কালীগঞ্জে সন্তান হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পিতার সাংবাদিক সম্মেলন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসা ছাত্র আল আমিন হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সাওতুল হেরা তাহ্ফিযুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসায় নিহতের পিতা আব্দুর রাজ্জাক এ সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে নিহতের পিতা বলেন, তার ছেলে আল আমিন (১৩) নতুন বাজার সাওতুল হেরা তাহ্ফিযুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসায় হাফেজী পড়াশুনা করতো। গত ৩০ নভেম্বর বাসার সামনে আড়পাড়া আলহাজ্ব আমজাদ আলী মাদ্রাসায় মাহফিল শুনার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে মাইকে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করাসহ পরদিন কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
তিনি আরো জানান, নিখোঁজের ৫ দিন পর আড়পাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ মিল্টন তাকে খবর দেন যে তার বাড়ির পাশে শিশু আল-আমিনের মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশ যেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। পরে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে তিনি কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। যার মামলা নং-০৩। তারিখ-০৫/১২/২০১৯ ইং।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সন্দেহে প্রকাশ করে বলেন, আড়পাড়া গ্রামের মুশফিকুর রহমান ডাবলুর ছেলে সাব্বির ও আব্দুস সামাদ মিল্টনের ছেলে হৃদয় হত্যাকাÐের সাথে জড়িত। তারা ইতিপূর্বে এলাকায় নানাপ্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে বেড়াতো।
তিনি আরো বলেন, তার এক ভাইজি কে মুশফিকুর রহমান ডাবলুর ছেলে সাব্বির বিরক্ত করতো। যার কারনে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় সাব্বির তাদের উপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং উম্মাদের মত দলবল নিয়ে এলাকায় বিচরণ করে বেড়াতো। তারাই এ হত্যাকাÐের সাথে জড়িত বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনার দ্রæত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রাজ্জাক ছাড়াও তার পিতা আনোয়ার হোসেন, বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম, মেজে ভাই ফারুক হোসেন ও চাচাতো ভাই হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতলেবুর রহমান জানান, মাদ্রাসা ছাত্র আল-আমিন হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে সাব্বির ও হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে উক্ত মামলায় জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সাথে সাব্বির ও হৃদয় জড়িত বলেও তারা তথ্য পেয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি যশোর পিবিআই তদন্ত করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।