক্লাসের ফার্স্ট বয়, সেই সাথে মনিটরও ছিলাম। ক্লাসের সকলের সাথেই ছিল আমার দারুন ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক। মাধ্যমিক লেভেল পার করেছি গ্রামের একটা স্কুল থেকে। তখন ক্লাসে ছিলাম প্রায় ৭০ জনের মত ছাত্রছাত্রী। ক্লাসরুমে বসার বেঞ্চ ততটা উন্নত ছিল না, এজন্য অনেক সময় এক বেঞ্চে ৩ জনের জায়গায় ৫ জন বসে ক্লাস করেছি। আবার কিছুকিছু বেঞ্চের পায়া ছিল নড়বড়ে টাইপের। মনিটর হিসাবে আমি বেঞ্চের এই সমস্যাগুলো স্কুল প্রধানের নিকট পেশ করলাম। কিন্তু তাড়াতাড়ি কোন সমাধান পাচ্ছি না, এদিকে প্রতিনিয়ত বসার কষ্ট নিয়েও ক্লাস করতে ভাল লাগছেনা। আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন মকিউর রহমান স্যার। কেউ যদি একদিন ক্লাসে না আসতো, তবে পরদিন তাকে ৫ টাকা ফাইন দিতে হতো। এভাবে অনেকের ফাইনের টাকা একত্র করে স্যার ক্লাসরুমের জন্য একটা টেবিল কিনেছিলেন। কাজেই এই ফাইন দেবার ভয়ে প্রায় সবাই ক্লাসে উপস্থিত হতো। আর বেঞ্চের সমস্যার কারনে অনেকেই ২টা ক্লাস করে পেছন দিয়ে পালিয়ে যেত।

    আমার একটা অভ্যাস ছিল, বরাবরই আমি প্রথম বেঞ্চে স্যারের সামনে বসতাম। একদিন আমি আমার বেঞ্চের বাকি ৪ জনের সাথে একটা বিষয়ে আলোচনা করলাম। বললাম আমাদের বসার এই নড়বড়ে বেঞ্চটা পরিকল্পিতভাবে যেকোন স্যারের সামনে ভাঙতে হবে, নয়তো অতি সহজে আমরা নতুন বেঞ্চ পাবো না। আমার এই মতের সাথে ওরাও একমত হলো। বলে রাখা ভাল, আমাদের প্রতিষ্ঠানের বেঞ্চগুলো ছিল কাঠের অ্যাটাস্ট বেঞ্চ। দুইপাশে কাঠ দিয়ে জোড়া লাগানো বসার (ছোট) এবং বই রাখার (বড়) বেঞ্চ মিলে একত্রে একটা বেঞ্চ। পরদিন আমরা মনেমনে ঐ প্লান একে এলাম। আপাতত আমরা আমাদের এই প্লান সম্পর্কে ক্লাসের অন্য কাউকে কিছু বলছিনা। আমাদের ৩য় পিরিয়ডের ক্লাস নিতেন মুক্তি ম্যাডাম। আমরা প্লান করলাম ঐ ক্লাসেই বেঞ্চ ভাঙবো। ৫ জন বসে আছি সামনের নড়বড়ে বেঞ্চে। আমি একটু চালাকি করে বেঞ্চের বাম সাইডের কর্নারে বসলাম, যেন অভিনয়টা আমার একটু কম করা লাগে।

    তারপর ম্যাডাম ক্লাসে ঢুকলো, আমরা সবাই দাড়িয়ে তাকে সালাম দিলাম। এরপর বসার ভানকরে ৫ জন মিলে বেঞ্চের বাম পাশ থেকে ডান পাশের দিকে এত জোরে ঠেলা দিলাম, ৫ সেকেন্ডে বেঞ্চ ভেঙে চুরমার। আমরা নিজেরাও ভাবিনি যে এত দ্রুত বেঞ্চটা ভেঙে যাবে। এদিকে ডান পাশের ৩ জন ভানকরে নিচে ফ্লোরে বসে এবং শুয়ে পড়েছে। কেউ পায়ে হাত দিয়ে বলছে ব্যাথা পেয়েছি, আবার কেউ কোমরে হাত দিয়ে বলছে ব্যাথা পেয়েছি। অপরদিকে আমি বেঞ্চের একটা ভাঙা পায়া হাতে নিয়ে ম্যাডামের সামনে দাড়িয়ে আছি। মুক্তি ম্যাডাম অবাক হয়ে সবাইকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা কি বেশি ব্যাথা পেয়েছো? আমরাও সেই সাথে বললাম, জ্বি ম্যাডাম। তারপর ম্যাডাম এই বিষয়টা নিয়ে অফিসে সিরিয়াসলি আলোচনা করলো। ২ দিন পর আমাদের ক্লাসে ১০ টা নতুন বেঞ্চ হাজির হয়ে গেল। ম্যাডামের ক্লাস শেষ হবার পর শুধুমাত্র ক্লাসের বন্ধুরা ছাড়া আজ পর্যন্ত ঐ প্রতিষ্ঠানের কেউই জানেনা যে, এটা ছিল আমাদের একটা পরিকল্পিত ঘটনা।

    Close